শিবাশিস মৌলিক, কলকাতা : তৃণমূল কংগ্রেসের বহু নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে বারবার সরব হয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর এ ধরনের কোনও কাজকর্মে বিজেপি যে ‘জিরো টলারেন্স’ দেখাবে তা বারবার কথাবার্তায় বুঝিয়ে দিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব। সেইমতোই এবার পদক্ষেপ গ্রহণ। ক্ষমতায় আসার তিন মাসের মধ্যে পরপর তোলাবাজির অভিযোগ ওঠায় এবার কড়া সিদ্ধান্ত নিল বিজেপি। তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগে ২২ জন কর্মীকে সাসপেন্ড করল গেরুয়া শিবির।
বিস্তারিত…
দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য প্রকাশ্যে দাঁড়িয়ে একাধিকবার দলের একাংশের তোলাবাজি-সহ বিভিন্ন অনৈতিক কাজ নিয়ে সরব হয়েছেন। তাঁদের সতর্ক করেছেন। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে এই ধরনের কাজকর্মের জন্য দলের ২৫০ জনকে শোকজ করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১০২ জনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল। ৮০ জনের উত্তর গ্রহণযোগ্য হওয়ায় তাঁদের শোকজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ২২ জনের কাছে গ্রহণযোগ্য সদুত্তর না মেলায় তাঁদের ইতিমধ্যে সাসপেন্ড করা হয়েছে বিজেপির তরফ থেকে।
আগেই সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব…
এ প্রসঙ্গে এর আগে রাজ্য বিজেপির সভাপতি (Samik Bhattacharya) বলেছিলেন, “বিচ্যুতি দুই-এক জায়গায় আছে। কিন্তু, কোনও বিচ্যুতিকে দীর্ঘদিন মানা যাবে না। সরকারের নীতি এব্যাপারে ‘জিরো টলারেন্স’। আরও ১৫ দিন সময় দেখছি আমরা। তারপর যেটা হবে বুঝতে পারবেন।” একই সুরে দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও বলেছিলেন, “তোলাবাজির সংস্কৃতি এত সহজে উঠে যাবে ভাবার কোনও কারণ নেই। পুলিশকেও বলা হয়েছে এ ধরনের অভিযোগ এলে গ্রেফতার করা, ব্যবস্থা নেওয়া। পার্টি সব নজর রেখেছে। ভাববেন না এরকম। ছয় মাস যেতে দিন। তারপরে পার্টি সব হিসাব করবে।”
বর্তমান প্রেক্ষাপট…
এই পরিস্থিতিতে এখনও পর্যন্ত যে তথ্য উঠে আসছে, তাতে আগামীদিনে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ, ২৫০ জনের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ১০২ জনের বিষয়ে খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাদের মধ্যে থেকে ২২ জনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। বাকি রয়েছে আরও ১৪৮ জন নেতা-কর্মী। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উঠে এসেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা এইসব অভিযোগ খতিয়ে দেখছে দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি। তাঁদের ক্ষেত্রেও অভিযোগ প্রমাণিত হলে দল সাসপেন্ড করতে পারে। এমনই জানা যাচ্ছে বিজেপি সূত্রে। BJP News
