Bankura News: মন্ত্রীর দ্বারস্থ খোদ BJP বিধায়ক, ‘তৃণমূল আমলে ধ্বংস’ হয়ে যাওয়া পার্কের সংস্কারের দাবি বাঁকুড়ায়
পূর্ণেন্দু সিংহ , বাঁকুড়া: বাঁকুড়া চেঁচুড়িয়া ইকো পার্কের সংস্কারের দাবি স্থানীয় বাসিন্দা থেকে বিধায়কের। বাঁকুড়া তালড্যাংরা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকা চেঁচুড়িয়া ইকো পার্কের উন্নয়নের দাবি নিয়ে বনমন্ত্রীর দ্বারস্থ হলেন তালড্যাংরার বিজেপি বিধায়ক সৌভিক পাত্র। রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওঁরাওয়ের হাতে পার্ক সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্পের ফাইল জমা দেন তিনি। সেই ছবি নিজের সোশ্যাল মিডিয়াতেও শেয়ার করেছেন বিধায়ক।
বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রাম রাজ্য সড়কের শিবডাঙা মোড় থেকে বিবড়দাগামী রাস্তায় কিছুটা গেলেই পড়ে তালড্যাংরা বিধানসভার অন্যতম পর্যটনস্থল চেঁচুড়িয়া ইকো পার্ক। প্রায় আড়াই দশক আগে,বাম জামানায় বন দফতরের উদ্যোগে শাল জঙ্গলের মধ্যে গড়ে ওঠা এই পার্ক একসময় ছিল জমজমাট। হরিণ, ময়ূর, বাঁদর,সজারু-সহ নানা পশু-পাখি, নলকূপ, রান্নার শেড, বসার জায়গা আর শিশুদের দোলনা, জলাধারে প্যাডেল বোট, সবই ছিল এখানে।
মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য পর্যটন মরসুম ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষ বনভোজন করতে আসতেন বছরের বিভিন্ন সময়ে।কিন্তু গত ১৫ বছর ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পার্কটির বর্তমান দশা শোচনীয়। স্থানীয় বিধায়ক পার্কের এই বেহাল দশার জন্য পূর্বতন তৃণমূল সরকারের উদাসীনতাকেই দায়ী করেছেন।এই প্রসঙ্গে সৌভিক পাত্র বলেন, একসময় এই পার্ক সাজানো গোছানো জমজমাট ছিল। তৃণমূল সরকারের আমলে সব ধ্বংস হয়েছে।বনমন্ত্রীর কাছে উন্নয়ন প্রকল্পের ফাইল জমা দেওয়া হয়েছে।বনমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। পার্কের হারিয়ে যাওয়া আকর্ষণ আবার ফিরে আসবে। সরকারের রাজস্ব বাড়বে, উপকৃত হবেন পরিচালন কমিটি থেকে এলাকার সাধারণ মানুষও।
স্থানীয় বাসিন্দা বিশ্বনাথ মাঝি বলেন, হরিণ, ময়ূর থেকে বিভিন্ন পশু পাখি ছিল। জলাধারে পরিযায়ী পাখির দেখা মিলত। বোট ছিল। এলাকা ছাড়াও বাইরের বহু মানুষের আনাগোনা ছিল। অবহেলার কারণে পিকনিক স্পটের প্রায় সব পরিকাঠামোই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তবে জঙ্গলে এখনও মাঝেমধ্যে ময়ূর দেখা যায়। পার্ক নতুন করে সাজালে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা এই জায়গা, আবার পর্যটকদের ভিড় ফেরাবে। পার্ক পরিচালন কমিটি থেকে এলাকার সবাই উপকৃত হবেন।এলাকাবাসী গোপাল কিস্কু জানিয়েছেন, আগে দারুণ ছিল, বাইরে থেকে লোক আসত, কলকাতা থেকে লোক আসত। ..কিন্তু বিষয়টা তারপর আর এরকম থাকে না বলে জানান তিনি। তারপর ধীরে ধীরে লোক আসা একেবারেই কমে যায়।
