Voice of Eastern India

Trinamool Controversy: দুর্নীতি থেকে জালিয়াতি, ‘হুইসল ব্লোয়ার’ সন্দীপন, ঋতব্রত বলছেন, ‘কাউকে তো বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধতে হবে’


কলকাতা: শাসক থাকাকালীন ভূরি ভূরি দুর্নীতির অভিযোগ। বিরোধী হয়েও অভিযোগ উঠছে জালিয়াতির। আর সেই জালিয়াতির অভিযোগ তুলছেন খোদ তৃণমূলের বিধায়করাই। ওই দুই বিধায়কের নাম প্রকাশ্যে নিয়ে এলেন মুখ্যমন্ত্রীই। আর সেই দুই বিধায়কও বললেন যা করেছেন, ঠিক করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বললেন, ২ জন বিধায়ক, মাননীয় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা অভিযোগ করেছেন। কী বলছেন এই দুই বিধায়ক? এন্টলির বিধায়ক সন্দীপন সাহা বলছেন, “এর থেকে নিয়ম বহির্ভূত ও অনৈতিক কাজ আর কিছু হতে পারে কি? হুইসল ব্লোয়ার হিসাবে আমি আর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কাজ করেছি।” আবার পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, “আমরা চিঠি দিয়ে অভিযোগ করেছিলাম। কাউকে না কাউকে তো বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধতে হবে।”

এই সব খবর সামনে আসতেই উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও এন্টলির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করে তৃণমূল। তাতে যদিও তাদের কিছু যে আসেনি। এন্টলির বিধায়ক সন্দীপন সাহা বলছেন, “একেই এত দুর্নীতি, সেগুলো এবার সামনে আসছে। বিভিন্ন জায়গায় জনরোষ, মানুষ না না প্রশ্ন করছে। সেটা কি যথেষ্ট ছিল না? যে এর উপরও আবারও একটা সই জালিয়াতির কাণ্ড করতে হল দলকে?” আবার উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, “আমি দেখেছি যে বিধায়ক নেই, সই করতে গিয়ে দেখেছি তাঁর নাম লেখা। স্বাভাবিক ভাবেই আমরা স্পিকারকে গোটা বিষয়টা জানিয়েছি।” অন্য দিকে, মধ্য হাওড়ার তৃণমূল বিধায়ক অরূপ রায় বলেন, “যে সইটা আমার কাছে নিয়ে এসেছিল সিআইডি, সেটা আমার নয়। রেজলিউশনে কাগজে আমাকে যে সইটা দেখিয়েছে, সেটা আমার নয়।” 

অভিযোগ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা হবেন, এই মর্মে একটা প্রস্তাব নিয়েছিল তৃণমূল। তৃণমূলের বিধায়কদের সই সহ সেই প্রস্তাব জমা দেওয়া হয় বিধানসভায়। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সেখানে সই জালিয়াতি নিয়ে তৃণমূলের টিকিটে জেতা দুই বিধায়ক অভিযোগ জানান। ঘটনার তদন্তে ২৮ মে চৌরঙ্গীর তৃণমূল বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক বাহারুল ইসলামের বাড়িতেও পৌঁছে যায় সিআইডি। বাহারুল ইসলাম জানান, তাঁকে যে সই দেখানো হয়েছে তা তিনি করেননি।

বিধায়কদের সই সহ চিঠিটি পাঠিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তৃণমূলের ২ বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা সরাসরি নিশানা করেছেন তাঁকেই। উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, “মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করব, সাধারণ সম্পাদকের অফিসের যাঁরা ছিলেন, তাঁদেরও তদন্তের আওতায় আনা দরকার।” এন্টলির বিধায়ক সন্দীপন সাহা বলছেন, “একটা অ্যাটেনডেন্স খাতকে রেজলিউশনে পরিণত করে অনুপস্থিতি বিধায়কদের নাম ব্লক লেটরে লিখে সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সেটা মাননীয় অধ্যক্ষের কাছে পাঠিয়ে দিলেন রেজলিউশন হিসাবে। এর থেকে এর থেকে নিয়ম বহির্ভূত ও অনৈতিক কাজ আর কিছু হতে পারে কি?”

এই প্রেক্ষাপটেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “চিঠি যিনি পাঠিয়েছেন তাঁকে জবাবদিহি করতে হবে। কেন তিনি প্রতারণা করেছেন? আইনে যা ব্যবস্থা আছে, তাইই হবে।” আর এই ঘটনাতেই শনিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান সিআইডি আধিকারিকরা। নোটিস দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে। ঘটনা যেদিকে এগোচ্ছে তাতে ‘জালিয়াতি’র জল বহুদূর গড়াবয়ে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.