Voice of Eastern India

Taratala Building Collapse: তারাতলাকাণ্ডে এখনও কয়েকজন শ্রমিকের খোঁজ মেলেনি, ধ্বংসস্তূপের মধ্য়েই চলছে প্রাণের খোঁজ, “আশা করছি, আরও কিছু মানুষকে পাব..”


ঐশী মুখোপাধ্যায়, সন্দীপ সরকার ও কৃষ্ণেন্দু অধিকারী,  কলকাতা: তারাতলায় গোডাউন বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ১৬-তে। শুক্রবারও ধ্বংসস্তূপের মধ্য়ে আতিপাতি করে চলছে প্রাণের খোঁজ। নেওয়া হচ্ছে অত্যাধুনিক যন্ত্রের সাহায্য। তারাতলা বিপর্যয়। ধ্বংসস্তূপের নীচে মৃত্য়ু-মিছিল। উদ্ধার হচ্ছে একের পর এক প্রাণহীন দেহ। তারইমধ্য়ে, ধ্বংসস্তূপের মধ্য়ে আতিপাতি করে চলছে প্রাণের খোঁজ। যদি কোথাও থেকে শোনা যায় গোঙানি বা বাঁচার আর্তি। তারাতলা বিপর্যয়ে মৃত মন্নু কুমারের আত্মীয় বলেন,মৃত্য়ু হয়েছে বলে জানিয়েছে।  আজ হয়েছে। হার্ট ব্লক হয়ে গেছিল। অপারেশন হয়েছিল কাল হাতে। হাত ভেঙে গেছিল। হার্টেও সমস্য়া হয়েছিল। হার্ট ব্লক হয়ে গেছিল তার।

আরও পড়ুন, বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণাবর্ত, একইসঙ্গে লাল-কমলা-হলুদ সতর্কতা জারি ! প্রবল বর্ষণের পূর্বাভাস রাজ্যজুড়ে

 মৃত স্বপন মণ্ডলের মেয়ে বলেন, যে কন্ট্রাক্টর ছিল। সে তো শুনেছে, বিল্ডিংটা কাঁপছে। সে তো জেনে শুনেই সবাইকে ওপরে তুলল। তার জন্য়ই তো আমার বাবারা সবাই মিলে প্রাণ দিল। হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে অনেকের। ৪ জনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। ১ জনের অতি আশঙ্কাজনক। তাদেরকে ক্রিটিকাল কেয়ার ইউনিটে রাখা হয়েছে। কারও হাত ভেঙেছে, কারও মাথা ফাটা, কারও পাজরের হাড় ভেঙেছে। একাধিক ইনজুরি রয়েছে।

বুধবার দুপুরে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর পেরিয়ে গেছে ২-২টো দিন।ভেঙে পড়া লোহার বিমের নীচে এখনও কি কেউ চাপা পড়ে আছে? আকাশে ড্রোন উড়িয়ে চলছে খোঁজ। ভিক্টিম লোকেটিং ক্যামেরা নিয়ে ধ্বংসস্তূপের তলায় ঢুকেও করা হচ্ছে তল্লাশি। ৩টে জোনে ভাগ করেছেন তাঁরা এই এলাকা। ছোট করে ড্রিল করে ভিতরে ঢুকছেন ভিক্টিম লোকেটিং ক্যামেরা নিয়ে। কোথাও কোনও প্রাণের হদিশ আছে কিনা। গতকালও কিন্তু এভাবে ৪জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল।সেভাবেই আজও চলছে খোঁজ।একনাগাড়ে উদ্ধারকাজ করে চলেছে NDRF, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও দমকল। গ্রাউন্ড জিরোকে ৩টি নির্দিষ্ট জোনে ভাগ করে চলছে উদ্ধারকাজ।
 
মুখ্য়মন্ত্রী   শুভেন্দু অধিকারী বলেন, তারাতলার ঘটনায় আপনারা জানেন, এখনও উদ্ধারকাজ চলছে। NDRF লিড করছে, তাকে বাকি সবাই সাহায্য় করছে। তারা তাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। দুটো জায়গা পরিষ্কার করতে পেরেছে NDRF. তারা আশাবাদী, যদি আবহাওয়া ঠিকঠাক থাকে, তাহলে  রাতের মধ্য়ে তারা কমপ্লিট করতে পারবে পুরো রেসকিউ, যা আছে আমাদের, যা চলছে। NDRF-এর তরফে জানানো হয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নীচে কেউ আটকে নেই এই ব্যাপারটা পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার পরেই, লোহার বিম কাটতে ব্যবহার করা হবে রেলের থেকে আনা অক্সিকাটিং সেট ও প্লাজমা কাটিং মেশিন।
 
NDRF কম্যান্ডার মণীশ রঞ্জন বলেন, আজকে আমরা প্ল্যান করছি একটু অ্যাগ্রেসিভ কাটিং করার।  আমরা এমন ৩টে স্পট চিহ্নিত করেছি যেখানে আমাদের সন্দেহ হচ্ছে (কেউ থাকতে পারে), দেখা যাক কী হয়! রাতভর টিম কাজ করছে।  এরিয়া স্ক্যান করছি। আমরা লাইফ ডিটেক্টিং সেন্সর ব্যবহার করছি।  যতক্ষণ না আমরা পুরো এলাকা এক-দু’বার স্ক্যান না করা হচ্ছে, ততক্ষণ আমরা অ্যাগ্রেসিভ কাটিংয়ে যাব না। শুক্রবার উদ্ধারকাজে যোগ দেন রেলের উদ্ধারকারী দলও। লিলুয়া ওয়ার্কশপ সিনিয়র সেকশন ইঞ্জিনিয়ার তরুণকুমার মণ্ডল বলেন, আমরা ইন্ডিয়ান রেলওয়ে C&W ওয়ার্কশপ লিলুয়া থেকে এসেছি।  আমরা অক্সিকাটিং করব। যে লোহার বিম আছে, সেগুলো অক্সিকাটিং করে কাটার জন্য এগুলোকে ব্যবহার করা হবে। নিয়ে এসেছি অক্সিকাটিং সেট, প্লাজমা কাটিং মেশিন। 
 
শুক্রবার, ঘটনাস্থলে যান দমকলমন্ত্রী।দমকলমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী বলেন, প্রচুর উপরে ছোট ছোট গর্ত করা হয়েছে, যেখান দিয়ে নেমে তল্লাশি চালানো হচ্ছে, নানান ধরনের সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে, কারও নিঃশ্বাস যদি অনুভব করা যায়। আলো ব্যবহার করা হচ্ছে। এইভাবে চেষ্টা হচ্ছে। আমরা আশা করে আছি, আরও কিছু মানুষকে আমরা ওখান থেকে পাব। ‘প্রশাসন সূত্রে খবর, তারাতলাকাণ্ডে এখনও কয়েকজন শ্রমিকের খোঁজ পাওয়া যায়নি।



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.