Voice of Eastern India

Anubrata Mondal: ফিরহাদ, চন্দ্রিমার পর মমতার আরও এক প্রিয় পাত্র, ‘ঋতব্রত শিবিরে’ অনুব্রত যোগ দেওয়ায় ‘হ্যাপি’ কল্যাণ


কলকাতা: গত কয়েকদিনে ইঙ্গিত মিলেছিল। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছেড়ে ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’-এ যোগ দিলেন অনুব্রত মণ্ডল। শনিবার তাঁকেই ফের বীরভূমের জেলা সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হল। কঠিন সময়ে যাদের আঁকড়ে ধরে টিকে থাকতে চেয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁরাও আজ একে একে হাত ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন। ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পর এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রিয় কেষ্টও যোগ দিলেন ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে।

আরও পড়ুন: EPF-এ নমিনি না থাকলে প্রভিডেন্ট ফান্ডে থাকা টাকা পরিবার কীভাবে পাবে?

যদিও শরীর খারাপ থাকায় ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’ শিবিরের ১১ জুলাইয়ের বৈঠকে যোগ দিতে পারেননি অনুব্রত। যদিও ফোনে জানালেন , “ভালভাবে কাজ করব। হান্ড্রেড পার্সেন্ট কাজ করব।” এ নিয়ে অবশ্য কটাক্ষ করেছে ‘কালীঘাট-তৃণমূল’। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,”আমি খুব হ্যাপি যে অনুব্রতকে নিয়েছে।”

ফিরহাদ হাকিম, অরূপ রায়, অরূপ বিশ্বাস থেকে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য; বিধানসভা নির্বাচনের ভরাডুবির পর থেকে একে একে সকলেই ‘কালীঘাট-তৃণমূল’-এর সঙ্গ ছেড়েছেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ অনুব্রত মণ্ডলের নাম। অর্থাৎ এবার প্রিয় দিদির হাত ছাড়লেন তাঁর স্নেহের কেষ্ট-ও!

জাতীয় কর্মসমিতি, রাজ্য কমিটির পর শনিবার তপসিয়ার বোট ক্লাবে জেলা কমিটি গঠন নিয়ে বৈঠকে বসেছিল ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’ শিবির। সেই বৈঠকেই বীরভূমের জেলা সভাপতি হিসেবে অনুব্রত মণ্ডলের নাম চূড়ান্ত হয়। শারীরিক অসুস্থতার কারণে এদিনের বৈঠকে যোগ দিতে না পারলেও, ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’ শিবিরের সিদ্ধান্তে তিনি যে খুশি তা খোলাখুলি জানিয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল। তিনি বলেন, “ভালই করেছে। দলটা চাঙ্গা হবে। আজকে ওয়ার্কিং কমিটি যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে গোটা রাজ্যের ওপরে, সেই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই।”

তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যত কয়লা চোর, যত গরু চোর, যত পাথর চোর, যত ডাকাত, যত লুম্পেন তৃণমূলে ছিল, সব চলে গেছে। আমরা খুব হ্যাপি। আমি খুব হ্যাপি যে অনুব্রতকে নিয়েছে।”

অনুব্রত মণ্ডল, বীরভূমের একসময়ের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা। একসময় বীরভূমে অনুব্রত মণ্ডল মানেই ছিল শেষ কথা! অন্যদিকে তাঁকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে একাধিকবার হুমকি-হুঁশিয়ারির অভিযোগ উঠলেও, এমনকী গরুপাচার মামলায় তাঁকে গ্রেফতারের পরও কেষ্টর পাশেই দাঁড়াতে দেখা গেছে তৃণমূল নেত্রীকে।

দলনেত্রী সম্পর্কেও এদিন খোলাখুলি কথা বলেন অনুব্রত মণ্ডল। তিনি বলেন, “মধুর সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কে কী করে ভাটা পড়ল সেটা মমতা ব্যানার্জিই বলতে পারবে। আমি বলতে পারব না। আমার সঙ্গে দিদির সম্পর্ক এখনও ভাল। উনি কথা বললে আমি কথা বলব। কথা বলতে আপত্তি কী আছে।”

বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলছেন, “মানুষ সবাই দেখেছেন, কে কাকে স্নেহ করতেন, কে কার অনুগামী ছিলেন। তারপরেও কে কোনদিকে যাচ্ছেন, যারা যাচ্ছেন তাদের নিশ্চয়ই নির্দিষ্ট কোনও কারণ আছে।”

২০১১ সাল থেকে, বীরভূমে ভোট মানেই চোখ বন্ধ করে অনুব্রত মণ্ডলের ওপর ভরসা করতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ছবিটা বদলে যায় এবারের বিধানসভা ভোটের আগে। প্রকাশ্য মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অনুব্রত মণ্ডলের ছবিই বলে দিচ্ছিল বীরভূম তৃণমূলে ‘অল ইজ নট ওয়েল’। ভোটে ভরাডুবির পর এদিন ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’ শিবিরে যোগ দিয়ে ফের একবার আইপ্যাককে নিশানা করেছেন তিনি। 

আইপ্যাক নিয়ে অনুব্রত মণ্ডল বলেন, “আইপ্যাক দলটাকে শেষ করেছে। ২০০৯-এ তো আইপ্যাক ছিল না। একটা UP-র ছেলে তার কী নলেজ আছে মুরারই সম্পর্কে? একটা রাজস্থানের ছেলে তার লাভপুর-নানুর সম্পর্কে কী আইডিয়া আছে? তারা দল চালাবে। তারা টাকা তুলতে এসেছিল।” সবমিলিয়ে ‘কালীঘাট-তৃণমূল’ শিবিরের ভাঙন যেন থামছে না।



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.