Voice of Eastern India

Kolkata: দিল্লিতে ‘দোস্তি’, রাজ্যে ‘কুস্তি’? মমতা-তৃণমূলের কাছাকাছি সিপিএম? ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য বিমান-সুজনের


কৃষনেনদু অধিকারী, শিবাশিস মৌলিক, সুদীপ্ত আচার্য, কলকাতা: সিপিএমের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে চিঠি চালাচালি, ফোনে কথা, একসঙ্গে বৈঠক থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচি… জ্ঞানেশ কুমার ইস্য়ুতে জাতীয় স্তরে কাছাকাছি আসছে সিপিএম ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু রাজ্য নেতৃত্ব কি সেই পথে হাঁটবে? ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন বিমান বসু, সুজন চক্রবর্তীরা।

জ্ঞানেশ কুমার ইস্য়ুতে দিল্লিতে যখন কাছাকাছি আসছে তৃণমূল এবং সিপিএম। তখন সিপিএমের রাজ্য নেতৃত্বের গলায় ভিন্ন সুর। তৃণমূল-সিপিএম! কার্যত সাপে-নেউলে সম্পর্ক! সম্প্রতি জ্ঞানেশ কুমার ইস্য়ুতে সেই দুই রাজনৈতিক দলই কাছাকাছি এসেছে। সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির সঙ্গে চিঠি দেওয়া-নেওয়ার পাশাপাশি ফোনেও কথা হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

এরপর বামপন্থী আইনজীবীদের উপর হামলার সমালোচনা করে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন তিনি। বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যর বাড়িতে হামলার ঘটনাতেও প্রতিবাদ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি, দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিকে সামনে রেখে কখনও বৈঠক। কখনও একযোগে পথে নেমেছেন। 

সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে স্মারকলিপি দেবে ‘INDI’ জোট। সেই কর্মসূচিতেও রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়দের পাশে থাকার কথা এম এ বেবির! এই প্রেক্ষাপটে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য শোনা গেল সিপিএমের রাজ্য নেতৃত্বর গলায়। বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু আরও বলেন, ‘বৃহত্তর স্বার্থে সবাই মিলে ‘INDI’ জোটের লোকেরা লড়াই করবে, এটাই স্বাভাবিক এবং রাজ্য়ে রাজ্য়ে ভিন্নতা, অভিন্নতা, তাকে বিচার করেই কাজ করতে হবে। এর মধ্য়ে কিন্তু খুঁজে লাভ নেই। আমি পশ্চিমবঙ্গের কথা বলছি, এর মধ্য়ে দিয়ে গঙ্গা দিয়ে যেমন জল অনেক বয়ে যাবে। যমুনা দিয়েও অনেক জল বয়ে যাবে। তখন ঠিক হবে। এখনই ঠিক করার প্রশ্ন নেই।’

সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘সারা দেশের বিবেচনায় যা বিজেপি সরকার করছে, তার বিরুদ্ধে সবাইকেই একমত হতে হবে এটার মানে এটা নয় যে, রাজ্য়ে রাজ্য়ে তার মতো করে পরিবেশ হয়ে যাচ্ছে। সেটা রাজ্য়েরটা রাজ্য়ের মতো, তার উপর নির্ভর করবে।’

সম্প্রতি জ্ঞানেশ কুমার ইস্য়ুতে বিজেপি বিরোধী সমমনোভাবাপন্ন ছাত্র সংগঠনগুলোকে চিঠি দিয়েছে SFI. সেখানে বাদ পড়েছে তৃণমূলের ছাত্র পরিষদ! SFI-র সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, ‘তৃণমূল আজ যে পরিবেশে আছে শতধাবিভক্ত তৃণমূল, তারা কোনওটাই ঠিক জাতীয় স্তরের গুরুত্ব পাওয়ার ব্যাপার তাদের এখনও নেই। তৃণমূল ছাত্র পরিষদ, জাতীয় স্তরে তো সংগঠন হিসেবে তার খুব বিস্তার নেই।’

এদিকে, তৃণমূল-সিপিএমের দিল্লিতে ‘দোস্তি’, আর রাজ্যে ‘কুস্তি’ নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। ইন্ডিয়া জোটে যে একাধিক দল আছে, বিভিন্ন রাজ্য়ে তাদের নিজেদের মধ্য়েই লড়াই আছে। তার মধ্য়ে অন্য়তম হল পশ্চিমবঙ্গ। এখান দেখার সিপিএম ও তৃণমূল কীভাবে জাতীয় এবং আঞ্চলিক রাজনীতির এই ভারসাম্য বজায় রাখে।



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.