Gyanesh Kumar: জ্ঞানেশ কুমার মামলায় নির্বাচন কমিশনকে নোটিস দিল সুপ্রিম কোর্ট, আর যা জানাল দেশের শীর্ষ আদালত…
কলকাতা: ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর তোলপাড় ফেলে দেওয়া প্রতিবেদনে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগে আজ সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হল। এদিন জ্ঞানেশ কুমার মামলায় সুপ্রিম কোর্ট জানায়, ”নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত হতে হবে হয় সর্বসম্মত, নয় সংখ্যাগরিষ্ঠের মত অনুযায়ী”।
জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের আর্জি জানিয়ে করা মামলায় নির্বাচন কমিশনকে নোটিস পাঠাল সর্বোচ্চ আদালত। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বাধীন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও কমিশনকে নোটিস পাঠাতে পারে সুপ্রিম কোর্ট।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আজকের শুনানি শেষ। আগামী সপ্তাহে ফের শুনানি সর্বোচ্চ আদালতে। সংবাদপত্রের রিপোর্ট অনুযায়ী কোনও নির্দেশ দেব না, বলল সুপ্রিম কোর্ট। শুনানির শুরুতেই CEC-কে বরখাস্ত করার দাবি আইনজীবী বিকাশ সিংহর। নির্বাচন কমিশন কী করে কাজ করবে? প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের।
”২জন নির্বাচন কমিশনার কাজ করতে পারবেন”, সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল আইনজীবী বিকাশ সিংহর। আপনার আর্জি আমাদের খতিয়ে দেখতে হবে, প্রতিক্রিয়া সুপ্রিম কোর্টের। ”অন্তর্বর্তী নির্দেশ কিছু দিন, কয়েকটি জায়গায় ভোট আসছে”, আবেদন আইনজীবী বিকাশ সিংহর।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনার বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। তাঁর বিরুদ্ধে বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশনের বৈঠকের রেকর্ড তলব এবং তদন্ত চলাকালীন জ্ঞানেশ কুমারকে CEC-এর দায়িত্ব থেকে পৃথক রাখারও আবেদন করা হয়েছে।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন সামনে আসার পর, গত ২৫ সেপ্টেম্বর, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হয় পিটিশন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে, ফৌজদারি পদক্ষেপের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানান এক আইনজীবী। সুপ্রিম কোর্টে দাখিল হওয়া পিটিশনে বলা হয় – SIR প্রক্রিয়ায় সাংবিধানিক দায়িত্ব লঙ্ঘন করেছেন জ্ঞানেশ কুমার। দুই নির্বাচন কমিশনারের সম্মতি ছাড়াই জ্ঞানেশ কুমার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, বলে অভিযোগ উঠেছে। এই সিদ্ধান্ত ও নির্দেশিকাগুলিকে বাতিল ঘোষণার দাবি করা হয়েছে পিটিশনে।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সাসপেনশনের দাবিতে এবং ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর খবর অনুযায়ী, তাঁর নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন কীভাবে অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের অনুমোদন ছাড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেই প্রক্রিয়াকে চ্য়ালেঞ্জ জানিয়ে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়।
পাটনার বাসিন্দা রাকেশ কুমার সিং-এর দায়ের করা এই জনস্বার্থ মামলায় দ্রুত শুনানির আবেদন জানিয়ে আইনজীবী বিকাশ সিং বলেন, একাধিক নির্বাচন কমিশনার রাখার উদ্দেশ্যই হল, যাতে যাবতীয় সিদ্ধান্ত ঐক্যমত্য়ের ভিত্তিতে হয় বা সংখ্য়াগরিষ্ঠের মতের ভিত্তিতে হয়। যেভাবে নির্বাচন কমিশন কাজ করেছে, তাতে সন্দেহ তৈরি হয়েছে, যে সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতভাবে হয়েছিল কি না। যদি ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না হয়ে থাকে, তাহলে তা গুরুতর বিষয়। আইনত সমগ্র নির্বাচন কমিশনের এক্তিয়ারভুক্ত, এমন কোনও ক্ষমতা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার একতরফাভাবে প্রয়োগ করেছেন কিনা, খতিয়ে দেখা হোক। তেমনটা হয়ে থাকলে সেই কাজগুলোকে অননুমোদিত ঘোষণা করা হোক। সেই সঙ্গে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানানো হয় সর্বোচ্চ আদালতে।
২৯ সেপ্টেম্বর, সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলার আবেদনে আরও বলা হয়েছে, আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি না হওয়া পর্যন্ত জ্ঞানেশ কুমার যেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে কাজ না করেন, এই মর্মে নির্দেশ দেওয়া হোক।
Mamata Banerjee | পশ্চিম মেদিনীপুরে বামপন্থী আইনজীবীদের ওপর হামলা, সিপিএমের পাশে দাঁড়ালেন মমতা | ABP Ananda LIVE
