অরিন্দম সেন, আলিপুরদুয়ার: সাতসকালে লোকালয়ে ঢুকে মা গণ্ডার ও তার শাবকের তাণ্ডবে আতঙ্ক ছড়াল আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটার কুঞ্জনগর গ্রামে। একের পর এক বাড়িতে ভাঙচুর চালানোর পর মৃত্যু হল মা গণ্ডারটির। বন দফতরের প্রাথমিক অনুমান, অতিরিক্ত দৌড়াদৌড়ি, তাণ্ডব এবং মানুষের উপস্থিতির কারণে তৈরি হওয়া মানসিক চাপ থেকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের পরেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। অন্যদিকে, মাতৃহারা শাবকটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন বনকর্মীরা।
আরও পড়ুন: হাসপাতালের গাফিলতিতে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ, আলিপুরদুয়ারে পরিদর্শনে বিজেপি বিধায়ক
স্থানীয় ও বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৭টা নাগাদ জলদাপাড়া বন দফতরের কুঞ্জনগর জঙ্গল থেকে আচমকাই একটি মা গন্ডার ও তার ছোট শাবক লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। তারা প্রথমে কুঞ্জনগর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক সুশীলকুমার সিনহার বাড়িতে ঢুকে পড়ে। উঠোনে গন্ডার দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কে ঘরের ভিতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন।
এরপর মা গণ্ডারটি বাড়ির উঠোনে তাণ্ডব শুরু করে। তার গুঁতোয় দুটি টিউবওয়েল, দুটি সাইকেল, দুটি সেলাই মেশিন এবং একটি কাঠের চৌকি ভেঙে যায়। পাশাপাশি বাড়ির পাকা শৌচাগারের দেওয়ালও ভেঙে ফেলে গণ্ডারটি।
আরও পড়ুন: ব্যাঙ্কে থাকা কোটি কোটি টাকা এখন কার, তৃণমূলের তহবিল নিয়ে শুনানির পর কী রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট?
সেখান থেকে মা ও শাবক গণ্ডার পাশের দীপঙ্কর সিনহার বাড়িতে চলে যায়। সেখানেও তাণ্ডব চালিয়ে একটি টিনের ছাপড়া ঘর ভেঙে দেয় মা গণ্ডারটি। একের পর এক বাড়িতে তাণ্ডব চালানোর সময় জখম হয়ে পড়ে সেটি। হাঁফাতে হাঁফাতে দীপঙ্করবাবুর গাছবাগানে গিয়ে আশ্রয় নেয়। কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে থাকে শাবকটি। কিছুক্ষণ পর গাছবাগানের মধ্যেই এলিয়ে পড়ে মা গণ্ডারটি।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় জলদাপাড়া বন দফতরের আধিকারিক ও কর্মীরা। আসে ফালাকাটা থানার পুলিশও। মৃত গণ্ডারের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে ভীত ও মাতৃহারা শাবকটিকে নিরাপদে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। বনকর্মীদের পাশাপাশি বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরাও শাবকটির দেখভালের চেষ্টা করছেন।
