Voice of Eastern India

CM Suvendu Adhikari: বিধানসভায় পাশ গুন্ডা দমন বিল, কী কী করলেই বিপদে পড়বেন? একনজরে সরকারের নতুন পদক্ষেপের খুঁটিনাটি


কলকাতা : বিধানসভায় পাস হয়ে গেল গুন্ডা-দমন সংক্রান্ত ২টি বিল। আইনশৃঙ্খলার গুরুতর অবনতি থেকে হিংসাত্মক বিক্ষোভের আঁচ পেলে, এবার ঘটনা ঘটার আগেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারবে পুলিশ। এছাড়া যে কোনও সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি নষ্টের ক্ষেত্রে গুন্ডাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার সংস্থান রয়েছে আরেকটি বিলে। রাজ্যে সম্পত্তি ধ্বংস, দাঙ্গা এবং উগ্র-ধ্বংসাত্মক আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটাতে বিধানসভায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করল নতুন সরকার। আর বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এই আইনের প্রয়োজনীয়তা ব্য়াখ্য়া করলেন মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। 

এই বিল অনুযায়ী এবার থেকে আইনশৃঙ্খলার গুরুতর অবনতি থেকে হিংসাত্মক বিক্ষোভের আঁচ পেলে, ঘটনা ঘটার আগেই, অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারবে পুলিশ। এছাড়া যে কোনও সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি নষ্টের ক্ষেত্রে এবার থেকে গুন্ডাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তও করতে পারবে সরকার। এর আগের আইনে অনের ফাঁক ফোকড় ছিল। বর্তমান আইনে ফাঁক ফোকড় রাখা হল না এবং এই আইন গুন্ডাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। 

‘কালীঘাট’ বনাম ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’, বিধানসভায় যেন নাটক, শিবিরের মধ্যেও কি তৈরি হচ্ছে শিবির ?

সমাজবিরোধী কার্যকলাপ 

সমাজবিরোধী কার্যকলাপ বলতে, জনগণের মধ্যে আতঙ্ক, বিপদ, ভয় বা নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করা, জনশৃঙ্খলা বা জনশান্তি বিঘ্নিত করা, অধিকার, বৈধ ব্যবসা, পেশা বা জীবিকার স্বাভাবিক চর্চায় বাধা সৃষ্টি, স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি থেকে বেআইনিভাবে উচ্ছেদ এবং সরকারি বা ব্যক্তিগত সম্পত্তির উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করাকে বলা হয়েছে। 

গুন্ডা কাদের বলা হচ্ছে 

গুন্ডা বলতে প্রধানত বলা হয়েছে নিজে অথবা কোনও দল, গ্যাং বা সিন্ডিকেটের সদস্য বা নেতা হিসেবে নিয়মিতভাবে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ করেন, করার চেষ্টা করেন, উস্কানি দেন, অর্থ জোগান বা সহায়তা করেন। এক্ষেত্রে রাজ্য সরকার যদি পুলিশ সুপারের নীচে নয় এমন পদমর্যাদার কোনও অফিসারের রিপোর্টের ভিত্তিতে সন্তুষ্ট হয় যে রাজ্যে কোনও গুন্ডাকে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ থেকে বিরত রাখতে আটক করা প্রয়োজন, তাহলে সরকার ওই ব্যক্তিকে আটক করার নির্দেশ দিতে পারে। সর্বোচ্চ ১ বছর পর্যন্ত আটক হিসেবে রাখা যাবে। 

একনজরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য 

  • এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণের জন্য রাজ্য সরকার এক বা একাধিক উপদেষ্টা বোর্ড গঠন করবে এবং তাদের আঞ্চলিক বা কার্যক্ষেত্র নির্ধারণ করতে পারবে।
  • এই আইনের অধীনে আটকের আদেশ জারি হলে, রাজ্য সরকার আটকের তারিখ থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে উপদেষ্টা বোর্ডের সামনে উপস্থাপন করবে।
  • বোর্ড আটকের তারিখ থেকে ৯ সপ্তাহের মধ্যে রাজ্য সরকারকে রিপোর্ট দেবে এবং আলাদা অনুচ্ছেদে জানাবে আটক রাখার যথেষ্ট কারণ আছে কি না।
  • যদি বোর্ড জানায় যে আটক রাখার যথেষ্ট কারণ আছে, তবে রাজ্য সরকার আটকের আদেশ বহাল রাখতে পারে 
  • যদি বোর্ড জানায় যে আটক রাখার যথেষ্ট কারণ নেই, তাহলে রাজ্য সরকার আটকের আদেশ বাতিল করবে এবং ব্যক্তিকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।
  • এই ধারার কোনও কিছুই আটক ব্যক্তিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইনজীবীর মাধ্যমে উপস্থিত হওয়ার অধিকার দেয় না
  • সহজ ভাষায়, এই অংশে বলা হয়েছে, যে আটক ব্যক্তির মামলা পরে একটি বিচারপতি-নেতৃত্বাধীন বোর্ড পর্যালোচনা করবে, কিন্তু সাধারণ নিয়মে সেখানে সরাসরি আইনজীবী নেওয়ার অধিকার সীমিত রাখা হয়েছে। 

দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল মেনটেনেন্স অফ পাবলিক অর্ডার সংশোধনী বিল’ অনুযায়ী বিক্ষোভ, দাঙ্গা, ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগের জেরে সরকারি বা ব্য়ক্তিগত সম্পত্তি নষ্ট করলে তার ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারবে সরকার। এর জন্য অভিযুক্তের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা যেতে পারে। ‘ক্লেমস কমিশনে’র কাছে আবেদন করে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবেন ক্ষতিগ্রস্তরা। এক্ষেত্রে ‘ক্লেমস কমিশন’কে দেওয়ানি আদালত হিসেবে গণ্য করা হবে। কমিশনের রায়কেই চূড়ান্ত বলে গণ্য করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বিলে। অপরাধীর পাশাপাশি উস্কানি দিলে বা অর্থ জোগান দিলে এবং সংগঠক ও অভিযুক্তের আশ্রয়দাতাকেও অভিযুক্ত হিসেবে গণ্য় করা হবে। 



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.