Voice of Eastern India

BJP News: বিজেপি নেতা-কর্মীরা ‘তৃণমূলের থেকে বড় গুণ্ডা হওয়ার চেষ্টা করছে’, অভিযোগ পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়কের, ‘দেখো আমি বাড়ছি মামি’, কটাক্ষ কুণালের


পাণ্ডবেশ্বর: বিজেপির বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি। তাঁর অভিযোগের তির কিন্তু স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দিকেই। বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে চাঁদা, তোলাবাজি নিয়ে মারাত্মক অভিযোগ করলেন পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক। তিনি বলেন, “১৫ বছরে তৃণমূলের লোক যত বড় গুণ্ডা হয়েছিল, ২ মাসে আমাদের লোক ওদের থেকে বড় গুণ্ডা হওয়ার চেষ্টা করছে। মানুষের বাঁচা মুশকিল করে দিয়েছে আমাদের দলের লোক। ওরা মাসে ৪ টে কোয়ার্টার দখল করত, এরা এক সপ্তাহে ৪ টে কোয়ার্টার দখল করছে। যেখান থেকে ইচ্ছে, সেখান থেকেই চাঁদা নিচ্ছে এরা।”

আরও পড়ুন: প্রকাশ্যে OC-কে হুঁশিয়ারি, দ্বিতীয় নোটিসের পর অবশেষে শক্তিপুর থানায় হাজিরা হুমায়ুন কবীরের, চলছে জিজ্ঞাসাবাদ

জিতেন্দ্র তিওয়ারি আরও বলেন, “ঠিকাদারদের বিরক্ত করছে এরা। ওদের বলছে এটা করবেন, এটা করবেন না। এর জন্য পয়সা দিতে হবে, ওর জন্য পয়সা দিতে হবে। সব জানতে পারছি। কেউ নেতা নয়, সব কালেকশন মাস্টার হয়ে গিয়েছে।” এর পাল্টা তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকে প্রতিক্রিয়া দিতেও শোনা যায়। তিনি বলেন, “একজন বিধায়ক যখন সচেতন ভাবে প্রকাশ্য বক্তৃতায় বিজেপির কর্মীদের সম্পর্কে বলেন, যে এই খারাপ কাজগুলো হচ্ছে, অনেককে ছাড়িয়ে চলে গিয়েছে। দ্রুত বাড়ছে। ২ মাসের মধ্যে বলছে দেখো আমি বাড়ছি মামি। সুতরাং এই যে এত দ্রুত সমাজবিরোধী মূলক কাজ বাড়ছে ও তাতে বিজেপি বিধায়কই আপত্তি তুলছেন। এটা ইঙ্গিতবাহী।”

তৃণমূলে থাকতে বিধায়ক, আসানসোলের মেয়র ও জেলা সভাপতির মতো একাধিক পদে ছিলেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি। ২০২১ সালের নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। দাঁড়ান পাণ্ডবেশ্বর থেকে। যদিও তৃণমূলের নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর কাছে জিততে পারেননি। এবারএর নির্বাচনে অবশ্য সেই নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীকেই হারিয়ে পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক হয়েছেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি।

আরও পড়ুন: “বিজেপিতে যাব না, এই কথাটা আমি কেন বলব? রাঘব চাড্ডা হওয়ার কোনও ইচ্ছা নেই আমার”, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই রয়েছেন বাবুল

এদিন বিজেপি কর্মীদের সাবধান করতে গিয়ে বিধায়ক বললেন, নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর নামই। পাণ্ডবেশ্বরের বিজেপি বিধায়ক বললেন, “সব কিছুর একটা সীমা থাকা উচিত। সন্ধে ৬ টা বাজছে, দল বেঁধে মদ খেতে বসছে। আমরা এটা বলে ক্ষমতায় এসেছিলাম যে কারও ঘর খালি করতে দেব না। এখানে আমাদের লোকই ঘর খালি করে দিচ্ছে। কাল থেকে আমি কোনও কিছু যদি পেয়েছি, সব কমিটি ভেঙে দেব। আমি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী হব না।”

বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু অবশ্য বলছেন, “তৃণমূলের থেকে বড় গুণ্ডা হয়েছে কি না জানি না। কিন্তু কিছু জায়গার অভিযোগ এসেছে। এটা অস্বীকার করার জায়গা নেই। পার্টি দেখছে। কিন্তু আমরা স্পষ্ট বলতরে চাই, যাঁরা অপরাধ করবেন, সেই ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট, পুলিশ – প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। কোনও বিজেপি নেতা ফোন করে অপরাধীকে ছাড়ানোর চেষ্টা করবে না।” সদ্য ক্ষমতায় এসেছে তৃণমূল। বারবার নেতা ও কর্মীদের সাবধান করছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর এবার সেই একই বার্তা শোনা গেল পাণ্ডবেশ্বরের বিজেপি বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারির মুখেই।



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.