কলকাতা : ভোটে ভরাডুবির পর একুশে জুলাই আক্ষরিক অর্থেই অন্য়রকম। প্রত্যেক বছর গোটা রাজ্য থেকে ট্রেনে চড়ে তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা কলকাতার সমাবেশে যোগ দিতে আসেন। হাওড়া স্টেশনে থাকে উপচে পড়া ভিড়। তবে এবার সেই ছবি উধাও। কার্যত খাঁ খাঁ করছে হাওড়া স্টেশন ও ফেরিঘাট চত্বর। নেই তৃণমূলের কোনও পতাকা।
১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই পুলিশের গুলিতে মৃত যুব কংগ্রেস কর্মীদের পরিবার আজ কোন মঞ্চে থাকবেন? একুশে জুলাইয়ের সকালেও তা পরিষ্কার নয়। যেখানে শহিদ-স্মরণ হবে, নাচ-গান হবে না, সেই সমাবেশে যাবেন বলে জানালেন কেশপুরের ‘শহিদ’ আব্দুল খালেকের পরিবার।
একুশে জুলাইয়ের সমাবেশে যোগ দিচ্ছেন না। জানিয়ে দিল একুশে জুলাইয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত বিশ্বনাথ রায়ের পরিবার। গতকালই মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের আমলে তৈরি কমিশনের রিপোর্ট সামনে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিহত বিশ্বনাথ রায়ের স্ত্রী মিতালি রায় ও ছেলে রাজীব রায়, দুজনেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। রাজীব রায় তাঁর বাবার স্মরণে তৈরি শহিদ বেদিতে দেওয়া কালীঘাট-তৃণমূলের মালাও খুলে ফেলেন তিনি। তারপর শহিদ-বেদির শুদ্ধিকরণ করেন তিনি। দেখা যায়, তাঁর হাতে জুতোর মালা। বলছেন, উনি চোরের রানি, জুতোর মালাই প্রাপ্য। তৎকালীন স্বরাষ্ট্র সচিব মণীশ গুপ্ত ও মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের বিরুদ্ধে FIR করবেন বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।
এবার ২১ জুলাই শহিদ স্মরণ অন্যান্যবারের তুলনায় অনেকটাই অন্যরকম। এক একুশে জুলাই, দাবিদার চার পক্ষ। মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির সামনে কর্মসূচি পালন করছে ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’ শিবির। অন্যদিকে, আদালতের নির্দেশে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে ক্যাথিড্রাল রোডে শহিদ সমাবেশের আয়োজন করেছে কালীঘাট-তৃণমূল। শহিদ মিনারে এবার বড় করে ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি করছে কংগ্রেসও। অন্যদিকে, দিল্লিতে ‘শহিদ তর্পণ’ করছে বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা। দিল্লির রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিস্থলে শহিদ দিবস পালন করবেন NCPI সাংসদরা।
(স্টোরিটি এই মুহূর্তে ব্রেক করা হয়েছে, আপডেট করা হচ্ছে I সাম্প্রতিকতম আপডেট পেতে রিফ্রেশ করুন)
