Voice of Eastern India

জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে কি চাপ বাড়ছে NDA-র অন্দরেও ? মোদি সরকারের মন্ত্রীর মুখেই ভিন্ন সুর…


সৌমিত্র রায়, ব্রতদীপ ভট্টাচার্য ও উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : বিরোধী শিবিরের পাশাপাশি এবার কি NDA-র ভিতরেও জ্ঞানেশ কুমার ইস্যুতে বাড়ছে চাপ ? খোদ মোদি সরকারের মন্ত্রী বলছেন, সরকারের অংশ হিসাবে আমি কারও সমর্থনে কিছু বলব না। কেন্দ্রীয় খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ মন্ত্রী চিরাগ পাসওয়ানের বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। 

দুই নির্বাচন কমিশনারকে অন্ধকারে রেখে, তাঁদের আপত্তি অগ্রাহ্য করে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ! মুখ্য় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এমনই চাঞ্চল্যকর সব তথ্য সামনে এসেছে ‘দ্য় ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের’ রিপোর্টে।

এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই গোটা দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিজেপি যখন এনিয়ে পাল্টা যুক্তি খাড়া করার চেষ্টা করছে, তখন তাদের অস্বস্তি বাড়িয়ে ভিন্ন সুর শোনা গেল NDA-তে বিজেপিরই শরিক দলের নেতা এবং মোদি সরকারের মন্ত্রী চিরাগ পাসোয়ানের মুখে। কেন্দ্রীয় খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ মন্ত্রী বলছেন, “সরকারের অংশ হিসাবে আমি কারও সমর্থনে কিছু বলব না। নির্বাচন কমিশন একটা স্বাধীন সাংবিধানিক সংস্থা। এই পরিস্থিতিতে যদি নির্বাচন কমিশনের ওপর এমন প্রশ্ন ওঠে, তো আমি মনে করি এর দায়ও নির্বাচন কমিশনেরই। বিশেষ করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের। তিনি স্বপক্ষে নিজের বক্তব্য শক্তিশালীভাবে রাখুন।”

যদিও বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিন্হা বলেন, “ইলেকশন কমিশন কী করবে না করবে তার জন্য আমরা তাকে গাইডলাইন দিতে পারি না। আমরা যেটা দেখেছি সেটা আমরা বলব। এত চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ইলেকশন কমিশন ইলেকশন ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার করে দেখিয়ে দিয়েছে।” 

বিরোধীরা যখন জ্ঞানেশ কুমারের অধীনে হওয়া নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, তখন NDA-তে বিজেপি-র শরিক দলের নেতা চিরাগ পাসওয়ানও তাৎপর্যপূর্ণভাবে বলেছেন, ভোট প্রক্রিয়ায় সন্দেহ তৈরি হওয়া ঠিক নয়। তিনি বলেন, “যদি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপরেই মানুষের সন্দেহ তৈরি হয়, সেটা ঠিক না। নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের বক্তব্য আরও দৃঢ়ভাবে রাখতে হবে। সেটা রাহুল গান্ধী বা অন্য কাউকে জবাব দেওয়ার জন্য নয়, জনতার মনে কোনওরকম কোনও সন্দেহ না আসে এই বিষয়টা সুনিশ্চিত করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।”

বিজেপির শরিক দলের এই সুর হাতিয়ার তুলে দিয়েছে অন্য় বিরোধী দলগুলির হাতেও। সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, “মন্ত্রী এখন বলছেন ওটা স্বাধীন সংস্থা। স্বাধীন সংস্থা ছিল। স্বাধীন সংস্থাকে মোদির পদানত করে পরাধীন করে দিয়েছে, দালাল করে দিয়েছে… কার্যত নির্বাচন কমিশনকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছে… মোদি এবং অমিত শাহ, দিল্লির বিজেপি-গোটা দেশের বিজেপি এই অপরাধের জন্য দায়ী।”

‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’-এর নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় বলেন, “চিরাগ পাসওয়ান যেটা বলেছেন, প্রশ্ন উঠছে। একটা ক্রিকেট খেলায় যারা ব্যাট করছে তারাই যদি আম্পায়ার ঠিক করে, তাহলে এটাই মানুষের ধারণা হবে যে আম্পায়ার পক্ষপাতিত্ব করবে। জ্ঞানেশ জালিয়াতি করেছেন, পক্ষপাতিত্ব করেছেন…ভোট চুরি করেছেন, বিজেপি ভোট চুরি করেছে… এই ভোটে যে ভোটে ওরা দেখিয়েছে রেজাল্ট…সেই রেজাল্ট জনমত যেটা হয়েছে সেটা রিফ্লেকশন নয়।”

তাহলে কি বিরোধীদের পাশাপাশি জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে চাপ বাড়ছে NDA-র অন্দরেও? 



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.