সমীরণ পাল, বারাসাত ও মধ্যগ্রাম: আস্ত একটা বিশাল জলাশয়, ৩৫ বিঘারও বেশি এলাকা জুড়ে। সেই জলাশয়ই নাকি বুজিয়ে দেওয়া হচ্ছিল।বারাসাত এক নম্বর ব্লকের পশ্চিম খিল্কাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নেতাজি পল্লীতে পূর্বতন শাসকদলের (Trinamool Congress) বিরুদ্ধে পুকুর ভরাটের অভিযোগ। তবে রাজ্যে পালাবদল হতেই নড়েচড়ে বসল প্রশাসন।
অভিযোগের ভিত্তিতে এদিন দত্তপুকুর থানার পুলিশ গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করে দেখল। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ পুকুরে একাংশের মাটি তুলে অন্য অংশে ভরাট করা হচ্ছে বিগত কয়েক বছর ধরে। আর তাতেই দুর্ভোগ। এর জেরে বৃষ্টি এলেই এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। পরিস্থিতি এতটাই দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে যে বর্ষায় বাসিন্দাদের বেশ কয়েকজনকে ওই এলাকা, ওই অংশ ছেড়ে বাড়ি ভাড়া নিয়ে অন্যত্র চলে যেতে হচ্ছে। বারবার শাসকদল ও প্রশাসনকে বলে কোন লাভ হয়নি।
আরও পড়ুন:- পুলিশের জালে জাহাঙ্গির ঘনিষ্ঠ আরেক তৃণমূল নেতা বাপি
তবে এবার আর নয়, পালাবদল হতেই সঙ্গবদ্ধ হয়েছেন গ্রামবাসীরা। তাদের সমস্যার সমাধান করতে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখেছে দত্তপুকর থানার পুলিশ। জলাশয় ভরাটের তথ্য মানতে নারাজ তৃণমূল। তাদের বক্তব্য পুকুর সংস্কার করে তিনটি ঘাট তৈরি করা হয়েছে। একটি ক্লাবকে জমি দান করে দানপত্র তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনওভাবেই জলাভূমি ভরাট করা হয়নি।
অপরদিকে, বারাসাতের অদূরে মধ্যমগ্রাম বিধানসভার কেমিয়া খামারপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়ও একইরকম অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের আঙুল সেই তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে। তবে রাতের অন্ধকারে তৃণমূল নেতাদের পুকুর ভরাট রুখে দিলেন বিজেপি নেতা কর্মীরাই। ইতিমধ্যেই একটা বড় পুকুর ভরাট করা হয়ে গিয়েছে এবং দ্বিতীয় পুকুরটি ভরাট করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল বলে অভিযোগ। গতকাল রাতে মাটি, পাথর বোঝাই ডাম্পার এলাকায় ঢোকার খবর জানতে পেরে বিজেপি নেতাকর্মীরা ছুটে আসে। তারপর তারাই পদক্ষেপ নিয়ে পুকুর ভরাট বন্ধ করে দেন।
