Voice of Eastern India

TMC News : চড়াম চড়াম ঢাক থেকে DJ বাজানো, তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনে হুমকি-হুঁশিয়ারির তালিকায় কারা ?


কলকাতা : চড়াম চড়াম ঢাক থেকে DJ বাজানো, তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনে হুমকিরও বিবর্তন দেখেছে রাজ্যবাসী। গত কয়েক বছরে তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা থেকে শুরু করে প্রাক্তন মন্ত্রী, অনেকের গলাতেই শোনা গেছে একের পর এক হুমকি-হুঁশিয়ারি। আর এই প্রেক্ষাপটেই উস্কানিমূলক মন্তব্য়ের মামলায় মঙ্গলবার অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে সাড়ে ৬ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করল CID। ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় DJ বাজানো মন্তব্য ঘরে CID’র জালে অভিষেক। তবে এই হিংসার সংস্কৃতি থেকে মানুষ মুক্তি পেতে চায়। দিনের পর দিন তা চলতে পারে না। 

তৃণমূল জমানায় কে, কোন হুমকি দিয়েছিলেন ?

১. ২০১৬ সালের এপ্রিল ১৬ তারিখ, বীরভূমের তৎকালীন তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল বলেছিলেন, ”চড়াম চড়াম করে ঢাক বাজবে।” ”কোন পুজোতে ঢাক বাজে না? সারাদিন আনন্দ করে ভোট দেবে মানুষ। তারজন্যই চড়াম চড়াম করে ঢাক বাজবে।”

২. ২৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে নির্বাচনের প্রচারে গিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ”DJ তো বাজবেই, এমন জোরে বাজবে কান ঝালাপালা করে দেব।” আর এই মন্তব্যের জন্য আজ তিনি বিপাকে। 

৩. ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ণমূল কংগ্রেসের বীরভূম জেলার তৎকালীন জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল বলেছিলেন, ”যারাই নমিনেশন ফাইল করবে, তাদেরই গুড় বাতাসা দিয়ে জল দেবে। চিন্তা করার কোনও কারণ নেই।”

৪. ২৪ জানুয়ারি, ২০১৩ সালে তৃণমূলের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেছিলেন, ”আপনি সাপের সাথে কী ব্যবহার করেন? গোখরো সাপ যদি ঘরে ঢোকে? কেউটে সাপ যদি ঘরে ঢোকে কী ব্যবহার করেন? সিপিএমের সাথে সেই ব্যবহার করবেন।”

৫. প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রী ও তৃণমূল নেতা মদন মিত্র, যিনি বর্তমানে কামারহাটি বিধায়ক, তিনি বলেছিলেন, ”বেলঘরিয়ার ওসি সুব্রত ভৌমিক দাঁড়িয়ে আছে। আমি বলেছিলাম একটা কানের গোড়ায় দেব না কাল সকালের পর খুঁজে পাওয়া যাবে না।”

৬. ২১ নভেম্বর ২০২৩ সালে আবদুর রহিম বক্সী, তৃণমূল কংগ্রেসের মালদার প্রাক্তন জেলা সভাপতি বলেছিলেন, ”যে মুখ দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছেন, যে মুখ দিয়ে মিথ্যা কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন, সেই মুখের ভিতর থেকে জিভটা টেনে মানুষ এবার প্রমাণ করবে গ্রামের মধ্যে যে মানুষ আপনাদের সাথে নেই।”

৭. উত্তর ২৪ পরগনা জেলার তৃণমূল নেতা ও জেলা পরিষদের সদস্য শেখ শাহজাহান বলেছিলেন, ”বদলা নয়, বদল চাই’ আর নয়। এবার বদলাই হবে। জেনে রেখে দাও, তোমাদের কাঁথির ওই বুনো মোষ এসে বাঁচাতে পারবে না।”

 ৮. TMCP নেতা সৌমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ” থানা বোমা মেরে উড়িয়ে দেব…পুলিশকে ভয় পেও না। পুলিশ সরকারের চাকর। পুলিশ কোনও দিন কিছু করতে পারবে না– এর বেশি দিও না।”

তৃণমূল জমানায় তৎকালীন হেভিওয়েট নেতা ও মন্ত্রী আবার ছোট-বড়-মেজো নেতাদের গলাতেও শোনা যেত হুঁশিয়ারি! এই হুমকি-হুঁশিয়ারি যেন ট্র্যাডিশনে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু কোনও শাসক যে সবসময় শাসক থাকে না, তা মগজ থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল সকলের। ক্ষমতার সিংহাসন না থাকলেও, মুখ থেকে বের হওয়া কথাগুলো থেকে যায়। শুধু তৃণমূল না, দুর্ভাগ্য়ের বিষয় ক্ষমতায় থাকাকালীন কোনও দলই অহঙ্কার-ঔদ্ধত্য়কে ত্যাগ করতে পারে না। ভুলে যায় ভবিষ্যতের কথা। 



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.