কলকাতা : “সময় এসেছে এই ধরনের লোককে সবক শেখানোর।” আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে চাঁচাছোলা ভাষায় সতর্ক করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বিধানসভায় তিনি স্পষ্ট বলেন, এই দুটো ঘটনার পরে আমার মনে হয়েছে, এনাফ ইজ এনাফ। সময় এসেছে এই ধরনের লোককে সবক শেখানোর। আপনাকে আমি পরিষ্কার বলছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী নন। আপনি দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী পেয়ে যা খুশি বলেছেন। আমি আপনাকে বলে গেলাম, আমরা দু’টো এফআইআর শুরু করেছি। রেজিনগর থানা ও শক্তিপুর থানায়। আমি আপনাদের (বিধানসভার সদস্যদের উদ্দেশে) আশ্বস্ত করছি, এত বড় ক্ষমতা আপনাকে কেউ দেয়নি। আপনি মুখে যেগুলো বলেছেন, আপনাকে আমি বলে গেলাম, আপনি কেন করছেন আমি জানি। রাজনৈতিক কারণটা আমি জানি। আপনার দু’টো এজেন্ডা আছে। আপনি কান খুলে শুনে রাখুন, আপনাকে এইভাবে ধমক-হুমকি-বেপরোয়া-লাগামছাড়া কথা বলতে দেব না।”
কিন্তু কী বলেছেন হুমায়ুন কবীর ? তাঁর সেই বক্তব্য বিধানসভায় তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এখানকার একাধিক বিধায়ক তুলে ধরেছেন নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের দু’টি জায়গায় অত্যন্ত আপত্তিজনক, সমাজ ও রাজ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক বক্তব্যের উপরে। হুমায়ুন কবীর যে বক্তব্য রেখেছেন তা আমি আপনাদের কাছে পড়ে শোনাচ্ছি। গত ২৬ তারিখে নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর রেজিনগরে কাশীপুরে ওঁর পার্টির একটি মিটিং করেছিলেন। সেখানে তিনি বলছেন, এই যে অনামিকা ঘোষ সে ভোটে হেরে মনে করছে আমি এমএলএ। এখানে ভোটে হেরে বিজেপি মনে করছে আমি এমএলএ। এখানে এখন আস্ফালন করে বেরাচ্ছে, তা আমি শুভেন্দু অধিকারীকে সেদিন বলেছি যে, আপনি ভোটে জিতেছেন, আপনার দল জিতেছে খুব ভাল কথা। কিন্তু, মুর্শিদাবাদে আস্ফালনটা একটু কম করবেন। আমি যেদিন ময়দানে মুসলমানদের নিয়ে নেমে যাব না, সেদিন এমন সাটা ভাঙা মার শুরু করবে যে, আপনাদের পতাকা বহন করার লোক থাকবে না। কেস এরকম কেস আমাদের বহরমপুরে জেল খাটা আছে। ৫ হাজার লোককে আপনি বহরমপুর সেন্ট্রাল জেলের যা আয়তন, তাতে ৪৭০০ বা ৪৮০০-র বেশি লোক ঢোকে না। লাখে লাখে লোককে রাস্তায় নিয়ে নামাব। আর সাটা ভাঙ মার দেব, আর জেলে যাব। ক’দিন জেলে আটকে রাখতে পারবেন, কত খাওয়াতে পারবেন দেখব। লিমিট যেদিন ক্রস হয়ে যায় না, মাথাটা যেদিন গরম হয়ে যায় সেদিন আমি এসপি বুঝব না। চিফ মিনিস্টারেও বুঝব না। আর কে কোথায় থাকল, আর কে কোথায় থাকল না, ওসব বুঝব না। আমি নিজেই নেতৃত্ব দিয়ে দাঁড়াব। এটা ঘটনা ওয়ান। ঘটনা ২, শক্তিপুরের দুয়ারাঘাটে। ৮ তারিখে । সেখানে উনি বলছেন, ভোটের আগের দিন আমার নিজের ভাইপোকে গ্রেফতার করেছেন এই ওসি। এই…বাচ্চাকে আগে দেখব। এই… বাচ্চাকে এমন শিক্ষা দেব, এর বাবা চোদ্দ গুষ্টির নাম ভুলিয়ে দেব। এ লালগোলায় ৫০০ মুসলমানের লাইফ শেষ করে দিয়ে এসেছে। সত্যভাবে বলব, এই ওসিকে এখান থেকে সরানো শুধু না। একেবারে অকেজো পোস্টিং দিতে হবে। যদি না দেয়, ১০ হাজার লোক নিয়ে থানা ঘিরে, একে গলা ধরে থানা থেকে বের করব। পারলে আমাকে রুখে নেবেন।” এরপরই নওদার বিধায়ককে সতর্ক করে দেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বিধানসভায় স্পষ্ট মন্তব্য করেন, “আপনি ধরে রাখুন, এটা ওঁর শেষ বক্তব্য।”
West Bengal Assembly News: সমাজবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কড়া আইন, আজ বিধানসভায় গুন্ডা দমন বিল পেশ
