কলকাতা: বিধানসভায় সই জালিয়াতি মামলায় সিআইডি-র কাছে হাজিরা দিতে কলকাতায় ফিরলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার দিল্লি থেকে কলকাতা বিমানবন্দরে নামেন অভিষেক। ৩ নং গেট দিয়ে বেরনোর পর মুহুর্মুহু প্রশ্ন উড়ে এলেও, কোনও জবাব দেননি তিনি। বিমানবন্দরে অভিষেককে দেখে ‘চোর’, ‘চোর’ স্লোগান ওঠে যেমন, তেমনই অভিষেকের সমর্থক, তৃণমূল ছাত্রপরিষদের তরফে ‘জিন্দাবাদ’ স্লোগানও ওঠে। সেই সময় একেবারে ঠেলাঠেলি শুরু হয়। কার্যত সুরক্ষা বলয় তৈরি করে গাড়িতে তুলে দেওয়া হয় অভিষেককে। তবে বিমানবন্দর থেকে সোজা ভবানীভবন যাননি অভিষেক। বরং কালীঘাট রোজের বাড়িতে ঢোকেন তিনি। আইনি পরামর্শ এবং নথি নিতেই বাড়িতে যান কি না, উঠছে প্রশ্ন। তবে ৬টার কিছু আগে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন অভিষেক। ১১ মিনিট বাকি থাকতে পৌঁছন ভবানীভবনে। (Abhishek Banerjee)
আজই ভবানীভবনে হাজিরা দিতে হবে অভিষেককে। তাঁর কাছ থেকে রেজলিউশন কপি চায় সিআইডি। এর আগে তিন বার নোটিস দেওয়ার পরও হাজিরা দেননি অভিষেক। শেষ পর্যন্ত আজ CID-র কাছে হাজিরা দিচ্ছেন। অভিষেকের হাজিরার আগে এই মুহূর্তে কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে ভবানীভবন। পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে যেমন, মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীও। ভিড় বাড়তে থাকায়, ট্রাফিকও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। কড়া নিরাপত্তায়, যাতে কেউ কাছে ঘেঁষতে না পারেন, তার জন্য বিমানবন্দর থেকে কার্যত এসকর্ট করে নিয়ে যাওয়া হয় অভিষেককে। বিমানবন্দর থেকে গোটা রাস্তা সুরক্ষা দিয়ে আনা হয়। দড়ি দিয়ে ব্যারিকেড বেঁধে দেওয়া হচ্ছে, যাতে কোনও রকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। সন্ধে ৬টার মধ্যে ভবানীভবনে হাজিরা দেওয়ার কথা অভিষেকের। (TMC News)
আরও পড়ুন: বিমানবন্দরে নামতেই শোরগোল, সিআইডি-র কাছে হাজিরা দিতে যাচ্ছেন অভিষেক, ভবানীভবনে পুলিশ-কেন্দ্রীয়বাহিনী
সই জালকাণ্ডে অভিষেককে ডেডলাইন বেঁধে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি কৌশিক চন্দ বলেন, “তদন্তে সহযোগিতা করলে তবেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে রক্ষাকবচ দেব।” এর পাল্টা আইনজীবী মারফত অভিষেক বলেন, “তদন্তে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত, যখন ডাকবে যাব। সকাল ১০ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত তদন্ত চললেও থাকব।” রাজ্য পুলিশের তরফে যদিও বলা হয়, “সই জালের অপরাধ করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই।তাঁকে গ্রেফতার না করলে সত্য সামনে আসবে না।”
আদালতের নির্দেশে আজই CID-র কাছে হাজিরা দিতে হবে তাঁকে। সন্ধে ৬ টার মধ্যে হাজিরা দিতে হবে। বিমানবন্দর থেকে অভিষেক সোজা ভবানীভবন যাবেন বলে জানান তাঁর আইনজীবী। এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, আসল রেজলিউশনের কপি আনতে বলা হয়েছে অভিষেককে। যে বিধায়কদের স্বাক্ষর দেখানো হয়েছিল, তাঁরা রেজলিউশনের সময় সশরীরে উপস্থিত ছিলেন কি না, না থাকলে রেজলিউশনে অভিষেকের সই এল কোথা থেকে, জানতে চাওয়া হবে।
বিতর্কের সূচনা বিধানসভার স্পিকারের কাছে পাঠানো একটি চিঠিকে ঘিরে, যাতে তৃণমূলের তরফে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। পাশাপাশি, মুখ্যসচেতকের নামও প্রস্তাব করা হয়েছিল চিঠিতে। চিঠিতে সই ছিল অভিষেকের, দলের বিজয়ী বিধায়কদেরও। কিন্তু দলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা অভিযোগ করেন, তাঁদের সই জাল করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্যে সেই কথা তুলে ধরেন। ঘটনার পর ঋতব্রত এবং সন্দীপনকে বহিষ্কার করে তৃণমূল। কিন্তু এই মুহূর্তে তৃণমূল দলটিই ভেঙে খান খান। ঋতব্রত এবং সন্দীপনরা বিদ্রোহ ঘোষণা করে, প্রায় ৬০ জন বিধায়ককে নিয়ে নিজেদের ‘আসল’ তৃণমূল বলে দাবি করেছেন। দিল্লিতে তৃণমূল সাংসদরাও বিদ্রোহী। পদত্যাগও করেছেন অনেকে।
Tmc News | তৃণমূল সাংসদ শত্রুঘ্ণ সিন্হার মুখেও এবার মোদি বন্দনা ! | ABP Ananda LIVE
