Voice of Eastern India

Dipsita Dhar : ‘সিপিএমকে কেনা যায় না’, বামেদের উপর আক্রমণ নিয়ে বড় মন্তব্য দীপ্সিতার, পাল্টা জবাব বিজেপির


কলকাতা: দিকে দিকে আক্রান্ত সিপিএম। কলকাতার আনন্দপুর থেকে উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুর, পরপর সিপিএমের পার্টি অফিসে চলছে তাণ্ডব। অভিযোগের তির বিজেপির দিকে। এই ঘটনার নেপথ্যে যে বিজেপির লোকেরাই জড়িত, সেই অভিযোগ করেছেন বাম কর্মী-সমর্থকরা। কোথাও সিপিএমের ছাত্র সংগঠনের সভা চলাকালীন তাণ্ডব, আবার কোথাও সিপিএমের পার্টি অফিসে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে তালা। কোনও জায়গায় আবার সিপিএমের অফিসে ভাঙচুর চালানোর পর, জ্বালিয়ে দেওয়া হয় পার্টি অফিসের বিভিন্ন নথি। যার কারণে এই ঘটনা নিয়ে উত্তাল রাজ্য-রাজনীতি। কিন্তু সিপিএমের এই অভিযোগ খারিজ করেছে বিজেপি।

২৬-এ বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে পালাবদল ঘটে। তারপর থেকে বিভিন্ন জায়গায় আক্রান্ত হচ্ছে CPM-এর লোকেরা। বিরাটি থেকে শুরু করে কলকাতার আনন্দপুর হয়ে উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুর, মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বিভিন্ন জায়গায় বামেদের ওপর নেমে আসে আক্রম। সব জায়গাতেই বিজেপি আশ্রিত দুষকৃতীদের দিকে হামলার অভিযোগ তুললেন সিপিএমের কর্মী-সমর্থকেরা। শুক্রবার ভর সন্ধেয়, বিরাটিতে SFI-এর সভায় চড়াও হয় একদল দুষ্কৃতী। এভাবেই ছিঁড়ে ফেলা হয় মঞ্চে লাগানো ফ্লেক্স। আছড়ে আছড়ে ভাঙা হয় চেয়ার। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই, আনন্দপুরের চৌবাগায় সিপিএমের পার্টি অফিসের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দখলের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। রীতিমতো হাতুড়ি-ছেনি নিয়ে সিপিএমের কর্মীরা পুলিশের উপস্থিতিতে এই তালা ভেঙে খুললেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য অপর্ণা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় বলেন, ”শুক্রবার আমাদের এখানে একটা মিছিল হয়েছে। বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তখনই একটা গন্ডগোল করার পরিবেশ করছিলেন। এলাকার মানুষ খবর দেয় তারাই এসে (বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা) এখানে তালা দিয়ে গেছে।” যদিও বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ বলেন, ”বিজেপির খেয়ে দেয়ে কাজ নেই, যে ওদের পার্টি অফিসকে তালা মারবে?”দত্তপুকুরে আবার সিপিএমের ৫টা পার্টি অফিসে প্রায় একই সময়ে পরপর তাণ্ডব চালায় দুষকৃতীরা। ২৪ ঘণ্টায় বামেদের ওপর লাগাতার হামলা, আক্রমণ, যা নিয়ে চড়ছে রাজনীতি। সিপিএম নেতা আমেদ আলি খান বলেন, ”আমাদের পার্টি অফিস, গোটা দত্তপুকুর এরিয়া কমিটির অফিস-সহ ৫টা অফিসে তাণ্ডব চালিয়েছে।” 

এই সামগ্রিক ঘটনা নিয়ে বড় মন্তব্য করেন সিপিএম নেত্রী দীপ্সিতা ধর। তিনি বলেন, ”তৃণমূলকে যেমন কিনে নেওয়া যায়, সিপিএমের লোকজনকে কেনা যাচ্ছে না। বিরোধী মত থাকতে দেওয়া যাবে না, তাই বামপন্থীরা একমাত্র টার্গেট।” যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ”এখন সিপিএম ঘোলা জলে মাছ ধরার চেষ্টা করছে। কোথাও কোনও সংঘর্ষ নেই। যা সরকার চলছে, ঠিক চলছে। সামান্য যদি কোনও জায়গায় কোনও বিচ্যুতি থাকে, আমাদের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে জিরো টলারেন্স নিয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অন্যদিকে আবার, ঘটনাকে হাতিয়ার করে একযোগে বিজেপি ও বামেদের নিশানা করেছে মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস-এর বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, ”বিজেপি এই জঙ্গলরাজ যেটা তৈরি করছে, তাতে শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস নয়, এখন আক্রমণটা কিন্তু সিপিএমের ওপরেও আসছে। সিপিএমেরও একটু তো শিক্ষা দরকার। মূল শত্রু কারা সেটা তো তাঁরা বুঝতে পারেননি।”



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.