Voice of Eastern India

Kolkata Fire: কলকাতার ‘শিখা ইন’ যেন ‘মৃত্যুপুরী’ ! প্রাণ বাঁচাতে কেউ দিয়েছেন ঝাঁপ, কেউ দাঁড়িয়েন কার্নিসে, ঠিক কী ঘটেছিল মাঝরাতে ?


কলকাতা: তারাপীঠের রেশ কাটার আগেই ফের আরও এক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। ফের মৃত্য়ু মিছিল বঙ্গে। এই অগ্নিকাণ্ডে ফের প্রাণ গেল শিশুরও। বেঘোরো দমবন্ধ হয়ে প্রাণ হারালেন হোটেলের আবাসিকরা। প্রাণ বাঁচাতে কেউ উপর থেকে ঝাঁপ দেন। কেউ জানলার গ্রিল খুলে বেরিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন কার্নিসে। ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ফের মৃত্যুমিছিল দেখল শহর। অনিয়মই যে এ রাজ্য়ে নিয়মে পরিণত হয়েছে, তা ফের প্রমাণিত হয়ে গেল কলকাতার বুকে এই অগ্নিকাণ্ড থেকে। 

৫০ মিটারের মধ্যে দমকলের সদর দফতর। অর্থাৎ কার্যত দমকলের সদর দফতরের নাকের ডগাতেই অগ্নিকাণ্ডে চলে গেল ৯ জনের প্রাণ। নিয়ম কানুনের যে কোনও বালাই নেই। অধিকাংশ হোটেল কর্তৃপক্ষই যে নিয়ম-বিধি মানে না, টা স্পষ্ট। আর কে কী মানছে, মানছে না, তা দেখার হেলদোলও যে কোনও কর্তৃপক্ষেরই নেই, তা ফের প্রমাণিত হয়ে গেল! বাংলাদেশের নাগরিক কাউসার হোসেন। চিকিৎসার জন্য এসেছেন কলকাতায়। উঠেছিলেন মির্জা গালিব স্ট্রিটের এই ‘শিখা ইন’ হোটেলে। মাঝরাতে ধোঁয়ার দম বন্ধ হয়ে মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে ফিরেছেন কোনওমতে। সাংবাদিকের প্রশ্ন করেন  তিনি জানান, এই যে আগুনটা লেগেছিল এই আগুন থেকে বেরিয়ে আসার জন্য একটা মাত্র সিঁড়ি ছিল।  নামার ও বেরনোর একটা ছোট লিফট আর সিঁড়ি আছে। যা কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেছিল। একদম শ্বাস বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা হয়ে গেছিল।

আরও পড়ুন – কলকাতায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, সরাসরি শুভেন্দুকে আক্রমণ শুভঙ্করের, বললেন, ‘১০০ দিন পেরিয়ে গেল, আপনারা পারছেন না’

বাংলাদেশের আরেক নাগরিক আতিউর রহমান। তিনিও কলকাতায় এসেছেন চিকিৎসা করাতে। কোনওক্রমে মৃত্য়ুর মুখ থেকে ফিরেছেন তিনিও। তিনি জানান, ”আমরা কিছু দেখতে পাইনি। আমাদের রুম থেকে বেরিয়ে এসেছি। ওপরে আগুন লেগেছে, এই বলে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ছিল না”।  কাউসার, আতিউরদের মতো বিভীষিকার সাক্ষী রফিকুল ইসলামও। তিনি বলেন, ”নীচে ছিলাম একদম। আমরা রাত ২টোর দিকে রুমে শুয়েছিলাম। তখন দেখলাম প্রচণ্ড হলকা হচ্ছে। পরে বেরিয়ে এসে দেখলাম যে ওপরে আগুন লেগেছে। ৩ তলায় আগুন লেগেছে।”

তারাপীঠের বাসিন্দা আমিনুল করিম। তিনিও কলকাতায় এসেছেন চিকিৎসার জন্য। ২ দিন আগে তারাপীঠের হোটেলে ঘটে গেছে ভয়ঙ্কর অগ্নিকাণ্ড। প্রাণ গেছে আবাসিকদের। আর তারাপীঠেরই এক বাসিন্দা কলকাতার এই হোটেলে এসে অগ্নিকাণ্ড থেকে কোনওমতে প্রাণে বাঁচলেন। তিনি বলেন, ”অনেক ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল রাতের বেলা। ওখান থেকে খুব কষ্টে বার হতে পেরেছি। আমরা দুই বন্ধু ছিলাম। দুই বন্ধু নিরাপদ ভাবে বেরিয়ে আসতে পেরেছি। বেরিয়ে পালিয়ে আসতে পেরেছি।”
 
বাংলাদেশ থেকে ভারতে বেড়াতে এসেছেন বাংলাদেশের নাগরিক রেজাউর ও তাঁর স্ত্রী। ‘শিখা ইন’ হোটেলের ৫১১ নম্বর রুমে ছিলেন। ঘটনার সাক্ষী হিসেবে তিনি জানান, ”ধোঁয়ায় একদম রুম, বাইরে থেকে ভিতরে ঢুকছিল। বাথরুমের ফাঁক দিয়ে বা অন্য়ান্য, যত এসি থাকে না, ফ্লোরে ২-৩টে এসির মাঝখান দিয়ে ধোঁয়া আসছিল। গ্রিল খুলে আমরা দু’জন বের হয়ে, ওইখানে সানসেটের উপরে যে টিন ছিল, বারান্দাটা এখনও খোলা আছে, একটু জায়গা ছিল দাঁড়ানোর মতো। ওইখানে দাঁড়িয়ে আমরা গ্রিল ধরে ছিলাম।” 



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.