শিবাশিস মৌলিক, কলকাতা : বিজেপিতে ফের সাংগঠনিক রদবদল হল। রাজ্য মুখপাত্র হলেন সজল ঘোষ। রাজ্য কমিটির পর এবার জেলাস্তরে বিজেপির সাংগঠনিক রদবদল করা হয়েছে। ঢালাও বদল করা হয়েছে বিজেপির জেলা ইনচার্জদের। ৪৩টি সাংগঠনিক জেলার ইনচার্জের তালিকা প্রকাশ করেছে বিজেপি।
সজল ঘোষকে আনা হয়েছে রাজ্য মুখপাত্রের তালিকায়। সদ্য প্রাক্তন OBC মোর্চা সভাপতি শুভেন্দু সরকারকে করা হয়েছে মালদা বিভাগের কো-কনভেনার। গতকালই রাজ্য কমিটিতে ব্যাপক রদবদল করে বিজেপি। ‘এক ব্যক্তি-এক পদ’ নীতিতে জোর দিয়ে সংগঠনে ব্যাপক রদবদল করা হয়।
গতকালও বিজেপিতে একাধিক রদবদল হয়েছে। বিভিন্ন জেলা কমিটিতে রদবদল করা হয়। জেলা সভাপতির পদে রদবদল হয়েছে। পাশাপাশি মোর্চাগুলির ক্ষেত্রেও একাধিক পরিবর্তন আনে দল। ইন্দ্রনীল খাঁ ছিলেন যুব মোর্চার সভাপতি। সেখান থেকে তাঁকে সরিয়ে আনা হয়েছে অমিত সামন্তকে। তিনিও বিধায়ক। মহিলা মোর্চার সভানেত্রী করা হয়েছে অঞ্জনা বসুকে। ফাল্গুনী পাত্রকে সরিয়ে মহিলা মোর্চার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁকে। ওবিসি মোর্চার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ধনঞ্জয় ঘোষকে। এসটি মোর্চার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিশ্বজিৎ বিশ্বাসকে।
রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরই একটি বিষয় তারা স্পষ্ট করেছিল, ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ নীতিতে জোর দেওয়া হবে। অর্থাৎ যারা মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন, তাঁদের সাংগঠনিক দায়িত্বে রাখা হবে না। শেষ পর্যন্ত যে কমিটি গঠন হয়েছে, তা গতকাল একদফায় রাজ্য বিজেপির তরফ থেকে জানানো হয়। সেখানে দেখা যায়, যারা মন্ত্রী রয়েছেন যেমন- অগ্নিমিত্রা পাল, তাপস রায়, শঙ্কর ঘোষ…এরা রাজ্য কমিটিতে ছিলেন। এখন এদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একাধিক বিধায়ক-সাংসদ রয়েছেন, কিন্তু যারা মন্ত্রী রয়েছেন তাঁদের এই সাংগঠনিক পদ থেকে সরানো হয়েছে। নতুন ব্যক্তিদের নিয়ে আসা হয়েছে।
শমীক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে প্রকাশিত হয়েছে পূর্ণাঙ্গ রাজ্য কমিটি। মন্ত্রী না হওয়া সত্ত্বেও শর্বরী মুখোপাধ্যায়কে রাজ্য কমিটি থেকে সরানো হয়েছে। রাজ্য কমিটির সম্পাদক ছিলেন যাদবপুরের বিজেপি বিধায়ক। সব মিলিয়ে নতুন করে ঢেলে সাজানো হয়েছে কমিটিকে। ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ নীতিতে জোর দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ৭ জেলার সভাপতি পদে রদবদল করা হয়েছে। সেই জেলাগুলি হল- বনগাঁ, বারাসাত, শ্রীরামপুর, আরামবাগ, মেদিনীপুর, বর্ধমান, কাটোয়া সাংগঠনিক জেলা। বারাসাত সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বদল করে আনা হয়েছে- দীপঙ্কর চক্রবর্তীকে। বনগাঁয় আনা হয়েছে নৃপেন বিশ্বাসকে, শ্রীরামপুরে শশী সিং, আরামবাগে প্রশান্ত দিগর, মেদিনীপুরে সৌমেন তিওয়ারি, বর্ধমানে আশিস পাল এবং কাটোয়ায় মানিক রায়। তাঁদের নতুন করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা সভাপতি হিসাবে।
Mamata Banerjee: “SIR-এর নামে ভোটে প্রতারণা…দিল্লি কিন্তু টলমল”, Serampore -এ BJP কে আক্রমণ মমতার
