Voice of Eastern India

Asish Banerjee Death Investigation: আশিস বন্দ্য়োপাধ্যায়ের কোন কোন জিনিস নিয়ে তদন্ত ? কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী


কলকাতা: আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু। রামপুরহাটে পার্টি অফিসের ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের দেহ। উদ্ধার হয়েছে তাঁর লেটারহেডে লেখা একটি নোটও। যা ফরেন্সিকে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মোবাইলও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অন্যদিকে কালীঘাট তৃণমূল বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি করেছে। 

রবিবার রামপুরহাটে পার্টি অফিসের ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী আশিস বন্দ্য়োপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহ। পাওয়া গেছে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেটারহেডে লেখা একটি নোটও। পুরো চিঠিজুড়ে লেখা রয়েছে, তিনি কোনওরকম দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নন। শেষে লেখা তাঁর মৃত্য়ুর জন্য কেউ দায়ী নয়। কিন্তু অনেকের মনে প্রশ্ন কেন এই অস্বাভাবিক মৃত্যু ? কেন লিখলেন এই চিঠি? তাই উদ্ধার হওয়া নোট নিয়েও ঘনাচ্ছে রহস্য। এই অবস্থায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনার তদন্ত নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন – অধ্যাপনা থেকে রাজনীতিতে এসেছিলেন ‘মাস্টারমশাই’, গায়ে কালি লাগাই কি মেনে নিতে পারলেন না? আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যমৃত্যু

শুভেন্দু অধিকারী জানান, ”এই নোটটা ফরেন্সিকে যাবে। এটা আসলে তাঁর হাতের অক্ষর কিনা এসব পরীক্ষা করবে। বাড়ির লোক তো বলছেন, আমাদের সঙ্গে সবার সম্পর্ক ভাল, বিজেপির লোকজন তো অধিকাংশই ওঁর ছাত্র, দাদারাও শিক্ষক সম্ভবত। আমি তাদের পাশে দাঁড়ানোর কথা বললাম, বললাম পুলিশকে একটু সহযোগিতা করুন। আমি DGP এবং SP বীরভূমকে নির্দেশ দিয়েছি, মোবাইল ফোনগুলো যেগুলো উনি ব্যবহার করতেন, সেগুলো যদি পুলিশকে দেন, পুলিশ তদন্ত করে দেখবে যে, দুর্নীতিগ্রস্ত কোনও লোকজন ওঁকে ভয় দেখিয়েছে কিনা।” তিনি আরও জানান যে, ”স্বাভাবিকভাবেই কেউ ব্ল্যাকমেলিং করে থাকতে পারে, এগুলো পুলিশের কাজ, দেখবেন মোবাইল ফোন থেকে যদি কিছু পাওয়া যায়।”

এদিকে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে ‘কালীঘাট তৃণমূল’। তাই পুলিশ নয়, বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি করেছে তারা। নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও চিঠি দেবেন বলে জানিয়েছে ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’। ‘কালীঘাট-তৃণমূলের’ বিধায়ক কুণাল ঘোষ জানান, ”পুলিশ ডেকে বলছে অমুক দলে যেতে হবে। থানার ওসিরা বলছেন না? আপনারা বিজেপির হাতের পুতুল হয়ে ভয় দেখাচ্ছেন। প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার এর মৃত্যু সিটিং জাজ দিয়ে তদন্ত হবে না কেন? পুলিশ দিয়ে এই তদন্ত করা যাবে না।”

কী লেখা ছিল তাঁর নোটে ?

ছাত্রাবস্থা থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। কোনও দিনই কোনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হইনি। ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক হয়েছি বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানেও কোনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হইনি। রাজনৈতিক বাগবিতণ্ডা হয়েছে। কখনও শত্রুতার রূপ নেয়নি। সর্বদা সব দলীয় অন্যায়কে মেনে নিতে না পারলেও প্রতিবাদ করতে পারিনি। সারাজীবনে এক পয়সা কোনও কাজের বিনিময়ে নিইনি। এমনকী আমার যে সব ছেলেরা অ্যাটেন্ডেন্ট হয়েছেন, তাঁদের কাছ থেকেও একটা মিষ্টি পর্যন্ত খাইনি। কোনও আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে কখনও জড়িত হইনি। TRDA-তে জেনারেল মিটিং ছাড়া আর কোনও দায়িত্ব ছিল না। আমি টেন্ডার কমিটিতে ছিলাম না। আমার চেক পাওয়ার ছিল না। আমি প্ল্যান পাস বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট ইস্যুর ব্যাপারেও ছিলাম না। আমার সঙ্গে এ বিষয়ে কোনওদিন কেউ-ই আলোচনা করেনি, আমারও এইসব বিষয়ে কোনও আগ্রহই ছিল না। আমাকে কালিমালিপ্ত করার জন্য যা সব করা হল, তাকে ধিক্কার জানাই। আজ তাই মনে হচ্ছে, রাজনীতিতে আসাটাই ভুল হয়েছে। আমার বংশের ছেলেদের রাজনীতি না করারই পরামর্শ দিচ্ছি। ওরা ওদের নিজ নিজ কাজের মধ্যেই থাক। আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। উল্লেখ আছে নোটে।

আরও পড়ুন – ‘FIR করতে বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী, পুলিশ প্রোটেকশন দিতে চেয়েছিলেন’, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথা অনুব্রত মণ্ডলের



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.