সন্দীপ সরকার, কলকাতা : কলকাতার আরও এক ব্লাড ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে উঠল রক্ত নিয়ে বেআইনি ব্যবসা করার অভিযোগ। পদ্মপুকুরের হেলথ পয়েন্ট, যোধপুর পার্কের অশোক ব্লাড ব্যাঙ্কের পর এবার CIT রোডের লাইফ কেয়ার ব্লাড ব্যাঙ্ক। অভিযোগ, ৬ মাসের মধ্যে অন্তত সাড়ে ৩ হাজার ইউনিট লোহিত রক্তকণিকা বা RBC বিক্রি করা হয়েছে বিহার, উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খন্ডের মতো ভিনরাজ্যের বিভিন্ন ব্লাড ব্যাঙ্কে। জানা গেছে, অভিযুক্ত লাইফ কেয়ার ব্লাড ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে এখনও পর্যন্ত ৩ বার নোটিস পাঠিয়েছে স্বাস্থ্য ভবন। প্রথমবার তারা হাজিরা দিয়ে RBC বিক্রির হিসাব জমা দিয়েছেন। কিন্তু পরের দু’বার লাইফ কেয়ার ব্লাড ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ হাজিরা এড়িয়ে যান বলে দাবি করা হয়েছে স্বাস্থ্য ভবনের তরফে। কত টাকায় রক্ত বিক্রি করা হয়েছে, কী পরিমাণ প্লাজমা বিক্রি হয়েছে, সেসবের হিসেব এখনও মেলেনি। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, নথি জমা না করলে লাইফ কেয়ার ব্লাড ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে শান্তিমূলক পদক্ষেপ করা হতে পারে।
সেবাশ্রয়ের চিকিৎসকদের জন্য ‘সহায়িকা’ ! কী ওষুধ কতটা দিতে হবে, ম্যানুয়ালে লেখা সবই, বাড়ছে সন্দেহ
যোধপুরপার্কের অশোক ব্লাড ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধেও অভিযোগ
৬ মাসে বিহার-উত্তরপ্রদেশে ২ কোটি টাকার রক্ত বিক্রির অভিযোগ। যোধপুর পার্কের অশোক ব্লাড ব্যাঙ্ককে রক্তদান শিবির থেকে রক্ত সংগ্রহ করতে নিষেধ করেছে স্বাস্থ্য দফতর। SSKM-এর দ্বিতীয় বর্ষের কয়েকজন পড়ুয়াকে ডাক্তার সাজিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল রক্তদান শিবিরে। তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পদ্মপুকুরের হেলথ পয়েন্ট ব্লাড ব্যাঙ্কের পর এবার যোধপুর পার্কের অশোক ব্লাড ব্যাঙ্ক। দক্ষিণ কলকাতার আরও একটি ব্লাড ব্যাঙ্ক সম্পর্কে সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, ৬ মাসে বিহার ও উত্তরপ্রদেশে ২ কোটি টাকার রক্ত বিক্রি করেছে এই ব্লাড ব্যাঙ্ক। SSKM-এর দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়াদের ডাক্তার সাজিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল রক্তদান শিবিরে। ঘটনার জেরে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত, রক্তদান শিবির থেকে রক্ত সংগ্রহে যোধপুর পার্কের অশোক ব্লাড ব্যাঙ্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্বাস্থ্য দফতর।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, বিহার ও উত্তরপ্রদেশে যে ২ কোটি টাকার রক্ত বিক্রি করেছে এই ব্লাড ব্যাঙ্ক, তার মধ্যে রয়েছে ৩২৬২ ইউনিট লোহিত কণিকা। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৩৩ লক্ষ টাকা। ৫ টি বহুজাতিক সংস্থাকে বিক্রি করা হয়েছে প্রায় ৩ হাজার লিটার প্লাজমা, যার বাজার মূল্য প্রায় ১ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা। স্বাস্থ্য দফতরের তদন্তে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে খবর, ব্লাড ব্যাঙ্কের তরফে আয়োজন করা রক্তদান শিবিরে চিকিৎসক পরিচয়ে যাঁদেরকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তাঁরা সকলেই MBBS পড়ুয়া। SSKM-এর দ্বিতীয় বর্ষের কয়েকজন পড়ুয়াকেও ডাক্তার সাজিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল রক্তদান শিবিরে।
