বীরভূম: অনুব্রত মণ্ডলের আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর। অনুব্রত মণ্ডলকে আগাম জামিন দিলেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। ইটভাটায় গন্ডগোল, লুঠ ও অশান্তির অভিযোগে দায়ের হয় মামলা। জেলা আদালতে আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অনুব্রত মণ্ডল(Anubrata Mondal)।
এর আগে গত ৩০ মে এই মামলায় শান্তিনিকেতন থানায় অনুব্রত মণ্ডলের নামে FIR দায়ের করা হয়েছিল। শুভেন্দু বিকাশ মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি শান্তিনিকেতন থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এফআইআর দায়ের হয় অনুব্রত-সহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে। এদিন আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী যেহেতু ঘটনাটি ২০২১ সালের, আর FIR হয়েছিল ২০১৬ সালে, তাই এই মামলার তদন্ত চলবে, কিন্তু তার জন্য অনুব্রতকে হেফাজতে নেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই বলেই মনে করছেন বিচারপতি।
উল্লেখ্য, বীরভূমের তৃণমূলের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডল একটা সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের স্নেহধন্য ছিলেন। কিন্তু রাজ্য়ে পালাবদলের পরই অনেক কিছুই বদলে গিয়েছে গত কয়েক মাসে। মমতা শিবির ছেড়েছেন অনুব্রত। যোগ দিয়েছেন ঋতব্রত তৃণমূল শিবিরে। এমনকী প্রকাশ্যে জেলে যাওয়ার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়কেও দায়ী করেছিলেন। গত ২১ জলাই ঋতব্রত শিবিরের অনুষ্ঠানে এদিন হাজির ছিলেন অনুব্রত মণ্ডলও। সেখান থেকে তিনি তাঁর বক্তব্য রাখলেন। বললেন শহিদ পরিবারের জন্যই আজ তৃণমূল এত বড় হয়েছে। ঋতব্রত শিবিরের বীরভূম তৃণমূলের জেলা সভাপতি কেষ্ট মণ্ডল বললেন, ‘শহিদ দিবসে আমরা প্রথম থেকে ছিলাম। এখনও আছি। অরূপ রায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি। রাজ্যের প্রেসিডেন্ট বিপ্লব বাবুও আছেন। ঋতব্রত আছেন। সবাই এখানে আছেন। আমি প্রথমেই প্রণাম জানাই শহিদ পরিবারকে। শহিদ পরিবার না থাকলে, তৃণমূলের এত বাড়বাড়ন্ত হত না। এর জন্যই শহিদ পরিবার মেন।’ সেই মঞ্চেই অনুব্রত মণ্ডলকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে তৃণমূল কেমন? তৃণমূল আসলে কী? সে সবই বললেন অনুব্রত মণ্ডল। তিনি বললেন, ‘তৃণমূল মচকায় তবু ভাঙবে না। তৃণমূকে ভাঙা যায় না। তৃণমূলকে ভয় দেখানো যায় না। তৃণমূল ভয় পায় না। আজকের দিনে শপথ নিয়ে বলতে হবে, যাঁরা সামান্য চুড়ুম বুড়ুম করছেন, করবেন না। দলটা হল তৃণমূল। মানুষের পাশে থাকে, খেটে খাওয়া মানুষের পাশে থাকে, গরীব মানুষের পাশে থাকে, দিনমজুরের পাশে থাকে, কৃষকের পাশে থাকে, বেকার ছেলে মেয়েদের পাশে থাকে। এর নাম হল তৃণমূল।’
