Voice of Eastern India

Debraj Chakraborty: কীভাবে চলত দেবরাজের দলবলের তোলাবাজির অপারেশন? কী অভিযোগ প্রোমোটারদের?


কলকাতা: দেবরাজ চক্রবর্তীর গ্রেফতারির পর, এবার তদন্তকারীদের আতসকাচের নীচে তাঁর ঘনিষ্ঠরা। তোলাবাজির অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে আজ তলব করা হয় বিধাননগর পুরসভার ছয় প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরকে। নোটিস দেওয়া হয় দেবরাজ চক্রবর্তীর (Debraj Chakraborty) ছায়াসঙ্গী তৃণমূল নেতা রতন মৃধাকেও। যদিও কেউই আজ বাগুইআটি থানায় হাজিরা দেননি।

গ্রেফতার হতেই বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন মেয়র পারিষদ ও প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে সামনে আসছে গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগ। প্রশ্ন উঠছে, তৃণমূল আমলে কি তোলাবাজির নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিলেন দেবরাজ চক্রবর্তী? এই আবহেই এবার পুলিশের নজরে দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠরা। 

দেবরাজকাণ্ডে বিধাননগর কমিশনারেট আট সদস্যের SIT গঠন করে তদন্ত শুরু করেছে। সেই বিশেষ তদন্তকারী দল শনিবার তলব করে দেবরাজ চক্রবর্তী ঘনিষ্ঠ সাত জনকে। এই ঘনিষ্ঠদের তালিকায় রয়েছেন ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর বিনু মণ্ডল, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর মণীশ মুখোপাধ্যায়, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর গোপাল বাগুই, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর সমরেশ চক্রবর্তী, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর মাইকেল নস্কর এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর সম্রাট বড়ুয়া।

আরও পড়ুন:- দেবরাজ গ্রেফতার হতেই তরুণজ্যোতির নিশানায় রাজারহাট-নিউটাউনের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায় 

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা সাত দেবরাজের ঘনিষ্ঠের নাম কিন্তু অভিযোগকারীদের মুখেও শোনা গিয়েছিল। কিশোর হালদার নামক প্রোমোটার অভিযোগ করেছিলেন, ‘ও (দেবরাজ চক্রবর্তী) তো তোলাবাজ, (টাকা) তুলত। সমরেশকে দিয়ে তুলত।’ আরেক প্রোমোটার অভিজিৎ সাহা, জানিয়েছিলেন, ‘দেবরাজের লোকেরা (কাজ বন্ধ রাখতে বলেছিল)। মণীশ মুখোপাধ্যায় এসে বলছে আমি সেটলমেন্ট করে দিচ্ছি। বলে ৩০ লাখ টাকায় সেটলমেন্ট হয়েছে।’

তোলাবাজির মামলায় আগেই গ্রেফতার হয়েছিলেন সমরেশ চক্রবর্তী, মাইকেল নস্কর, সম্রাট বড়ুয়াকে। বর্তমানে জামিনে বাইরে রয়েছেন তারা। এছাড়াও হাজিরার নোটিস পাঠানো হয় দেবরাজ চক্রবর্তীর ছায়াসঙ্গী বলে পরিচিত রতন মৃধাকেও। তিনি অবশ্য কার্যত পলাতক। যে ১০টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে অভিযোগের প্য়াটার্ন এক। কোনও প্রোমোটার যখন প্রোমোটিং করতেন পুরসভার থেকে নোটিস আসত কোনও না কোনও বিষয় বেআইনি দেখিয়ে। পরবর্তীকালে টাকা রফা হত। কাউন্সিলরদের হাত দিয়ে টাকা পৌঁছত দেবরাজ চক্রবর্তীর কাছে।

কীভাবে চলত দেবরাজের দলবলের তোলাবাজির অপারেশন? পুলিশ সূত্রে খবর, কোথাও নতুন প্রোমোটিং বা প্রজেক্ট শুরু হলেই হাজির হতো দেবরাজ-বাহিনী। দাবি করা হতো মোটা অঙ্কের টাকা। টাকা দিতে না চাইলে, প্রজেক্টের নকশায় খুঁত বের করত বিধাননগর পুরসভা! নকশায় খামতি আছে বলে ধরানো হতো সরকারি নোটিস, বন্ধ করে দেওয়া হতো কাজ। বাধ্য হয়ে প্রোমোটাররা স্থানীয় কাউন্সিলরের দ্বারস্থ হলে, চলত লাখ লাখ টাকার রফা। টাকা পেলেই ফের মিলত কাজ শুরুর সবুজ সংকেত!

প্রোমোটার  কিশোর হালদার জানান, ‘এরকম নোটিস অনেক আসত, কাজ বন্ধ হত। আবার কিছুদিন পরে সেগুলো চালুও হয়ে যেত। এখানে এভাবেই টাকা তুলত দেবরাজ। যে কাউন্সিলর করে, তাঁদের মিডিয়েটর হিসাবে ব্যবহার করত। দেবরাজ আমাকে পাঠাল তুমি সমরেশের সঙ্গে কথা বলে নাও। সমরেশ আমাকে ধমকি দিল কাজ বন্ধ করে দেব, তোমার কোন বাবা আছে যে বাঁচাবে।’ কিন্তু টাকা মিলতেই পুরসভার সব নোটিস উধাও, ফের কাজ শুরু করা যেত বলেই জানান কিশোর। 

পুলিশ সূত্রে খবর, এই তোলাবাজিকাণ্ডে তদন্তকারীদের স্ক্যানারে রয়েছেন ৩০ জনেরও বেশি জনপ্রতিনিধি! যার মধ্যে আছেন বিধাননগর পুরনিগম ও দক্ষিণ দমদম পুরসভার একাধিক প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর এবং রাজারহাট-নিউটাউনের বেশ কিছু হেভিওয়েট তৃণমূল নেতাও।

https://www.youtube.com/watch?v=1RftjvzFUjE”>



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.