কলকাতা: তৃণমূলের জন্য দরজা বন্ধ বলেও তৃণমূলের সদ্য পদত্যাগী তিন প্রাক্তন সাংসদের হাতে পদ্মপতাকা তুলে দিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। শুধু দলে যোগ দেওয়ানোই নয়, বিকেলে দলে যোগদান করিয়ে, সন্ধেয় রাজ্য়সভার টিকিটও দেওয়া হয়েছে তাঁদের। সেই নিয়ে বিজেপি-র অন্দরেই তীব্র অসন্তোষ ধরা পড়ছে। এবার মুখ খুললেন দলের বর্ষীয়ান নেতা তথাগত রায়। সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকদের দলে নেওয়ার কোনও প্রয়োজন ছিল না, রাজ্য নেতৃত্ব কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশ মানতে হয়েছেন বলে মন্তব্য করলেন তিনি। (Tathagata Roy on Welcoming Ex TMC Leaders)
বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন সুখেন্দুশেখর, সুস্মিতা এবং প্রকাশ চিক। সেই থেকেই তাঁদের পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ ঘিরে জল্পনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার একসঙ্গে বিজেপি-তে যোগদান করেন তাঁরা। তাঁদের দলে যোগদানকে ‘ব্যতিক্রমী’ ঘটনা বলে উল্লেখ করেন রাজ্য বিজেপি-র সভাপতি শমীক। পাশাপাশি, তাঁদের মতো বিদগ্ধ, গুণী মানুষদের যাতে ‘প্রাক্তন তৃণমূল’ বা ‘পদত্যাগী তৃণমূল’ না বলে হয়, তার জন্য আবেদনও জানান। (BJP News)
আরও পড়ুন: ‘হিটলিস্টে ১ নম্বরে আমি’, প্রাণনাশের আশঙ্কা করছেন ট্রাম্প, বিশেষ নির্দেশ দিয়ে রাখলেন
কিন্তু ওই তিনজনের যোগদান ঘিরে বিজেপি-র অন্দরেই অসন্তোষ ধরা পড়েছে। সেই নিয়ে এবিপি আনন্দের মুখোমুখি হন তথাগত। বলেন, “রাজনীতি সরলরেখায় চলে না। এটা সম্ভবত তারই একটা দৃষ্টান্ত। সরলরেখায় চলছে না, অত্যন্ত বক্ররেখায় চলছে। রাজ্যসভা বা লোকসভায় যাওয়া তো কেন্দ্রীয় বিষয়, এর পিছনে কেন্দ্রীয় বাধ্যবাধকতা আছে। সাধারণত আমি দলবদলকে সমর্থন করি না। কেন্দ্রীয় বাধ্যবাধকতায় দরকার। তা ছাড়া কিছু নয়। রাজ্যের তরফে কোনও দরকার ছিল বলে আমি মনে করি না।”
আরও পড়ুন: ‘সবকিছুর একটা সীমা আছে,’ DJ মামলায় অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে তীব্র ভর্ৎসনা করল কলকাতা হাইকোর্ট
তাহলে কি দিল্লি থেকে নির্দেশ এসেছিল ওই তিনজনকে বিজেপি-তে যোগদান করানোর? রাজ্যসভায় তাঁদের ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার নেপথ্যে কি নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহদের রাজনৈতিক কৌশল রয়েছে? তাঁদের নির্দেশ কি মানতে বাধ্য হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতৃত্ব? তথাগত জবাবে বলেন, “হ্যাঁ, তাই তো! সর্বভারতীয় দল। কেন্দ্রের নির্দেশ মেনেই চলতে হবে।”
শুধু তথাগতই নন, বিজেপি-র প্রাক্তন বিধায়ক নিখিলরঞ্জন দে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সংবাদমাধ্যমে। তাঁর কথায়, “আমাদের মাননীয় রাজ্য সভাপতি কিছুদিন আগেই বলেছিলেন যে তৃণমূলের জন্য বিজেপি-র দরজা বন্ধ। কিন্তু হঠাৎ কী ঘটনা ঘটে গেল যে তৃণমূলের তিন জন রাজ্যসভার সাংসদ, যাঁরা পদত্যাগ করে আবার বিজেপি-তে যোগ দিয়ে…দুপুরবেলা তাঁরা যোগ দিলেন। আবার বিকেলবেলা রাজ্যসভার টিকিটও পেয়ে যাচ্ছেন!” পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিজেপির যে বিপুল শক্তি, তাতে তিনজনেরই রাজ্য়সভায় নির্বাচিত হওয়া নিশ্চিত। কিন্তু দলের অন্দরেই তাঁদের যোগ দেওয়ানো নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
