টিটাগড়: এবার উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের টিটাগড় পুরসভাতেও (Titagarh Municipality) তৃণমূলে ভাঙন। ভাইস চেয়ারম্যান-সহ ছয় তৃণমূল কাউন্সিলরের ইস্তফা। ‘ভোটের ফল বেরোনোর পর থেকেই দেখা নেই নেতৃত্বের’, নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভেই ছয় তৃণমূল কাউন্সিলরের পদত্যাগ। এই নিয়ে মুখ খুললেন অর্জুন সিংও (Arjun Singh)।
টিটাগড় পুরসভার পুরপ্রধান প্রশান্ত চৌধুরী জানান, ‘বর্তমান যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, তাতে এক তো মানুষ রায় আমাদের বিপক্ষে দিয়েছে, আর দুই পুরসভা বর্তমানে একদম অচলাবস্থায় রয়েছে। পুরসভায় কোনও কাজ করা যাচ্ছে না, কারণ আমাদের সই করা বন্ধ আছে, চেয়ারম্যান কোনও কাগজে সই করতে পারবে না। তাই মানুষকে আমরা পরিষেবা ঠিকমতো দিতে পারছি না। অসহায় অবস্থায় রয়েছি আমরা। আমারা যে যে দল করি, যে দলের জন্য এত কষ্ট, লাঞ্চনা, এবারের নির্বাচনেও এত কিছু সহ্য করতে হল, তাঁরা কেউ, কোনও নেতৃত্ব আমাদের খবর নেয়নি।’
অনেকটা একই সুর শোনা গেল ভাইস চেয়ারম্যান মহম্মদ জলিলের গলাতেও। তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি খুব খারাপ। এই নির্বাচনের ফলাফল আমাদের বিরুদ্ধে গিয়িছে। অর্থাৎ জনগণ আর আমাদের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না। সেই ভরসা আমরা হারিয়ে ফেলেছি। যে পরিষেবা আমরা দিচ্ছিলাম, তা ওরা পছন্দ করেননি, তাই আমাদের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। যখন আমাদের পরিষেবা পছন্দ নয়, তখন আমাদের থাকার মানে হয় না।’ ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সরস্বতী পাল জানান, ‘আগে যেভাব কাজ করতাম, মানুষকে পরিষেবা দিতাম, সেটা আর করা যাচ্ছে না। তাই পদত্যাগ করলাম।’
আরও পড়ুন:- মেয়রের ওয়ার্ডেই ঝড়ে দেওয়াল চাপা পড়ে মৃত্যু, তাও দেখা মিলল না ফিরহাদের, ছুটলেন অগ্নিমিত্রা
এই নিয়ে মুখ খুলেছেন বিজেপি নেতা তথা নোয়াপাড়ার বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং। তাঁর স্পষ্ট দাবি কাউন্সিলররা তদন্তের ভয়েই সব একের পর এক ইস্তফা দিচ্ছেন। ‘আসলে কোনও ওরা কাজ করতে পারছে না, মানুষের সামনে আসতে পারছে না। কোনও কাজ না করার কারণ অন্য কিছু নয়, এত প্রতারণা করেছে, মানুষের উপর এত অত্যাচার করেছে, যে মানুষ এখন রেগে গিয়ে এদের প্রশ্ন করছে। এদের সবার নামে তদন্ত হবে। নামেই এরা কাউন্সিলর, আসলে তো কন্ট্রাক্টর। তাই ভয় পাচ্ছে এদের নামে যদি তদন্ত হয়’, দাবি অর্জুনের।
