Abhishek Banerjee : অভিষেকের সম্পত্তি নিয়ে নোটিস পুরসভার, কিন্তু দায় এড়াচ্ছে তৃণমূলের অনেকেই ! কেন চুপ ?
কলকাতা : বিধানসভা নির্বাচনের পর তাসের দেশের মত ভেঙে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সবচেয়ে বিপদে পড়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ, একদিকে যখন অভিষেকের উপর ক্ষোভ দেখিয়ে দল ছাড়ছেন কাউন্সিলর, নেতা, সাংসদ-বিধায়করা। ঠিক অন্যদিকে তখন ED,CID ও কলকাতা কর্পোরেশনের সাঁড়াশি চাপে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সভাপতি। আবারও অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের কোম্পানি ও তাঁর আত্মীয়দের সম্পত্তি নিয়ে নোটিস ধরিয়েছে কলকাতা পুরসভা। প্রথমে বিল্ডিং ডিপার্টমেন্ট, তারপর অ্য়াসেসমেন্ট ডিপার্টমেন্ট। কিন্তু মজার ব্যাপার হল, কলকাতার মেয়র থেকে তৃণমূলের মুখপাত্র কেউই এনিয়ে দায় নিতে নারাজ। মেয়র বলছেন, এটা তাঁর জানার কথাই নয়। আর তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের মন্তব্য়, যার নাম জড়িয়েছে, তিনিই উত্তর দেওয়ার সঠিক ব্যক্তি। কিন্তু কেন চুপ সকলে? উঠছে প্রশ্ন।
কলকাতা পুরসভার স্ক্য়ানারে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের কোম্পানি ও আত্মীয়স্বজনের সম্পত্তি। প্রথমে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের তরফে পাঠানো হয় ১৭টা নোটিস। তারপর সম্পত্তির চরিত্র বদলের অভিযোগে অ্য়াসেসমেন্ট বিভাগের তরফে নোটিস দেওয়া হয়। আর এই নোটিস নিয়েই তৃণমূলের অন্দরেই এখন তোলপাড়। অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের কোম্পানি ও তাঁর পরিবারের সদস্য়দের একাধিক ঠিকানায় যে ১৭টা নোটিস পাঠিয়েছে কলকাতা পুরসভা, তার মধ্য়ে ১৪টি গেছে ৯ নম্বর বরো থেকে। যার চেয়ারপার্সন পদে ছিলেন দেবলীনা বিশ্বাস।
প্রথমে ভোটে মহা-বিপর্যয়। এক লহমায় চুরমার ১৫ বছরের সাম্রাজ্য়। রথী-মহারথীদের কার্যত রাজনৈতিক সন্ন্য়াস নেওয়ার মতো করুণ পরিস্থিতি। তারপর অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের কোম্পানি ও তাঁর আত্মীয়দের সম্পত্তি নিয়ে কলকাতা পুরসভার লম্বা নোটিস। প্রথমে পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের তরফে। তারপর পুরসভার অ্য়াসেসমেন্ট বিভাগের তরফে। যার দায় নিতে রাজি নন তৃণমূলের কেউই। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই নোটিশ নিয়ে কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানান, ” মেয়রকে জানানোর কথাই নয়। তার কারণ হচ্ছে, নোটিসটা হচ্ছে বিল্ডিং ডিপার্টমেন্টের।”
অন্যদিকে আবার অভিষেকের সম্পত্তি নিয়ে পুরসভার নোটিশ সম্পর্কে তৃণমূলের বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ জানান, ”এই বাড়ি, এই বিষয়টা, বাড়ি, নোটিস ইত্যাদি যার নাম জড়িয়েছে, তিনিই উত্তর দেওয়ার সঠিক ব্যক্তি।” তৃণমূলের আর এক বিধায়ক সন্দীপন সাহা জানান, ”শান্তিনিকেতন বাড়িতে উনি থাকতেন সেটা জানি, সেখানে আমি কখনও প্রবেশ করিনি।”
এরইমধ্য়ে ফলতা পুনর্নির্বাচনের মুখে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের ডান হাত বলে পরিচিত জাহাঙ্গির খান বিনা যুদ্ধে, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়েছিলেন! বর্তমানে তিনি গ্রেফতারও হয়েছেন। ডায়মন্ড হারবার মডেল শেষ হতেই মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের সামনেই কার্যত ঘুরিয়ে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের কতৃত্বকে চ্য়ালেঞ্জ করা হচ্ছে। খোদ মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের ডাকা বৈঠতে উপস্থিত থাকছেন না বহু নেতা। সব মিলিয়ে তৃণমূলের অন্দরে কার্যত ‘গৃহযুদ্ধে’র পরিস্থিতি। দুই ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। অর্থাৎ কালীঘাট তৃণমূল আর বিদ্রোহী তৃণমূল।
TMC News: শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের খেলার মাঠের ঘর থেকে উদ্ধার প্রচুর ত্রাণ সামগ্রী
