Voice of Eastern India

অনুব্রত মণ্ডলকে কলার ধরে শাসানি, হাতজোড় করে ক্ষমা চাইলেন ‘কেষ্ট’; চ্যালাকাঠ নিয়ে তাণ্ডব


ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, সিউড়ি : একসময়ের দৌর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা। অনুব্রত মণ্ডলকে বীরভূমের ‘বাঘ’ বলেও একসময় সম্মোধন করেছেন ফিরহাদ হাকিম। তা নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। জেলার রাজনীতিতে তাঁর কম দাপট ছিল না। তৎকালীন বিরোধীরা তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে নানা অভিযোগ তুলেছেন। শাসানি, চমকানি-ধমকানোর অভিযোগে বারবার বিদ্ধ হয়েছেন এই নেতা। রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদলের পর এবার সেই অনুব্রত মণ্ডলের সামনেই অবাধে তাণ্ডব চলল। কেষ্টর সামনেই ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে দিতে ভাঙচুর চালানো হল। সিউড়িতে পার্টি অফিসে তাণ্ডব চালায় তিন যুবক। একপ্রান্তে টেবিলে বসে অনুব্রত, তাঁর সামনেই চ্যালাকাঠ দিয়ে সমানে টেবিল ভাঙচুর করতে থাকে হামলাকারীরা। একসময় অনুব্রতকে কলার ধরে শাসানি দিতেও দেখা যায় একজনকে। এই পরিস্থিতিতে হাতজোড় করে ক্ষমা চেয়ে নেন তিনি ।

বিস্তারিত ঘটনা…

রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথমবার অনুব্রত মণ্ডল এদিন সিউড়ি গিয়েছিলেন। পৌনে ৫টা নাগাদ সিউড়িতে পৌঁছান তিনি। এই খবর পাওয়ার পর ১৫-২০ মিনিট পর তিনজন যুবক মুখে কাপড় বেঁধে পার্টি অফিসে ঢুকে পড়ে। প্রথমে নীচের তলায় ঢুকে অনুব্রতর খোঁজ করে। সেই সময় পার্টি অফিসে যারা ছিলেন, তাঁরা চমকে যান। কারণ, তিনজনের হাতেই ছিল লাঠি। অনুব্রত মণ্ডল উপরে আছে বলে তাদের জানানো হয়। উপরে ওঠার সময়ই তারা ভাঙচুর চালাতে চালাতে ওঠেন। উপরে উঠে তারা দেখে, অনুব্রত মণ্ডল সামনে ঘরে বসে আছেন। সেখানে ঢুকেই প্রথমে সামনে রাখা চেয়ারে ভাঙচুর চালায় তারা। কিছু দূরেই টেবিলে বসে থাকা কেষ্ট হতবাক হয়ে যান। এরপর অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে ওই যুবকরা। অনুব্রতর সামনে থাকা টেবিলেও তারা ভাঙচুর চালায়। একের পর এক বাড়ি মারা হয় বড় চ্যালাকাঠ দিয়ে। দুই যুব ক্রমাগত লাঠি চালিয়ে যাচ্ছিল টেবিল-চেয়ারে। সেই সময় অনুব্রত মণ্ডল চেয়ারেই বসে ছিলেন। তিনি হামলার মুখেও ওঠেননি। অনুব্রতর আশপাশে তখন পার্টি অফিসে আরও অনেক ছিলেন। তাঁদের সামনে ঘটে পুরো ঘটনা। এই সময় অনুব্রতকে কলার ধরেও শাসাতে দেখা এক যুবককে। দুই যুবক যখন সমানে হামলা চালাচ্ছিল, তখন অপর একজন ঘটনার ভিডিও করে যাচ্ছিল।

ঘটনার কথা পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পুলিশ এসে তিনজনকে আটক করে গাড়িতে তোলে। সেইসময় তারা ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে দিতে গাড়িতে উঠে যায়। এদের পরিচয় এখনও পরিষ্কার নয়। তবে, এরা স্থানীয় বলে জানা যাচ্ছে।





Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.