Voice of Eastern India

TMC News : ‘হাত-পা বেঁধে পিটিয়েছে…’, পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু তৃণমূল কর্মীর, কীভাবে ? কী জানাচ্ছে মৃতের পরিবার ?


কলকাতা: হালিশহর থানার হেফাজতে থাকাকালীন অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হল তৃণমূল কর্মীর। মৃত বিরজু কেওত কাচরাপাড়া পুরসভার প্রাক্তন পুরপ্রধান ও তৃণমূল নেতা কমল অধিকারীর ছায়াসঙ্গী বলে এলাকায় পরিচিত। ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে বিচারবিভাগীয় তদন্ত হবে বলে দাবি করা হয়েছে পুলিশ সূত্রে।

হালিশহরে পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুর অভিযোগ ঘিরে শোরগোল। মৃত বিরজু কেওত কাঁচরাপাড়া পুরসভার সদ্য প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর জেনি শর্মার স্বামী। পাশাপাশি তিনি সেখানকার প্রাক্তন পুরপ্রধান ও তৃণমূল নেতা কমল অধিকারীর ছায়াসঙ্গী বলে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগে শুক্রবার তৃণমূল কর্মী বিরজু কেওতকে গ্রেফতার করে হালিশহর থানা। পুলিশ সূত্রে দাবি, শনিবার ভোরবেলা আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন তৃণমূল কর্মী বিরজু কেওত। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে কল্যাণীর JNM হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ সূত্রে খবর, হেফাজতে থাকাকালীন তৃণমূল কর্মীর এই মৃত্যুর ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত হবে। খতিয়ে দেখা হবে হালিশহর থানা ও পুলিশ লকআপের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ। পাশাপাশি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের গাইডলাইন মেনে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে তদন্ত হবে বলে দাবি করা হয়েছে পুলিশ সূত্রে।

কীভাবে মৃত্যু ? কী অভিযোগ পরিবারের ?

মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে তাঁকে। এমনকী হালিশহর থানার তরফে মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি বলেও দাবি করেছেন মৃতের আত্মীয়রা। মৃতের ভাইপো রবিকুমার কেওত জানিয়েছেন, ”থানার ভিতরেই মেরেছে। পুলিশই মেরেছে।” ”কালকে কাকাকে অ্যারেস্ট করেছিল, কোর্টে নিয়ে গেছে। রাতে আবার নিয়ে এসেছে। এবার শুনছি সকালে উনি মারা গেছেন। IO বলতে পারছে না, যার হাতে কেস ছিল সে বলতে পারছে না কী হয়েছে। টর্চার হয়েছে, পায়ে-হাতে দেখুন পুরো দাগ আছে।”

মৃতের এক আত্মীয় জানান, ‘একরাতের মধ্যেই দেখুন হাতে-পায়ে দাগ আছে। হাত-পা বেঁধে নির্মমভাবে পিটিয়েছে।’ ‘মেরে কোনও ইনফর্মেশন দেয়নি। এখানে বডি ফেলে দিয়ে চলে গেছে। এখন কোনও পুলিশের পাত্তা নেই। ওই থানার কোনও পুলিশ এখানে নেই। এখানে একটা কর্মচারী ছিল সে আমাদের ইনফর্মেশন দিয়েছে। আমরা থানায় গেছি। তাঁরাও বলতে পারছে না কী হয়েছে।’ মৃত তৃণমূল কর্মীর এক প্রতিবেশী লক্ষ্মী বারিক জানান, ‘উনি TMC করত। বিরজু। বেচারা একদম ইয়ং ছেলে, দু’টো বাচ্চা। একজনের মুখে শুনলাম উনি নেই।’

মৃতের স্ত্রী ও প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর জিনি শর্মা জানান, ‘আমার স্বামীকে পার্টিগত কারণেই অ্যারেস্ট করেছিল কাল সকালবেলা হালিশহর থানা। কাল রাত ১০টা নাগাদ আমার সাথে ওঁর দেখা হয়। ও লক আপের ভিতরে ছিল, আমি বাইরে ছিলাম। তখন সে সুস্থ। কিন্তু একরাতের মধ্যেই…দেখুন হাতে-পায়ে দাগ আছে। হাত-পা বেঁধে নির্মমভাবে পিটিয়েছে। কেন তাঁকে এরকমভাবে হত্যা করা হল? কার মদতে করা হল?



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.