কলকাতা : তৃণমূলের অ্য়াকাউন্ট থেকে লেনদেনের ওপর অবিলম্বে লাগাম টানতে, কোষাধ্য়ক্ষ হিসেবে চিঠি দিয়েছেন অরূপ বিশ্বাস। কিন্তু, তৃণমূলের অ্য়াকাউন্টে কত টাকা রয়েছে ? নির্বাচনী বন্ড ও নির্বাচনী ট্রাস্টের মাধ্য়মে কত টাকা পেয়েছিল তৃণমূল ? দেখে নেব সেই হিসেব।
তৃণমূল এখন খণ্ড-বিখণ্ড। ‘কালীঘাট তৃণমূল’, ‘বিদ্রোহী তৃণমূল’, ‘NCPI’। ভোটে হারা মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের দল এখন টুকরো টুকরো। ফলে বারবার যে প্রশ্নটা উঠছিল, তা হল — তৃণমূলের তহবিলের কী হবে ? দলের অ্য়াকাউন্টে থাকা শ’য়ে শ’য়ে কোটি কোটি টাকা কারা ব্য়বহার করতে পারবে ? এই প্রেক্ষাপটে তৃণমূলের অ্য়াকাউন্ট থেকে লেনদেনের ওপর অবিলম্বে লাগাম টানতে, কোষাধ্য়ক্ষ হিসেবে HDFC ব্য়াঙ্কের সেন্ট্রাল প্লাজা শাখায় চিঠি দিলেন অরূপ বিশ্বাস। যার জেরে আরও কোণঠাসা হল ‘কালীঘাট তৃণমূল।’
চিঠিতে অরূপ বিশ্বাস স্পষ্টই লিখেছেন, বর্তমান বিবাদের নিষ্পত্তি না হওয়া অবধি যেন এই অ্য়াকাউন্ট থেকে কোনও লেনদেনের অনুমতি না দেওয়া হয়। এই অনুরোধের একমাত্র উদ্দেশ্য় দলের তহবিল সুরক্ষিত রাখা এবং অনুমোদনহীন লেনদেন আটকানো। এ প্রসঙ্গে অরূপ বিশ্বাস বলেন, “ওটা… ওটা নিয়ে ওটা… ওটা দলের ব্য়াপার। ওটা নিয়ে এখন কিছু বলব না।”
এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা বলেছেন, “তিনি মনে করেছেন যে এই চিঠিটা না দিলে হয়তো যে অ্যাকাউন্টটি তৃণমূল কংগ্রেসের রয়েছে, সেটাতেও হয়তো কিছু অনিয়ম হতে পারে।” তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের বক্তব্য, “আমাদের কোষাধ্য়ক্ষ শুভাশিস চক্রবর্তী।”
অ্য়াসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্য়াটিক রিফর্মস বা ADR-এর তথ্য় অনুযায়ী, ২০১৯ থেক ২০২৪ সালের মধ্য়ে নির্বাচনী বন্ডের মাধ্য়মে তৃণমূলের ঘরে এসেছিল হাজার হাজার কোটি টাকা। মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের দল পেয়েছিল ১ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা। এছাড়া আরও বহু সংস্থা নির্বাচনী বন্ডের মাধ্য়মে তৃণমূলকে চাঁদা দিয়েছিল। এরপর নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলের তহবিল সংগ্রহ অসাংবিধানিক বলে রায় দিয়ে, তা বন্ধ করতে বলে সুপ্রিম কোর্ট। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে নির্বাচনী ট্রাস্টে’র মাধ্য়মে তৃণমূল পেয়েছিল প্রায় ১০২ কোটি টাকা।
অর্থাৎ এখনও তৃণমূলের অ্য়াকাউন্টে শ’য়ে শ’য়ে কোটি টাকা রয়েছে। শেষ অবধি কে পাবে তহবিলের অধিকার।
আইনজীবী অরিন্দম দাস বলেন, “ব্যাঙ্ক যদি দেখে এরকম ডিসপিউট হচ্ছে, যেটা পার্সনাল অ্যাকাউন্ট না, কোনও একটা পলিটিক্যাল পার্টি, কোনও একটা অর্গানাইজেশনের অ্যাকাউন্ট…আজ টেকনিক্যালি দু’জন ক্লেম করছে, তাহলে অ্য়াকাউন্টটা ফ্রিজ করে ছেড়ে দেবে। মানে, আপনি কোনওভাবে লেনদেন করতে পারবেন না, যতক্ষণ না ডিসপিউট মিটে যাচ্ছে।”
সব মিলিয়ে তহবিলের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে টানাপোড়েন চলছেই।
TMC News: শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের খেলার মাঠের ঘর থেকে উদ্ধার প্রচুর ত্রাণ সামগ্রী
