CM On Land Policy: পশ্চিমবঙ্গের জমি নীতিতে বড়সড় পরিবর্তন আনতে চলেছে BJP সরকার, কী জানালেন মুখ্যমন্ত্রী ?
অর্ণব মুখোপাধ্যায়, সৌমিত্র রায়, অরিত্রিক ভট্টাচার্য, কলকাতা: যাঁরা এই রাজ্যে বিনিয়োগ করতে চান, জমি নিয়ে কোনও সমস্যা হবে না। জমি কিনে আমরা আপনাদের দিয়ে দেব। বিনিয়োগ টানতে জমি নীতি নিয়ে এভাবেই অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে জানালেন, বদলে দেওয়া হবে ল্যান্ড সিলিং পলিসিও।
পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের জন্য জমি সমস্যা দীর্ঘদিনের। অভিযোগ, একলপ্তে বেশি জমি না মেলায় অনেক শিল্পকে মুখ ঘোরাতে হয়েছে এ রাজ্য থেকে। এই অবস্থায় প্রথমবার ক্ষমতায় এসে পশ্চিমবঙ্গের জমি নীতিতে বড়সড় পরিবর্তন আনতে চলেছে বিজেপি সরকার। শনিবার ডানকুনিতে হোসিয়ারি সংস্থার নতুন ইউনিটের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে গিয়ে, রাজ্যের জমি নীতি নিয়ে প্রথমবার অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জানালেন, বদলে দেওয়া হবে শিল্পের জন্য নেওয়া জমির ঊর্ধ্বসীমা নীতি। শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি এবার থেকে সংস্থাগুলিকে কিনে দেবে রাজ্য সরকারই। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আমরা ২০১৩ সালের জমি কেনার নীতিকে মান্যতা দিয়েছি। আমরা চাই না, আরেকটা নন্দীগ্রাম, সিঙ্গুর হোক। যে নীতিতে আমরা BSF-কে সীমান্তে জমি দিচ্ছি, রেলকে জমি কিনে দিচ্ছি, NH-কে (জাতীয় সড়কের জন্য) জমি কিনে দিচ্ছি, নতুন বিমানবন্দরের জন্য জমি কিনে দিচ্ছি, একইভাবে বেসরকারি বিনিয়োগকারী, যাঁরা এই রাজ্যে বিনিয়োগ করতে চান, জমি নিয়ে কোনও সমস্যা হবে না।
বাম আমলের শেষ দিকে রাজ্যে শিল্পের খরা কাটাতে উদ্যোগী হয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তবে জমি অধিগ্রহণ ইস্যুতে শেষপর্যন্ত শিল্পের মুখ দেখেনি সিঙগুর। শিল্পবান্ধব জমিনীতি না থাকাটা যে কতটা মারাত্মক হতে পারে, তা সেইসময় চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছিল সিঙগুর থেকে নন্দীগ্রামের আন্দোলন। পরবর্তীকালে সেইসব আন্দোলনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমতায় আসার পথ সুগম করে দিয়েছিল বলে মনে করেন অনেকে। তবে সেসব এখন অতীত। শিল্পনীতি ঠিক করতে সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে বৈঠকে বসতে চলেছে রাজ্যের নতুন মন্ত্রিসভা। তার আগে আগামী দিনে তাঁর সরকারের লক্ষ্য কী হবে, তা বুঝিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
শিল্পমন্ত্রী ও বিজেপি বিধায়ক তাপস রায় বলেন, আগে রাজনৈতিক সহযোগিতা ছিল না। আমাদের ল্যান্ড পলিসি ছিল না, ড্রাফট রেডি হয়েছে। বিদ্যুতের দাম বেশি সেটা আমরা দেখব। এ নিয়ে আবার কটাক্ষের সুর শোনা গেছে বিরোধীদের গলায়। তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলেন, এটা জমি নীতি নয়। করে দেখান তিনি। অনেক জায়গায় যাচ্ছেন। বাস্তবতা নেই। ঘোষিত শিল্পনীতি চাই। কংগ্রেস নেতা আশুতোষ চট্টোপাধ্য়ায় বলেন, শিল্প আমরা চাই কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যাওয়া নেতারা শিল্পের নতুন কী দিশা দেখাতে পারবেন, সেই প্রশ্ন আমাদের থাকবে। রাজ্যে বিনিয়োগ টানতে যে সব সংস্থা ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করবে, তাদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ১০০ কোটি টাকার বেশির যাঁরা বিনিয়োগ করবেন, কোনও পঞ্চায়েত, পুরসভা, জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত সমিতি থেকে অনুমতি নিতে হবে না। যত গোলমাল ওখানে, যত দাদাগিরি ওখানে, যত হেনস্থা ওখানে, যারা ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করবেন, তাদের কেন্দ্রীয়ভাবে সিঙ্গেল উইন্ডো সিস্টেমে পরিবেশ দফতর, জমি দফতর আপনাদের NOC- লাইলেন্স দেবে। আপনারা এখানে বিনিয়োগ করুন।’ আগামী দিনে কি সত্যিই রাজ্যে শিল্পে জোয়ার আসবে? বদলাবে, শিল্পোন্নয়নের ছবিটা ?
