ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, সিউড়ি : সিউড়িতেই অনুব্রত মণ্ডলের সামনেই পার্টি অফিসে চলল তাণ্ডব। হামলা চালাল তিন যুবক। টেবিলে বসে তা দেখলেন একসময়ের বীরভূমের দৌর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা। তবে হামলার জেরে অনুব্রতর চোখের নীচে কাচের টুকরো লেগেছে। সেখানে ক্ষত তৈরি হয়েছে। পরে পুলিশি এসকর্টে তিনি বোলপুর ফিরছেন বলে জানা গেছে। এদিকে এই হামলার খবর পাওয়ার পর অনুব্রতকে ফোন করেছিলেন বলে জানান বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
ঘটনার বিস্তারিত…
এদিন অনুব্রত মণ্ডল পার্টি অফিসে গেলে আচমকা তিন যুবক এসে আক্রমণ চালায়। পুরোটাই অতর্কিতে ঘটেছে। সেই সময় পার্টি অফিসে ১৫-২০ জন কর্মী ছিলেন। তাঁরা প্রথমে বুঝতেই পারেননি প্রকৃত কী হচ্ছে। তারপর যখন উপরে ভাঙচুর চলতে থাকে তখন তাঁদের মধ্যে থেকে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। এই পার্টি অফিসটি সিউড়ির একেবারে মূল কেন্দ্রে রয়েছে বলা যেতে পারে। কারণ, এখান থেকে ডিএম অফিস ১০০ মিটারের মধ্যে, এসপি অফিস দেড়শো মিটারের মধ্যে, থানা ২০০ মিটারের মধ্যে। এই জায়গায় পার্টি অফিস এবং রীতিমতো নিরাপত্তাবেষ্টিত এই এলাকা। সেখানে এই ঘটনা ঘটে এবং সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে থেকেই খবর দেওয়া হয় সিউড়ি থানায়। পুলিশ আসে। ২০ থেকে ২৫ মিনিট পর পুলিশ আসে বলে কর্মীদের অভিযোগ। তাঁদের বক্তব্য, তখন পুরোটাই ভাঙচুর হয়ে গেছে। যখন ওই তিন যুবক বেরনোর চেষ্টা করছিল, সেই সময় পুলিশ এসে তাদের আটক করে। গাড়িতে তোলার সময় তাদের মধ্যে একজনকে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে থাকেন। এতটাই অতর্কিতে এই আক্রমণ হয়েছে যে যারা অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে ছিলেন তাঁরা কী করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না। হামলার মুখেও শান্তভাবে বসেছিলেন অনুব্রত। হামলার জেরে অনুব্রত মণ্ডলের চোখের নীচে কাচের টুকরো লেগেছে। সেখানে ক্ষত তৈরি হয়েছে। এই সময় একজন হুমকি দেন, ‘ক্ষমা না চাইলে আপনাকে এখানেই মেরে ফেলা হবে।’ তখন উঠে দাঁড়িয়ে হাতজোড় করে ক্ষমা চান অনুব্রত। তারপর তিনি যখন আবার বসেন তখন তাঁকে কলার ধরে বাইরে টেনে আনার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি চেয়ারেই বসেছিলেন। পরে যখন হামলাকারীরা পালাতে যায় তখন সিউড়ি থানার পুলিশ এসে তাদের আটক করে।
এরপর পুলিশ এসে অনুব্রত মণ্ডলকে ঘিরে ফেলে। সিউড়ি থেকে পুলিশি এসকর্টে বোলপুর ফিরছেন অনুব্রত। এ প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যে ধরনের হামলা হল তাতে মনে হচ্ছে আইনের শাসনের বদলে বিজেপির শাসনের আইন কায়েম করতে চাইছে। তাহলে, আইনের শাসন ব্যাপারটা কথার কথায় থেকে যাচ্ছে। এতবড় জনাদেশ, জনাদেশ বিজেপি পেয়েছে, মানুষ ভোট দিয়েছে…জনাদেশ তো এজন্য নয় যে বিরোধীদের উপর আক্রমণ হবে। বিরোধীদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা হবে। আমার সঙ্গে কেষ্টদার ফোনে কথা হয়েছে। আমরা যেটা বলছি, অবিলম্বে প্রশাসনকে দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রশাসন যদি তা না করে তাহলে বুঝতে হবে যে আইনের শাসন কায়েম করাটা কথার কথা। আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে, বিজেপির শাসনের আইন কায়েম করা।”
Rosevalley News | রোজভ্যালির আমানতকারীদের টাকা ফেরতে চূড়ান্ত সময় বেঁধে দিল হাইকোর্ট
