Voice of Eastern India

তারাতলায় বিপর্যয়, KMC- র ১৬টি বরোতেই বিশেষ অডিট, তৈরি কমিটি এবং SOP, কোন কোন বিষয়ে গুরুত্ব ?


কলকাতা : তারাতলায় ভয়ঙ্কর বিপর্যয়ের পর, ৩১ জুলাই পর্যন্ত নির্মাণকাজ স্থগিত রেখে বিশেষ অডিট করার নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তার জন্য কমিটি আগেই গঠন করা হয়েছিল। এবার তৈরি হয়ে গেল SOP. ফলে সোমবার থেকেই কলকাতা পুরসভার ১৬টি বরোতেই শুরু হচ্ছে বিশেষ অডিট। সূত্রের খবর, নির্মাণের পক্ষে জমি উপযুক্ত কিনা, সয়েল টেস্টিং, নির্মাণ সামগ্রীর গুণগত মান-সহ ৫টি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। 

তারাতলার ভয়াবহ গোডাউন বিপর্যয়ের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্র ছাড়া, বহুতল অর্থাৎ G+5 বা তার বেশি উচ্চতার আবাসিক ও সমস্ত বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের কাজ ৩১ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত রেখে বিশেষ অডিট করার নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যেই গঠিত হয়েছে কমিটি। রবিবার তৈরি হয়ে গেল বিশেষ অডিটের SOP. ফলে সোমবার থেকে কলকাতা পুরসভার ১৬টি বরো এলাকায় শুরু হয়ে যাচ্ছে বিশেষ অডিট। 

নিরাপত্তা নিয়ে সংশয়ে প্রাক্তন কাউন্সিলররা ? ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’- এর বৈঠকে আলোচনা ? 

পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর সূত্রে খবর, SOP তৈরির ক্ষেত্রে মূলত পাঁচটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেগুলি হল জমির উপযুক্ততা, নির্মাণের কাঠামোগত নিরাপত্তা, ভূ-প্রযুক্তিগত পরীক্ষা, বিশেষ করে সয়েল টেস্টিং, নির্মাণ সামগ্রীর গুণমান এবং অনুমোদিত নকশার কারিগরি পর্যালোচনা। SOP-র ক্ষেত্রে যেসব বিষয়গুলো এই অডিট কমিটি খতিয়ে দেখবে, সেটা হল যে জমিতে নির্মাণ হচ্ছে, সেটি আদৌ তার ভার নিতে সক্ষম কিনা, যে নির্মাণকাজ হবে বা হচ্ছে তার কাঠামোগত নিরাপত্তা। এছাড়াও সয়েল টেস্টিং, কী মানের নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবহার করা হচ্ছে বা যে প্ল্যান স্যাংশন হয়েছে, সেগুলোও পর্যালোচনা করে দেখা হবে বলে সূত্রের দাবি। 

এই স্পেশাল অডিটের দায়িত্বে রয়েছেন SES rank-এর আধিকারিক রাজেশ পাণ্ডে। বাণিজ্যিক বহুতল ছাড়া বেআইনি নির্মাণ থাকলে সেগুলোকেও দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এই বিশেষ অডিট কমিটিকে। এই প্রেক্ষাপটে রবিবার পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে ডাকা হয় প্রাইভেট রিয়েল এস্টেট ডেভলপারদের সংগঠন CREDAI, ও শ্রম দফতরের সচিবকে। বিশেষ অডিট চলাকালীন কাজ বন্ধ থাকায়, সেই সময়কালে নির্মাণ শ্রমিকদের থাকা, খাওয়া ও ন্যুনতম পারিশ্রমিকের বন্দোবস্ত করতে বলা হয়েছে CREDAI-কে। 

তবে এই বিশেষ অডিটের মধ্যে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের প্রকল্প, স্কুল, হাসপাতালের মতো প্রতিষ্ঠানে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতির কাজ এবং বৈধ ও অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী G+5 এর কম আবাসিক ভবনের মেরামতি বা সম্প্রসারণের কাজ পড়ছে না। বিশেষ অডিট কমিটির রিপোর্ট জমা পড়ার পর, প্রকল্পভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর সূত্রে খবর, ৩১ জুলাই পর্যন্ত নির্মাণে চলা স্থগিতাদেশ চলাকালীনও বেসমেন্ট নির্মাণের প্রয়োজনীয় শিট পাইলিং-সহ নিরাপত্তামূলক কাজ, বৈধ ও অনুমোদনপ্রাপ্ত পুরনো জরাজীর্ণ ভবনের মেরামতি চলবে, জল জমা রোধ, মশার প্রজনন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং ঝোড়ো হাওয়ায় ঝুঁকি এড়াতে স্ক্যাফোল্ডিং, সেফটি নট ও অস্থায়ী সাপোর্ট স্ট্রাকচার বসানো বা খুলে ফেলার কাজও চলবে। 



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.