Voice of Eastern India

TMC News: কোন কৌশলে মমতা-অভিষেককে মাত দিলেন ঋতব্রতরা? জোড়াফুল চিহ্নের হাতবদল এখন সময়ের অপেক্ষা


কলকাতা: নেত্রী হিসেবে এখনও মমতা বন্দ্যাপাধ্য়ায়ের নাম নিচ্ছেন উঠতে বসতে। কিন্তু তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে ঐক্যের সুর কমপক্ষে ৬০ বিধায়কের মধ্যে। সেই মতো বিধানসভায় পৌঁছে গিয়েছেন তাঁরা। মহারাষ্ট্র মডেলকে সামনে রেখে ‘নতুন তৃণমূল’ গড়া আর সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কিন্তু দলে যে বিদ্রোহ বাসা বেঁধেছে, তা কি বুঝতে পারেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা? এখন যখন বিদ্রোহ প্রকাশ্য়ে তাও কেন কোনও পদক্ষেপ করছেন না? এক্ষেত্রে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহারা কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন। ফলে আগামী দিনে ঘাসফুল প্রতীকীচিহ্নও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাায়ের হাতে থাকবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান অনেকেই।

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রতীকচিহ্নে জয়ী হন ৮০ জন বিধায়ক। বিদ্রোহের জেরে ঋতব্রত এবং সন্দীপনকে বহিষ্কার করা হয়। ফলে বিধায়ক সংখ্য়া এসে ঠেকে ৭৮-এ। তৃণমূলের তরফে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু সেই নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়। অভিযোগ ওঠে সই জালিয়াতির।

এতকিছুর পরও তৃণমূলের ৭৮ জন বিধায়কের মধ্যে ৪১ জন যদি উঠে দাঁড়িয়ে বা চিঠি দিয়ে বিরোধী দলনেতার নাম প্রস্তাব করতেন, তাহলে সেই ব্যক্তিই বিরোধী দলনেতা হতেন। কিন্তু এক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিত। দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় চলে আসতেন ওই বিধায়করা। তাঁরা দলের সিদ্ধান্ত মানছেন না বলে অভিযোগ দায়ের করতে পারতেন শোভনদেব, কুণাল ঘোষরা।

তাই একেবারে বুঝেশুনে কৌশলী পদক্ষেপ করেছেন ঋতব্রত, সন্দীপনরা। কারণ সংবিধানের নিয়ম বলছে, দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা যে গোষ্ঠীর সঙ্গে থাকে, তারাই নিজেদের আসল দল বলে দাবি করতে পারে। সেই মতোই বুধবার তিন ভাগের দুই ভাগ বিধায়ক বিধানসভায় বৈঠক করছেন। ৫২ জন হলেই হয়ে যেত। তবে তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়কের সংখ্য়া প্রায় ৬০। এই ৬০ জন যে সিদ্ধান্ত নেবেন, তা-ই ‘আসল তৃণমূলে’র সিদ্ধান্ত হিসেবে গৃহীত হবে। কারণ দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন যার দিকে থাকে, তাদের হাতেই দলের ‘মালিকানা’ ওঠে। সেই মতোই স্পিকারের কাছে দাবি জানাবেন ঋতব্রত এবং সন্দীপনরা। জানাবেন, তাঁরাই ‘আসল তৃণমূল’। তাঁরা নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকে বিরোধী দলনেতা করতে চান।

দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়ককে স্পিকারের কাছে সশরীরে হাজির না করে, সই সংগ্রহ করে চিঠি দিয়েও একই দাবি জানাতে পারতেন। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর কথা মাথায় রেখেই তা এড়ানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ সেক্ষেত্রে পরবর্তীতে কোনও বিধায়ক বলতেই পারতেন যে তিনি সই করেননি। অথবা তাঁকে জোর করে সই করানো হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায় ফোন করলে, শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদলও করতে পারতেন কেউ। তাই ৬০ বিধায়ককে সশরীরে স্পিকারের কাছে হাজির করানো হয়েছে। সকলে মিলে দাবি করবেন তাঁরাই ‘আসল তৃণমূল’। এই মুহূর্তে বৈঠক চলছে তাঁদের। সেখানে রেজলিউশনে সই করে স্পিকারের কাছে জমা দেবেন। বেছে নেবেন বিরোধী দলনেতা। আদায় করে নেবেন বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি। 

এর আগে মহারাষ্ট্রে উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরের সঙ্গে এই ঘটনা ঘটেছিল। তাঁর বাবা বালাসাহেব ঠাকরের শিবসেনায় ভাগ বসিয়েছিলেন একনাথ শিন্ডে। তবে পশ্চিমবঙ্গে এই ঘটনা প্রথম। নিজের তৈরি দলই হাতছাড়া হতে পারে মমতার।



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.