কলকাতা: নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার ধর্মতলার আন্দোলন রণক্ষেত্র চেহারা নেয়। মিছিলে চলে গুন্ডামি। পুলিশকে ছোঁড়া হয় জলের বোতল। নিজেদের কর্তব্য পালন করতে গিয়ে আন্দোলনকারীদের হাতে মার খেতে হয় সাংবাদিকদের। সব মিলিয়ে শুক্রবার পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করে। আর এই ঘটনা নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যে বা যারা এই কাজের সঙ্গে জড়িত তাদের সবাইকে কঠিন শাস্তি পেতে হবে।
সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও সমগ্র ঘটনা নিয়ে তীব্র নিন্দা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি জানান, মিছিলে সাংবাদিক ও পুলিশকে টার্গেট করে বোতল ও জুতো ছোড়া হয়। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রতিটা মামলায় যুক্ত করা হয়েছে ‘গুন্ডা দমন আইন’। কারা জড়িত প্রত্যেকের নামও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আফরোজ, নাহিদ, তনভীর, রাহুল ও জামালদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার হুঁশিয়ারিও দেন। তিনি জানান, এমন শাস্তি দেওয়া হবে তিন পুরুষ মনে রাখবে। ইতিমধ্যে ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন – ধর্মতলাকাণ্ডে ধৃত আফরোজের তৃণমূল-যোগ, হাতে বন্দুক নিয়ে ভাইরাল রিলস, কী বলছেন মেটিয়াবুরুজের MLA
রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ফের কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, ”আমি ধন্যবাদ জানাব, যারা পশ্চিমবঙ্গে NEET আন্দোলনের অংশ ছিল। তারা এই ঘটনায় একেবারে জড়িত নয়। আমরা ভাল করে দেখেছি এবং তারা পোস্টও করেছে।” ”কিন্তু যেভাবে সংবাদ মাধ্যমের কর্মীদের মারা হয়েছে, তা নিন্দনীয়। এর বিরুদ্ধে ৭ টা মামলা করা হয়েছে। সব মামলা রিপোর্টাররা করেছেন।” ”গ্রেফতার হয়েছেন ১৪ জন। যাদের ভিডিওতে দেখা গেছে তারা গ্রেফতার হয়েছে। এদের সঙ্গে কাকরোচ পার্টির কোনও যোগ নেই। এরা কেউ ছাত্র নয়। এরা জামাতি, মৌলবাদী এবং ভারতকে অশান্ত করতে, দুর্বল করতে চায়।” ”ওবিসি মামলা করেছিলাম, তাই রাগ করেছে’, ‘খারিজি মাদ্রাসার রেজিষ্ট্রেশন নিয়ে তদন্তে রাগ আছে, তাই এইসব কাজ করছে। যারা ওই মিছিল থেকে হামলা চালিয়েছে, তাদের গুন্ডাদমনে শাস্তি হবে।
‘যারা ওই মিছিল থেকে হামলা চালিয়েছে, তাদের গুন্ডাদমনে শাস্তি হবে”
তিনি আরও জানান, ”তৃণমূল কংগ্রেস জামাতিদের পার্টি। সুতরাং জামাতিদের সঙ্গে যোগ থাকবে এটাই স্বাভাবিক। এদের বন্দেমাতরম বলতেও অসুবিধে আর গাইতেও। ২৬ জানুয়ারি হোক বা ১৫ অগাস্ট হোক, এদের পালন করতেও অসুবিধা। আইনের শ্বাসনের মধ্যে দিয়ে গুন্ডাদের দমন আমরা করব। বাক স্বাধীনতা সবার আছে, কিন্তু এই যে সাংবাদিকদের বেছে বেছে মেরেছে, নির্দয়ভাবে পিটিয়েছে, খুন করার জন্য পিটিয়েছে। এদের সবার গুন্ডাদমন আইনের আওতায় শাস্তি হবে।
