Voice of Eastern India

Anubrata Mondal on Abhishek Banerjee: ‘অভিষেকের জন্যই জেলে গেলাম, ওর জন্যই শেষ মমতা’, বলেলন অনুব্রত মণ্ডল, কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন


কলকাতা: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের জন্যই জেলে যেতে হয়েছিল তাঁকে। এবার বিস্ফোরক অনুব্রত মণ্ডল। অভিষেকের জন্যই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেষ হয়ে গেলেন বলেও দাবি করলেন তিনি। আগেই মমতার হাত ছেড়েছেন অনুব্রত। যোগ দিয়েছেন ‘ঋতব্রত তৃণমূলে’। দল যে জিতবে না, তা তিনি আন্দাজ করেছিলেন বলেন আগেই জানিয়েছিলেন অনুব্রত। আর এবার সরাসরি অভিষেকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন। তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতির জন্যও অভিষেককেই দায়ী করেছেন। পাশাপাশি, সমালোচনা করলেন মমতারও। (Anubrata Mandal)

বুধবার মদনের শিবিরবদল নিয়ে যখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি, সেই আবহেই কার্যত বিস্ফোরণ ঘটালেন অনুব্রত। মমতার হাত ছাড়া নিয়ে প্রশ্ন করলে বলেন, “আমি জেলে গেলাম কেন? কার জন্য গেলাম? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।” ‘কালীঘাট তৃণমূলে’র একাংশের দাবি, ইঁটভাটার মামলার জন্যই শিবির বদল করেছেন অনুব্রত। কিন্তু তাঁর বক্তব্য, “ওসব বাজে কথা। আমি ওসবে ভয় পাই না। জানো না নাকি? জেগে ঘুমান?” (Anubrata Mondal on Abhishek Banerjee)

আরও পড়ুন: ‘অভিষেক মমতার কথা শোনে না, ED-র চেয়ে বেশি ভয় AB-কে’, ‘কালীঘাট তৃণমূল’ ছেড়ে বললেন মদন মিত্র

বিধানসভা নির্বাচনের পর মমতা অনুব্রতকে ফোন করেছিলেন বলে খবর। সেই নিয়ে তিনি বলেন, “চার বার ফোন করেছিল নির্বাচনে হারার পর। আমি বলেছিলাম, ‘চোখে দেখো না, কানে দেখো তুমি’।” অভিষেকের জন্যই কি শেষ হয়ে গেলেন মমতা? মদনও যে চলে গেলেন? জবাবে কোনও রাখঢাক না করেই অনুব্রত বলেন, “ওর জন্যই শেষ হল। হ্যাঁ (অভিষেকের) ওর জন্যই। কেউ থাকবে না।”

‘ঋতব্রত তৃণমূলে’র ২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতি বৈঠকে যোগ দিতে কলকাতায় এসেছিলেন অনুব্রত। আর সেখান থেকেই আক্রমণ শানালেন তিনি। জানালেন, বীরভূম থেকে ৩.৫ কোটি টাকা রাজস্ব পেত রাজ্যের সরকার। পরে সেই টাকা দিনে ৪০ লক্ষ টাকা হয়েছিল। মমতার সঙ্গে থাকবেন কি না জানতে চাইলে অনুব্রত বলেন, “ঋতব্রত তৃণমূল, আমিও তৃণমূল। (মমতার সঙ্গে) অনেক দিন ছিলাম, প্রথম থেকে ছিলাম। এখন তৃণমূলে আছি।”

আরও পড়ুন: ‘মমতা অনেক দিয়েছেন, কিন্তু একটা লোকের জন্য…’, ক্ষমা চেয়ে ‘কালীঘাট তৃণমূল’ ছাড়লেন মদন, অসন্তোষ কি অভিষেককে নিয়ে?

ঘটনাচক্রে এদিন অভিষেককে আক্রমণ করেন মদনও। জানান, অভিষেক মমতার কথা শোনেন না। সবাইকে নিজের মর্জি অনুযায়ী চলতে বাধ্য করে। এমনকি ইডি-র থেকে অভিষেক অনেক বেশি ভয়ঙ্কর বলেও মন্তব্য করেন মদন। আজই ‘কালীঘাট তৃণমূলে’র সব পদ ছেড়ে দেন মদন। জানা গিয়েছে, পরে মমতার তরফে যোগাযোগ করা হলেও, তিনি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে ‘সরি’ লিখে পাঠিয়ে দেন। অভিষেককে আক্রমণ করে বলেন, “অভিষেকের জন্য অনেকেরই জেলযাত্রা হয়েছে, আরও অনেকেরই হবে। আজ বাংলায় যে দাঙ্গা-হাঙ্গামার রাজনীতি, সব কিছুর জন্য যিনি দায়ী, তিনি হলেন অভিষেক।” নির্বাচনের আগে বললে পুলিশে ধরিয়ে দিতে পারত বলেও দাবি করেন মদন।

তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, গত দু’মাসে ‘কালীঘাট তৃণমূল’ থেকে যত নেতা বেরিয়ে এসেছেন, তাঁরা প্রায় সকলেই কাঠগড়ায় তুলেছেন অভিষেককে। সেই নিয়ে আজও অভিষেকের পক্ষই নেন মমতা। তিনি জানান, যাঁদের যাওয়ার, তাঁরা যাচ্ছেন। অভিষেককে বোড়ে করতে হয় হয় বলেই করছেন। অভিষেকের স্ত্রীকেও তদন্তকারীদের কাছে যেতে হয়েছে বলে স্মরণ করিয়ে দেন মমতা।



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.