পুরুলিয়া : ঝালদার অলিগলি, এমনকি কানাগলিতে আজও মাঝে মধ্যে শোনা যায় সেই আমের্নিয়ান সাহেবের কথা। এক সময় জেলার যে শিল্পে ওই বিদেশি বণিকের প্রধান ভূমিকা ছিল, আজ সেই শিল্প পেয়েছে ‘জিআই’ স্বীকৃতি। পুরুলিয়ার লাক্ষা নতুন করে নিজের নাম বুনছে আন্তর্জাতিক স্তরে। চোখের সামনে হাজারও সম্ভাবনার ‘খোলা আকাশ’ দেখতে পাচ্ছেন ব্যবসায়ী, কারিগর ও শ্রমিকরা। কারণ জিআই স্বীকৃতি যে শুধুই একটা শিল্পকে সম্মান জানানো নয়, তাঁর সঙ্গে জুড়ে থাকা হাজারও শিল্পীদের পরিশ্রমকেও প্রাসঙ্গিকতা প্রদান করা।
সময়টা আনুমানিক ১৮৯৭ সাল। একটি কুঁড়ে ঘরে ডেরা বেঁধে লাক্ষা থেকে গালা এবং সেটি থেকে আরও নানাবিধ পণ্য তৈরির কাজ করছিলেন আর্মেনিয়ান বণিক এ এম আরাথুন। ছোট-বড় স্তরের নানা গবেষক, এমনকি এইচ এম নটরিজন-এর লেখা ‘লাইফ স্টোরি অফ এ এম আরাথুন’ বইতেও লাক্ষা শিল্পের সেই শুরুর দিকের ইতিহাস বর্ণিত রয়েছে। পুরুলিয়ার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে এই শিল্পে টেনে এনে রোজগারের দিশাও দেখিয়েছিলেন আরাথুন সাহেব। ঝালদায় তৈরি করেছিলেন নিজের একটি সংস্থাও। জঙ্গলে ঘেরা মানভূমে লাক্ষাশিল্পের প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয় কিছুটা এই ভাবেই। সময়ের পাকেচক্রে এই শিল্পের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল দেখে ধীরে ধীরে একটির পর একটি লাক্ষা কুঠি গড়ে উঠতে শুরু করে। পরিচিতি পায় এই শিল্প।
