Professor Arrested: ছাত্রীদের বারবার কুপ্রস্তাব, অশালীন আচরণের অভিযোগ, গ্রেফতার কলেজের ভূগোল অধ্যাপক
গোবরডাঙা: উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙায়, ছাত্রীদের সঙ্গে অভব্য আচরণের অভিযোগ। গ্রেফতার হলেন গোবরডাঙা হিন্দু কলেজের কলেজের অধ্যাপক। ধৃত ভূগোলের অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অভব্য আচরণের অভিযোগ। গতকাল এই অভিযোগে উত্তাল হয় কলেজ চত্বর।
অভিযুক্ত অধ্যাপকের গলায় জুতোর মালা পরিয়ে, কাদা মাখিয়ে করা হয় ঝাঁটাপেটা। পরে ঘটনাস্থল থেকে তাঁকে উদ্ধার করে গোবরডাঙ্গা থানার পুলিশ।
জানা গিয়েছে, কলেজেরই এক ছাত্রী ওই অতিথি অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ফোনে বারবার হেনস্থা এবং অশালীন প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন। তাঁর প্রস্তাবে সাড়া না দিলে প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়া হবে। একথা কাউকে জানালে ফল হবে খুব খারাপ। এভাবেই ছাত্রীদের হুমকি দিয়ে, ভয় দেখিয়ে কুপ্রস্তাব ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন অধ্যাপক, এমনটাই জানান হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কলেজের চত্বরে শিক্ষার্থীদের ঘেরাওয়ের মধ্যে ওই অতিথি অধ্যাপককে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাঁকে ডিম মারা হচ্ছে এবং পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার আগে জুতোর মালা পরতে বাধ্য করা হচ্ছে।
ছাত্রীটি জানান, তিনি ও অন্যান্যরা এখন ওই অধ্যাপককে বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন। বলেন, “আমরা চাই তাঁর শাস্তি হোক এবং তাঁকে কলেজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হোক।” পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে। কর্তৃপক্ষ অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গাইঘাটার চাঁদপাড়ার বাসিন্দা সন্দীপ দত্ত দীর্ঘদিন ধরে গোবরডাঙা হিন্দু কলেজে ভূগোল বিভাগের অতিথি অধ্যাপক। নিজের বাড়িতেও তিনি টিউশন পড়ান। অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরে কয়েকজন ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দিতেন সন্দীপ। প্রস্তাবে সাড়া না দিলে প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হত বলেও অভিযোগ। দুই ছাত্রীর দাবি, সম্প্রতি তাঁদেরও একইভাবে ভয় দেখিয়ে চাঁদপাড়ার বাড়িতে ডেকে নিয়ে ভূগোল ‘স্যর’। সেখানে তাঁদের শ্লীলতাহানি করা হয়েছে বলে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ছাত্রীরা।
অধ্যাপকের এহেন কুকীর্তি প্রকাশ্যে আসতেই শুক্রবার কলেজে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্ত অধ্যাপককে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান ছাত্রছাত্রীরা। হেনস্থা ও মারধরের অভিযোগও ওঠে। খবর পেয়ে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অধ্যাপককে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের একাংশ তাঁর গলায় জুতোর মালা পরিয়ে ডিম ছোড়ে বলেও অভিযোগ।এসবের মুখে পড়ে অভিযুক্ত অধ্যাপক নিজের অপরাধ স্বীকার করে প্রকাশ্যে ক্ষমাও চেয়ে নেন।
এনিয়ে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের সদস্য গণেশ বিশ্বাসের দাবি, ওই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্রীরা অভিযোগ জানিয়ে আসছিলেন। অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি। গোটা ঘটনা নিয়ে কলেজের অধ্যক্ষের প্রতিক্রিয়া জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
