Voice of Eastern India

Anti Social Activities Bill : গুণ্ডা কারা ? সমাজবিরোধী কাজ কী কী ? কীভাবে শাস্তি ? রাজ্য আনছে নয়া বিল


কলকাতা : যেমন কথা, তেমন কাজ। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরই দুর্নীতি-তোলাবাজি, অপরাধমূলক কাজ রুখতে একের পর এক কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। এবার এই সমস্ত অপরাধমূলক কার্যকলাপ রুখতে আনা হচ্ছে ৩টি নতুন বিল, যা পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে প্রথমবার। ‘পশ্চিমবঙ্গ জন নিরাপত্তা ও সমাজবিরোধী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ বিল ২০২৬’, ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল মেনটেনেন্স অফ পাবলিক অর্ডার অ্যামেন্ডমেন্ট বিল’ এবং অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল। 

সমাজবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কড়া আইন আনছে রাজ্য সরকার। সোমবার বিধানসভায় গুন্ডা দমন বিল পেশ হতে চলেছে। গুজরাত, উত্তরপ্রদেশের পর পশ্চিমবঙ্গেও গুন্ডা দমনে কড়া আইন আনছে রাজ্য। ক্ষমতায় এসেই গুন্ডা দমনে কড়া আইন আনার বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার তা কার্যকর করার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

সমাজবিরোধী কার্যকলাপ বলতে কাকে বলা হয় ?

১. বিলে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ‘সমাজবিরোধী কার্যকলাপ’ বলতে এমন কার্যকলাপ বোঝাবে যা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাধারণ মানুষ বা তাদের একাংশের মধ্যে আতঙ্ক, বিপদ, ভয় বা নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে বা করার সম্ভাবনা তৈরি করে। মানুষের জীবন, ব্যক্তি বা সম্পত্তির জন্য গুরুতর বিপদ সৃষ্টি করে।

২. এমন কাজ যা শৃঙ্খলা বা শান্তিকে বিঘ্নিত করে। কোনও অধিকার বা বৈধ ব্যবসা, বাণিজ্য, পেশা বা জীবিকায় বাধা সৃষ্টি করে। কাউকে স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি থেকে বেআইনিভাবে উচ্ছেদ করে। 

৩. সরকারি বা ব্যক্তিগত সম্পত্তির উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করা অথবা খনি, পাথর খাদান, বালি তোলা, বনজ সম্পদ বা বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত যে কোনও অবৈধ কার্যকলাপ, যা সরকারি কোষাগারের বড় ক্ষতি করে।

আরও পড়ুনলাভ জিহাদের শিকার? জোর করে ধর্মান্তকরণ ? আসছে আইন, কী ঘটবে? জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

গুণ্ডা কাদের বলা হবে ?

‘গুন্ডা’ বলতে কাদেরকে বোঝানো হবে, তাও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে এই বিলে। যে ব্যক্তি নিজে অথবা কোনও দল, গ্যাং বা সিন্ডিকেটের সদস্য বা নেতা হিসেবে নিয়মিতভাবে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ করেন, করার চেষ্টা করেন, উসকানি দেন, প্রচার করেন, অর্থ জোগান দেন বা অপরাধমূলক কাজে সহায়তা করেন, তাদের গুণ্ডা বলা হবে। 

ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩-এর ধারা ১১১ বা ১১২-এর অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধে চার্জশিট পাওয়া কোনও ব্যক্তি। অস্ত্র আইন ১৯৫৯, মাদক আইন ১৯৮৫, অনৈতিক পাচার (প্রতিরোধ) আইন ১৯৫৬ বা ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেন, করার চেষ্টা করেন, সাহায্য করেন, প্রচার করেন বা অর্থ জোগান দেন এমন ব্যক্তিকে বলা হয়। সমাজের কাছে বিপজ্জনক ও দুর্ধর্ষ ব্যক্তিকেও গুন্ডা হিসেবে বিলে উল্লেখ করা হয়েছে।

কীভাবে শাস্তি ?

অনেকের মনে প্রশ্ন, এই বিলের আওতায় কীভাবে কাউকে আটক করা হবে? কার রিপোর্টের ভিত্তিতেই বা তা করা হবে? এক্ষেত্রে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, কোনও সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করতে হলে পুলিশ সুপার বা তাঁর ওপরের পদমর্যাদার আধিকারিকের রিপোর্ট লাগবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে রাজ্য সরকার আটকের নির্দেশ দিতে পারবে। গত ৭ বছরের মধ্যে কোনও ব্যক্তি যদি কোনও অপরাধে অন্তত একবার আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়ে থাকেন, অথবা একই ঘটনার অংশ নয় এমন কমপক্ষে ৩ টি পৃথক মামলায় চার্জশিটভুক্ত হয়ে থাকেন, তাঁকেও আটক করা যাবে। CP বা DM আটকের নির্দেশ দিলে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে থাকা তথ্যপ্রমাণ দিয়ে অবিলম্বে রাজ্যের DGP-কে জানাতে হবে।



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.