Voice of Eastern India

Bankura News: বেসরকারি কারখানায় চুল্লি ফেটে আহত তিনজন শ্রমিক, শ্রমিক নিরাপত্তায় গাফিলাতির অভিযোগ


প্রসূন চক্রবর্তী, বড়জোড়া: বাঁকুড়ার বড়জোড়া শিল্প তালুকে বেসরকারি কারখানায় চুল্লি ফেটে আহত তিনজন শ্রমিক, কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শ্রমিক নিরাপত্তায় গাফিলাতির অভিযোগ।

আজ ভোরে বেসরকারি কারখানায় চুল্লি ফেটে গুরুতর জখম হলেন তিজন শ্রমিক। ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়ার বড়জোড়া ব্লকের ঘুটগড়িয়া এলাকায় থাকা একটি কারখানায়। আহত তিন শ্রমিককে প্রথমে বড়জোড়া সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাঁদের দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনার পর কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শ্রমিক নিরাপত্তার গাফিলাতির অভিযোগ আনা হচ্ছে। 

বাঁকুড়ার বড়জোড়া শিল্প তালুকে একের পর এক কারখানায় দূর্ঘটনা অব্যাহত। আজ সকালে ওই শিল্প তালুকে থাকা স্থানীয় মান কনকাস্ট প্রাইভেট লিমিটেড নামের একটি ইস্পাত কারখানায় যখন পুরোদমে উৎপাদনের কাজ চলছিল সেই সময় আচমকাই কারখানার একটি চুল্লি ফেটে যায়। চুল্লিতে থাকা গলিত লোহা ছিটকে পড়ে চুল্লির আশপাশে। সেই সময়ই চুল্লির পাশে কর্মরত অবস্থায় থাকা তিন শ্রমিকের গায়ে ছিটকে পড়ে গলিত লোহা। গুরুতর আহত হন জীবন ঘোষ, শিবশঙ্কর রায় ও রাজেশ কুমার সিং নামের তিনজন।

আরও পড়ুন:- ভারতবিরোধী মানসিকতা ছড়ানো, পড়াশোনার পরিবেশ শেষ করার চেষ্টা চলছে যাদবপুরে, দাবি অগ্নিমিত্রা পালের 

এই শ্রমিকদের বড়জোড়া সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁদের শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে দুর্গাপুরের বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার পর স্থানীয়দের দাবি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কারখানাগুলির আধুনিকিকরণ না হওয়াতেই বারংবার এমন দূর্ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি তৃনমূলের ১৫ বছরে কারখানাগুলি থেকে শুধু তোলাবাজি করা হয়েছে। শ্রমিকদের নিরাপত্তা বা কারখানার আধুনিকিকরণ নিয়ে কর্তৃপক্ষের উপর কোনো চাপ তৈরি করেনি সরকার। ফলে এই ধরনের ঘটনা বারংবার ঘটে চলেছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বাঁকুড়া জেলাতেই প্রবল বৃষ্টিতে জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় জলের তলায় চলে গিয়েছে দারকেশ্বর নদীর উপর থাকা কেঞ্জাকুড়া সেতু। ফলে চরম সমস্যায় পড়েছেন নদীর দুই পাড়ের বাসিন্দারা। কেঞ্জাকুড়া থেকে কমলপুর হয়ে পুরুলিয়া যাওয়ার ক্ষেত্রে এই সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম। নদীর অপর প্রান্তের বাসিন্দারাও সেতু দিয়ে সহজেই কেঞ্জাকুড়া গ্রামে পৌঁছে যেতে পারেন। সেতুটি দিয়ে যাতায়াত করলে মাত্র প্রায় দু’কিলোমিটারের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছনো সম্ভব হয়।   

কিন্তু টানা বৃষ্টির জেরে সেতুটি জলের তলায় চলে যাওয়ায় সেই যোগাযোগ ব্যবস্থা বর্তমানে ব্যাহত হয়েছে। ফলে নদীর দুই পাড়ের মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, সেতু দিয়ে যাতায়াত বন্ধ থাকায় তাঁদের দীর্ঘপথ ঘুরে যেতে হচ্ছে। যে পথ সেতু ব্যবহার করে মাত্র দু’কিলোমিটারে পেরনো যায়, সেতু দিয়ে যাতায়াত সম্ভব না হলে সেই একই গন্তব্যে পৌঁছতে প্রায় ১৫ কিলোমিটার ঘুরপথে যেতে হয়। এর ফলে শুধু সময়ই নয়, অতিরিক্ত যাতায়াতের সমস্যাতেও পড়েছেন এলাকার মানুষজন। 

 



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.