ময়ূখঠাকুর চক্রবর্তী, আশাবুল হোসেন ও রঞ্জিত হালদার, কলকাতা: গ্রেফতারির ৩৫ দিনের মাথায় দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে বারাসাত আদালতে জমা পড়ল চার্জশিট।পুলিশ সূত্রে খবর, বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র পারিষদের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রোমোটারদের থেকে ব্যাপক তোলাবাজির বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে ওই চার্জশিটে। পাশাপাশি দেবরাজ চক্রবর্তীর দুটি লকারে থাকা বিপুল পরিমাণ সোনা থাকার বিষয়টিও উঠে এসেছে তদন্তে।
দেবরাজ চক্রবর্তী। বাগুইআটির একদা দাপুটে তৃণমূল নেতা। বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন মেয়র পারিষদ। প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামী। তোলাবাজি, হুমকি, সিন্ডিকেটরাজ, প্রতারণা, প্রোমোটারদের চাপ দিয়ে টাকা আদায়, কোটি কোটি টাকার রহস্যজনক লেনদেন। প্রায় অভিযোগের পাহাড়ে বসে থাকা বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র পরিষদ দেবরাজ চক্রবর্তীকে আগেই জালে পুরেছিল রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স।গ্রেফতারির ৩৫ দিনের মাথায় প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামীর বিরুদ্ধে এবার বারাসাত আদালতে পেশ করা হল চার্জশিট।
তৃণমূল আমলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এই দেবরাজ চক্রবর্তী বাগুইআটি এলাকায় বড় রাজত্ব তৈরি করেছিলেন বলে বারবার তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল।স্থানীয় সূত্রে দাবি, প্রোমোটার থেকে অটোচালক, তাঁর তোলাবাজির কবল থেকে রক্ষা পেত না কেউ।অটোচালক সোমনাথ দত্ত বলেন, টাকা পৌঁছত, এখানকার বিধায়কের কাছেই পৌঁছত দেবরাজ,আসলে বিধায়ক তো উনিই ছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আদালতে পেশ চার্জশিটে দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রোমোটারদের কাছ থেকে ব্যাপক তোলাবাজি চালানোর অভিযোগের বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে প্রোমোটারদের উপর চাপ সৃষ্টি করে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হত। সেই তোলাবাজির টাকায় সম্পত্তি কেনার অভিযোগও চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
বারাসাত আদালতে পেশ করা চার্জশিটে আরও বলা হয়েছে, তদন্ত চলাকালীন দেবরাজ চক্রবর্তীর একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর দুটি লকারে বিপুল পরিমাণ সোনা থাকার বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে।তদন্তকারীরা চার্জশিটে মোট ১১ জন সাক্ষীর বয়ান সংযুক্ত করেছেন। অভিযোগের সমর্থনে একাধিক নথি ও তথ্যপ্রমাণও আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। পুলিশ সূত্রে আরও খবর, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র ১১১ ধারা-সহ একাধিক ধারায় দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, সংগঠিত অপরাধমূলক কার্যকলাপ এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তোলাবাজির অভিযোগের ভিত্তিতেই এই ধারাগুলি প্রয়োগ করা হয়েছে। তৃণমূল জমানায় তাঁর কথা ছাড়া বাগুইআটিতে একটা পাতাও নড়ত না।আপাতত সেই দেবরাজ চক্রবর্তীর ঠিকানা হাজতে।
