Voice of Eastern India

TMC News: I.N.D.I.A শিবিরে যোগ দিতে চায় ঋতব্রত-তৃণমূল, শর্ত একটাই, মমতাকে রাখা যাবে না


কলকাতা: SIR-বিতর্কের মধ্যেই দিল্লিতে বৈঠক করেছে বিজেপি বিরোধী I.N.D.I.A শিবির। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এবার I.N.D.I.A শিবিরে যোগ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস। তবে I.N.D.I.A শিবিরে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের শর্ত একটাই, মমতাকে জোট থেকে বের করে দিতে হবে। মমতা আসলে বিজেপি-কে সুবিধা করে দেবেন বলে দাবি তাদের। (Akhruzzaman on I.N.D.I.A Bloc)

বুধবার দিল্লিতে বিজেপি বিরোধী I.N.D.I.A শিবিরের ঐক্যবদ্ধ ছবি ধরা পড়ে। মল্লিকার্জুন খড়গে, রাহুল গাঁধীর পাশে বসে বিবৃতি দেন মমতা। আর তার একদিন পরই এবিপি আনন্দে I.N.D.I.A শিবিরে যোগ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করলেন ঋতব্রত-তৃণমূলের বিধায়ক আখরুজ্জামান। তাঁর কথায়, “আমরা বিজেপি-র বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াই করতে চাই। অল ইন্ডিয়া লেভেলে যে জোট হয়েছে, তাতে ঘোঁট পাকানোর নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। উনি বিজেপি-র বিরুদ্ধে লড়াই করতে চান না। দেখবেন, বিজেপি-র বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রয়োজন হবে, উনি I.N.D.I.A জোট ভেঙে দিতেও পারেন। NDA-কে সমর্থনের অতীত রেকর্ড আছে ওঁর।” (TMC News)

আরও পড়ুন: SIR বিতর্কে এবার নাম জুড়ল টাটাদের TCS সংস্থার, ফর্ম-৬ বদলানোর নির্দেশ কে দিয়েছিল? প্রশ্ন তুললেন রাহুল গাঁধী

রাজনীতিতে একঘরে হয়ে গিয়েই মমতা আগ বাড়িয়ে I.N.D.I.A জোট নিয়ে বিবৃতি দিচ্ছেন বলেও দাবি করেন আখরুজ্জামান। তাঁর কথায়, “এবার যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একঘরে, আবার আগ বাড়িয়ে I.N.D.I.A জোটে যাচ্ছেন। ওঁকে কেউ ডাকছে, কী ডাকছে না, উনি নিজে প্রেস মিট করে বলছেন, ‘আমাকে উনি চিঠি দিয়েছেন, চিঠি দিয়েছেন’। নিজে ঢাকঢোল পেটাচ্ছেন উনি। আমরা I.N.D.I.A জোটের নেতৃত্বকে বলব, সত্যিকারে বিজেপি-র বিরুদ্ধে লড়াই যদি করতে হয়, মমতাকে বাদ দিলে আমরা I.N.D.I.A জোটে শামিল হব।”

আরও পড়ুন: বিমান হাইজ্যাক রুখতে গিয়ে ক্ষতবিক্ষত, রক্তাক্ত অবস্থায় বলছিলেন, ‘দুই সন্তান আছে আমার’, এখন কেমন আছেন ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছার?

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পরই খান খান হয়ে গিয়েছে তৃণমূল। সাংসদদের ২০ জন রাতারাতি NCPI-তে যোগ দিয়েছেন। আবার ঋতব্রতপন্থী বিধায়করা নিজেদের ‘আসল’ তৃণমূল বলে দাবি করেছে। নাম-প্রতীক নিয়ে বিতর্কের মধ্য়ে নতুন নামও পেয়েছে তারা। মমতা-তৃণমূল যদিও তাদের বিজেপি-র ‘বি-টিম’ বলে আক্রমণ করছে। কিন্তু এদিন মমতাকেই বিজেপি-র ‘বি-টিম’ বলে আক্রমণ শানালেন আখরুজ্জামান। তাঁর বক্তব্য, “বিজেপি-র বি-টিম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। সংসদে যখন কোনও বিল এসেছে, সঙ্কট দেখা দিয়েছে, ওয়াকআউট করে বা অনুপস্থিত থেকে সেই বিল পাস করিয়েছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে জোট ভেঙে চুরমার করে দেন। রাহুলকে কী ভাবে আক্রমণ করেছেন…তাঁকে প্রচারে আসতে দেননি পশ্চিমবঙ্গে। যখনই বিজেপি-র বিরুদ্ধে লড়াই তীব্র হয়েছে, মমতা বরাবর বেরিয়ে এসেছেন জোট থেকে। তাঁর দ্বিচারিতা ধরে ফেলেছেন দেশের মানুষ। আমরা জানি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি-র বি-টিম। উনি I.N.D.I.A জোটে থাকলে আমরা নেই। নেতৃত্বকে বলব, বিজেপি-র বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে মমতাকে বাদ দিন। আমরা শামিল হয়ে বিজেপি-র বিরুদ্ধে সঠিক লড়াই করব।”

এদিন সরাসরি মল্লিকার্জুন খড়গে, সনিয়া গাঁধীকে বার্তা দেন আখরুজ্জামান। তাঁর বক্তব্য, “মল্লিকার্জুন খড়গে, সনিয়া গাঁধীকে বলব, মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের গ্রহণযোগ্যতা আর নেই। জিরো হয়ে গিয়েছে। মানুষ বুঝে গিয়েছেন উনি বিজেপি-র বি-টিম। আমরা গণতান্ত্রিক তৃণমূল-কংগ্রেস বিজেপি-র বিরুদ্ধে লড়াই করতে চাই। হাত শক্তিশালী করতে চাই জোটের। যদি তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দেন।”

যদিও এই গোটা বিষয়টি নিয়ে আখরুজ্জামানকে কটাক্ষ করেন মমতাপন্থী কুণাল ঘোষ। তাঁর কথায়, “আপাতত একটা চেয়ার পেয়েছে বলে দালালিটা বাড়াবাড়ি রকমের হচ্ছে। সে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রডাক্ট। তার মতো অজস্র সাংসদ, বিধায়ক, পঞ্চায়েত, কাউন্সিলর…মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলনের প্রডাক্ট। এসব পচা আলু, কোনও মানে আছে! যাদের মানুষ গদ্দার, বেইমান হিসেবে চেনে, তাদের কথার কোনও গুরুত্ব থাকতে পারে না।”



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.