Voice of Eastern India

Tulu Mondal Property : ২১ টি প্রপার্টি, ৩০০ বিঘার জমি ! কোন আমলে টুলুর উত্থান ? মোট কত সম্পত্তি ? ভয়ঙ্কর তথ্য মুখ্যমন্ত্রীর


কলকাতা : বীরভূমের টুলু রাজ্যের ‘পাথরসম্রাট’। যদিও পেছনে অনেকেই বলেন,‘পাথর মাফিয়া’। কারণ, মহম্মদবাজার থেকে শুরু করে মুরারই, নলহাটির বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে থাকা ব্যাসল্ট পাথরের খনি থেকে গোটা রাজ্যে, ভিন্‌রাজ্য বা বাংলাদেশেও যে পাথর বা কালো স্টোনচিপ সরবরাহ হয়, সবটাই  নিয়ন্ত্রণ করতেন টুলু। কোটি কোটি টাকার মালিক। এবার টুলু মণ্ডলের সম্পত্তি নিয়ে সরব হলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। বললেন টুলু মণ্ডলের মোট ২১টি প্রপার্টি রয়েছে। তার মধ্যে জমি রয়েছে ৩০০ বিঘার। তৃণমূলের আমলেই টুলু মণ্ডলের উত্থান বলে দাবি করছে বিজেপি ও সিপিএম। পাল্টা জবাব দিয়েছে কালীঘাট তৃণমূল। 

সম্পত্তির পরিমাণ কত ? কী জানালেন মুখ্যমন্ত্রী ?

আত্মীয়ের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে নগদ সাড়ে ২৮ কোটি, ২২ কোটির সোনা, মহম্মদবাজারের আলিসান বাড়ি, কয়েক একরের পার্কিং লট। তবে এ হল বীরভূমের নাজিবুদ্দিন মণ্ডল ওরফে টুলুর সেই সম্পত্তি, যা চোখে দেখা যাচ্ছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, আরও কত সম্পত্তি রয়েছে, য়া এখনও সামনে আসেনি?

সামান্য পাথর শ্রমিক থেকে ‘স্টোন মাফিয়া’হয়ে ওঠা মহম্মদ নাজিবুদ্দিন ওরফে টুলু মণ্ডলের সম্পত্তিই এখনও চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে। টুলু মণ্ডলের সম্পত্তির যে পরিসংখ্য়ান মুখ্য়মন্ত্রী দিয়েছেন, তা চোখ কপালে তোলার মতো! মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সব মিলিয়ে টুলু মণ্ডলের ২১টি সম্পত্তি 

জমি-জায়গার পরিমাণ ৩০০ বিঘা।
৭টা বড় বাড়ি। 
ফার্ম হাউস। 
২৪৩টা গাড়ি। 
২টো পেট্রোল পাম্প রয়েছে।
একটা  ইটভাটা। 
একটা পার্কিং লট।  
৩টে পাথর খাদান।  
২টো ক্রাশার রয়েছে। 

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, ”ওঁর যতগুলো অ্যাকাউন্ট এখনও অবধি পেয়েছি, বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ৯৩ কোটি টাকা! সেই ৯৩ কোটি টাকা আমরা, টুলু মণ্ডলের অ্যাকাউন্টগুলো ফ্রিজ করেছি। এর বাইরেও নগদ উদ্ধার হয়েছে ৫৩ লক্ষ টাকা। সোনার গয়না ২৬৮ গ্রাম, রুপো  ৪০০, প্লাটিনামের গয়না ২৩ গ্রাম। ৩টে টাকা গোনার মেশিন পাওয়া গেছে। একটা কম্পিউটার, ২টো পেনড্রাইভ, একটা CPU এবং বিভিন্ন নথি যেমন, রোড চালান, DCR, মানি রিসিপ্ট, চেক বুক।”

কোন সরকারের আমলে এই সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে ?

টুলু মণ্ডলের এই সাম্রাজ্য তৈরি হওয়ার পিছনে আসলে জাদুকাঠি কী?এর জন্য বিগত তৃণমূল জমানাকেই নিশানা করছে বিজেপি ও সিপিএম। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, তৃণমূলের আমলে হয়েছে। সর্বদিকে চুরি। পাহাড় থেকে শুরু করে জঙ্গল, সর্বত্র মিলবে। সিপিএম-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, একা একা এত সম্পত্তি হয়ে গেল? এদের সঙ্গে তৃণমূলের সমস্ত মাথা জড়িত। একজন খাদান শ্রমিকের একার পক্ষে এই জায়গায় পৌঁছনো যে অসম্ভব, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। এর সঙ্গে বিগত তৃণমূল সরকারের বিভিন্ন দফতরও জড়িয়ে ছিল বলে সরব হয়েছেন মুখ্য়মন্ত্রী শুভেনদু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এই কাজে রেজিস্ট্রি অফিস জড়িত আছে। এতে মোটর ভেহিক্য়ালস জড়িত আছে, এতে স্থানীয় পুলিশ জড়িত আছে, এতে স্থানীয় পঞ্চায়েত জড়িত আছে, ল্য়ান্ড ডিপার্টমেন্ট জড়িত আছে। হায়েস্ট লেভেল থেকে নির্দেশ না গেলে, মি. মণ্ডল আমাদের লোক, ওর দিকে তাকাবে না, তাই সবাই চোখ বন্ধ করে রেখেছিল।

পাল্টা তৃণমূলের কী দাবি ?

‘কালীঘাট তৃণমূলের’ বিধায়ক কুণাল ঘোষ জানান, ”উনি (শুভেন্দু অধিকারী) তো এসব দায়িত্বে ছিলেন, পরিবহণমন্ত্রী ছিলেন। সবকিছু তো দেখেছেন তাহলে। আপনিতও তো তৃণমূলে ছিলেন, এখন সব তৃণমূলের দিকে আঙুল তুললে হবে। 



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.