Voice of Eastern India

Weather Forecast: কলকাতার উপরেই নিম্নচাপের কেন্দ্র! লাল সতর্কতা জারি, বিকেলের পর একাধিক জেলায় অতি ভারী বৃষ্টি


কলকাতা: বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে ফের বদলেছে বাংলার আবহাওয়া। উত্তর বঙ্গোপসাগরে পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূলের কাছে তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি ক্রমশ উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোচ্ছে। আবহাওয়া দফতরের বুলেটিন অনুযায়ী, আগামী ১২ ঘণ্টায় নিম্নচাপটি শক্তিশালী হয়ে Well-Marked Low Pressure Area-তে পরিণত হতে পারে। এর প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া বিজ্ঞানী রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা আবহাওয়া বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে নিম্নচাপের কেন্দ্র কলকাতার উপর বা খুব কাছ দিয়ে অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে দুপুর থেকে সন্ধ্যার মধ্যে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে।

আজ সন্ধ্যার মধ্যে কলকাতার আকাশে তৈরি হতে পারে অত্যন্ত উঁচু মেঘের স্তর। সম্ভাব্য Cloud Top Height প্রায় ১৩-১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। এই মেঘের শীর্ষের তাপমাত্রা প্রায় -৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যেতে পারে।

এই ধরনের গভীর মেঘের উপস্থিতি সাধারণত শক্তিশালী বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরির সম্ভাবনার সঙ্গে যুক্ত। ফলে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের কিছু এলাকায় আচমকা ঝোড়ো হাওয়া, বজ্রবিদ্যুৎ এবং স্বল্প সময়ের প্রবল বৃষ্টি হতে পারে।

তবে সর্বত্র একটানা ভারী বৃষ্টি হবে এমন নয়। বরং কোথাও অল্প সময়ের জন্য ভারী বৃষ্টি, আবার কোথাও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।

আগামী দু’দিন কেমন থাকবে বৃষ্টি?

আগামী দু’দিন বাংলার বিস্তীর্ণ এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলতে পারে। তার মাঝেই কিছু জায়গায় স্বল্প সময়ের জন্য ভারী বৃষ্টির স্পেল দেখা যেতে পারে।

সপ্তাহান্তেও বিচ্ছিন্নভাবে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ নিম্নচাপের প্রভাব একেবারে একদিনে কেটে যাচ্ছে না। আর্দ্রতা ও মেঘের পরিস্থিতির কারণে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলতে পারে।

বজ্রপাত নিয়ে বিশেষ সতর্কতা

এই পরিস্থিতিতে গোটা বাংলাতেই বজ্রপাতের সতর্কতা রয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা এবং উত্তরবঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকতে পারে।

খোলা মাঠ, জলাশয়, নদী বা সমুদ্রের কাছে থাকা এড়িয়ে চলা জরুরি। বজ্রপাতের সময় গাছের নিচে বা বিদ্যুতের খুঁটির কাছে আশ্রয় না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

কাল কি বৃষ্টি কমবে?

বৃহস্পতিবারের তুলনায় আগামীকাল শুক্রবার কিছুটা আংশিক পরিষ্কার আকাশ দেখা যেতে পারে। অর্থাৎ বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পুরোপুরি বৃষ্টিমুক্ত আবহাওয়া হওয়ার সম্ভাবনা নেই। স্থানীয়ভাবে মেঘ তৈরি হলে আচমকা বৃষ্টিও হতে পারে।

দক্ষিণবঙ্গে কোথায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা?

আজ ও আগামী কয়েক দিনে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৩ অগাস্ট বাঁকুড়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরে এক-দু’জায়গায় অতিভারী বৃষ্টি অর্থাৎ ২০ সেন্টিমিটারের বেশি বৃষ্টি হতে পারে।

এছাড়া পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব মেদিনীপুর, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান এবং হুগলি-সহ কয়েকটি জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে দমকা হাওয়ার সঙ্গেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

১৪ অগাস্টও পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূম-সহ একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড় এবং ঘণ্টায় ৩০-৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত দমকা হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

উত্তরবঙ্গে আরও বাড়বে বৃষ্টির দাপট

উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। এই শনিবার থেকে আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকে হিমালয়ের পাদদেশ সংলগ্ন এলাকা এবং তার লাগোয়া সমতলে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার-সহ উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে হিমালয়ের পাদদেশে মেঘের সঞ্চার বাড়লে বৃষ্টির তীব্রতাও বাড়তে পারে।

সার্বিকভাবে কেমন থাকবে বাংলার আবহাওয়া?

সব মিলিয়ে, আজ কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় দুপুর থেকে সন্ধ্যা। নিম্নচাপের কেন্দ্র কলকাতার উপর বা কাছাকাছি দিয়ে গেলে অল্প সময়ে আবহাওয়ার বড় পরিবর্তন হতে পারে। কোথাও হঠাৎ ভারী বৃষ্টি, কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়, আবার কোথাও হালকা বৃষ্টি—এমন বিচ্ছিন্ন পরিস্থিতি দেখা যেতে পারে।

শুক্রবার সাময়িকভাবে আবহাওয়া কিছুটা পরিষ্কার হলেও সপ্তাহান্ত থেকে উত্তরবঙ্গের হিমালয় সংলগ্ন এলাকায় বৃষ্টির দাপট ফের বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.