21 July TMC Rally: ২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতি তুঙ্গে, কী বলছে ‘ঋতব্রত তৃণমূল’ ? ‘…মূল মঞ্চে থাকবে না মমতার ছবি ‘
সুদীপ্ত আচার্য, সৌমিত্র রায় ও ঐশী মুখোপাধ্যায়, কলকাতা: তৃণমূলের দুই শিবিরে ২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতি তুঙ্গে। একদিকে মেয়ো রোডে সকাল থেকেই শুরু হয়েছে ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’ শিবিরের মঞ্চ বাধার কাজ। অন্যদিকে এদিন বিড়লা তারামণ্ডলের কাছে সভাস্থল খতিয়ে দেখল ‘কালীঘাট-তৃণমূল’। তার আগে এদিন লালবাজারেও বৈঠক করলেন কুণাল ঘোষ, ডেরেক ওব্রায়েনরা। তাঁদের মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি থাকবে না। জানিয়ে দিলেন ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’ শিবিরের বিধায়ক আখরুজ্জামান।
এবার অন্যরকম একুশে জুলাই। ভোটে পর্যুদস্ত হওয়ার পর, ভেঙে খান খান হয়ে গেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। একদিকে ‘কালীঘাট-তৃণমূল’, তো অন্যদিকে ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’। দু’পক্ষই এবার আলাদা আলাদা করে ২১ জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশ করছে। মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির সামনে কর্মসূচি পালন করছে ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’ শিবির। অপরদিকে আদালতের নির্দেশে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে ক্যাথিড্রাল রোডে শহিদ সমাবেশের আয়োজন করছে কালীঘাট-তৃণমূল শিবির।
শনিবার দুই শিবিরেই তৎপরতা ছিল তুঙ্গে। এত বছর ধরে ২১ জুলাই মানেই ছিল মমতা-ময়। মঞ্চ থেকে শুরু করে চারিদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি। তাঁর কাটআউট, ফেসটুন। মঞ্চেও মূল বক্তাও তিনিই। কিন্তু এবার ঋতব্রত-তৃণমূল শিবির শহিদ দিবসের যে মঞ্চ তৈরি করছে, সেখানে থাকছে না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি। রঘুনাথগ়ঞ্জ বিধায়ক আখরুজ্জামান বলেন,’মূল মঞ্চে মমতার ছবি থাকবে না। গান্ধী, অম্বেডকর, রবীন্দ্রনাথ, নজরুলের ছবি। শহিদদের নাম থাকবে। পরিবার আমাদের সঙ্গে থাকবে। সামনের সারিতে বসবে কোনও নেতার। ‘
এদিন ভোররাত থেকে মেয়ো রোডে ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’ শিবিরের শহিদ দিবসের মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হয়। কিন্তু সকালের দিকে অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে কাজ আটকে দেওয়া হয় সেনার তরফে। পরে বিকেলের দিকে সভাস্থল খতিয়ে দেখতে আসেন ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’ শিবিরের চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ বিশ্বাস, জাভেদ খান, আখরুজ্জামানরা। ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’ সূত্রে খবর, ২১ জুলাইয়ের মূল বক্তা অরূপ রায় এবং বিপ্লব মিত্র।
অন্যদিকে, একাধিক শর্ত বেঁধে দিয়ে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে ‘কালীঘাট-তৃণমূল’কে শহিদ দিবসের কর্মসূচি পালনের অনুমতি দিয়েছে হাইকোর্ট। সেইমতো এদিন সকালে মঞ্চ বাধা-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে জয়েন্ট সিপি হেড কোয়ার্টার্স সুদীপ সরকারের সঙ্গে বৈঠক করেন কুণাল ঘোষ, ডেরেক ও’ব্রায়েন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়রা। বেলেঘাটা বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে একটা সহযোগিতামূলক, পারস্পরিক সমন্বয়ের বৈঠক করার জন্য, তো আমরা সেই বৈঠকটি করেছি। যাতে পরে আবার এ নিয়ে কোনও বিকৃত প্রচার অথবা কোনওরকম সমস্যা তৈরি, জটিলতা তৈরি না হয়, ফলে পুলিশও সেটা মেনেছেন।
এরপর বিকেলের দিকে সভাস্থল পরিদর্শন করতে যান কুণাল ঘোষ, দোলা সেন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, শুভাশিস চক্রবর্তীরা। চলে মাপজোক।’কালীঘাট-তৃণমূল’ সূত্রে দাবি, ক্যাথিড্রাল রোডের পশ্চিম দিকের ফ্ল্যাঙ্কে মঞ্চ করা হবে। মঞ্চের মুখ থাকবে ধর্মতলার দিকে। (‘কালীঘাট-তৃণমূল’) বেলেঘাটা বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, পুলিশ বলছিল এদিকে করার। আমরা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী করবে। লক্ষ্য হচ্ছে তৃণমূলকে বাধা দেওয়া। তাদের তো কোনও অসুবিধা হচ্ছে না। আমাদের জন্য রাস্তা আটকাবে। (‘ঋতব্রত-তৃণমূল’) রঘুনাথগ়ঞ্জ বিধায়ক আখরুজ্জামান বলেন, ৮০ হাজার ব্যাজ চলে গেছে জেলায় জেলায়। সংখ্যা বলতে পারছি না। কর্মীদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয় তারজন্য ছাউনি। এত লোক হবে। এদিন ২১ জুলাই নিয়ে বাঁকুড়ায় প্রস্তুতি সভা করেন ‘কালীঘাট-তৃণমূল’-এর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র।
