বীরভূম : উৎপত্তি সুদূর ইন্দোনেশিয়া, বিস্তৃতি রয়েছে ইউরোপেও। সেই বাটিক শিল্প, রবি ঠাকুরের মাধ্য়মে ভারতে এসে পেয়েছিল নয়া রূপ। কখনও এই শিল্পের প্রসার ঘটিয়েছেন তাঁর পুত্রবধূ প্রতীমা দেবী। কখনও তাতে ভারতীয় নন্দনতত্ত্বকে জুড়েছেন শিল্পাচার্য নন্দলাল বসু। সময়ের কালে জাভার বাটিক ভারতে এসে পরিচয় পেয়েছে ‘শান্তিনিকেতনী বাটিকের’। এবার রাঙা মাটির জেলার মুকুটে আরও একটা পালক জুড়ে দিল এই বাটিক শিল্প। ‘শান্তিনিকেতনী বাটিক’ পেল জিআই স্বীকৃতি। শুধু বাটিক শিল্প নয়, শান্তিনিকেতনী একতারাও পেয়েছে এই বিশেষ স্বীকৃতি।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে বিদেশ সফরে গিয়ে বাটিকের কাজ শিখেছিলেন পুত্রবধূ প্রতীমা দেবী। সেটা ১৯২১ সাল। পরে শান্তিনিকেতনে ফিরে সেই শিল্পকে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও নানা জটিলতার কারণে তা সফল হয় না।
১৯২৭ সাল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ইন্দোনেশিয়া সফর বা জাভা-যাত্রা। সেখানে ফের একবার বাটিক শিল্পের মাধুর্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় কবিগুরুর। জাভার রাজপরিবারে বাটিক শিল্পের ব্যবহার দেখে মুগ্ধ হন তিনি। এরপরেই সেই শিল্পচর্চাকে নতুন করে শান্তিনিকেতনে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা চলে। প্রতিমা দেবী নিজে বাটিকের কৌশলকে আরও ভাল ভাবে আত্মস্থ করেন। ‘লাল মাটির’ জেলায় বাটিক শিল্পের যাত্রার শুরুর দিকটা কিছুটা এরকমই। পরবর্তীতে কলা ভবনে সমবেত পরীক্ষা-নিরিক্ষার মাধ্যমে জন্ম হয় শান্তিনিকেতনী বাটিকের। ভারতীয় নন্দনতত্ত্বের মিশেল, শিল্পাচার্য নন্দলাল বসুর হাত ধরে নতুন রূপ পায় জাভার বাটিক। সময়ের কালে নন্দলাল বসুর কন্যা গৌরী ভঞ্জ, যমুনা সেন এবং আরও অনেক শিল্পীর হাত ধরে দেশ তথা বিশ্বজুড়ে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করে ‘শান্তিনিকেতনী বাটিক।’
