Voice of Eastern India

১৫ কেজি সোনা, সাড়ে ২৮ কোটি নগদ, বীরভূমে মিনার মণ্ডলের বাড়িতে অভিযান শেষে মিলল কী কী ?


ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, বীরভূম : বীরভূমে অবশেষে শেষ হল টাকা গোনা। পাথর ব্যবসায়ীর আত্মীয়র বাড়িতে মহম্মদ বাজার পুলিশের তরফে অভিযান চালানো হয়। ১৯ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে অভিযান। অবশেষে শেষ হয়েছে টাকা গোনা। বৃহস্পতিবার ২৯ জুলাই রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ টাকা গোনা শেষ হয়েছে বলে খবর। তৈরি হচ্ছে সিজার লিস্ট। পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে কোটি কোটি টাকা, সোনার বিস্কুট, সোনার বাট। অন্তত ৫টি ট্রাঙ্ক আনা হয়েছিল। এসেছিল প্রচুর টাকা গোনার মেশিন। বৃহস্পতিবার ভোররাতে, রাত ৩টে থেকে শুরু হয়েছিল তল্লাশি অভিযান। কিন্তু মিনার মণ্ডল, যিনি একজন সরকারি বাসের চালক ছিলেন, ৩৫ হাজার টাকা পেনশন পেতেন, স্বেচ্ছা-অবসর নিয়েছিলেন, তাঁর বাড়িতে কীভাবে এল এত টাকা এবং সোনা? এই প্রশ্নই ঘুরছে সর্বত্র। সাড়ে ২৮ কোটি টাকা নগদ উদ্ধার হয়েছে বলে খবর। এই টাকা এবং সোনা টুলু মণ্ডলের, এমনটাই জানা গিয়েছে। 

‘ডেথ আর বার্থ সার্টিফিকেট ছাড়া সবই দিয়ে দিয়েছি’, ED- র ৮ ঘণ্টা জেরার পর বললেন মদন মিত্র 

পুলিশ সূত্রে খবর ২৮ কোটির টাকার থেকেও একটু বেশি পরিমাণ নগদ উদ্ধার হয়েছে এবং তার সঙ্গে রয়েছে ১৫ কেজি সোনা। এই সোনার বাজার মূল্য প্রায় ২২ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ৫০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের নগদ ও সোনা উদ্ধার হয়েছে মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে। যে স্বর্ণকার এসেছিলেন সোনা পরীক্ষা করে, যাচাই করে দেখতে, তিনি জানিয়েছেন, যে ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার হয়েছে তার মধ্যেই বেশিরভাগটাই ছিল সোনার বাট। এছাড়াও ছিল সোনার বিস্কুট। পুলিশ সূত্রে খবর, নগদ টাকা রাখা মুশকিল। তাই সেই টাকা রূপান্তর করা হয়েছিল সোনায়। অন্যদিকে, বাড়ির নীচের এবং উপরের তলায় দুটো আলমারি থেকে ২৮ কোটির বেশি পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই দুই আলমারি বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছিল। আলমারির ভিতরে চটের বস্তায় ভরে রাখা ছিল টাকা। পুলিশ সূত্রে এও খবর, বাড়ির মালিকের কাছে আলমারির চাবি ছিল না। যারা টাকা রেখে যেত, চাবি থাকত তাদের কাছেই। মালিককে তারা চাবি দেয়নি। 

পুলিশের সন্দেহ মহম্মদ বাজারের অন্যান্য জায়গায় নিরাপদে লুকিয়ে রাখা হয়েছে আরও টাকা, সোনা। বীরভূমের দেউচা গ্রামের শেষ প্রান্তে মাঠের ধারে একটি সাধারণ ছিমছাম বাড়ি থেকে এভাবে যে টাকা, সোনা উদ্ধার হবে, তা অনুমান করা একপ্রকার অসম্ভব। বাড়িতে এসি নেই, সিসি ক্যামেরা নেই, বাড়ির বাসিন্দাদের অতি সাধারণ জীবনযাপনে প্রতিবেশীরাও ঘুণাক্ষরে কিচ্ছু টের পাননি। সিউড়ি নিয়ে যাওয়া হবে উদ্ধার হওয়া টাকা সোনা। 



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.