কলকাতা: রাজ্যের হাসপাতালের হাল-হকিকত দেখতে ফের সক্রিয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় (Sharadwat Mukherjee)। এবার আচমকা আর জি কর হাসপাতাল (RG Kar Hospital) পরিদর্শনে গেলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। আর জি কর হাসপাতালের এমার্জেন্সি বিল্ডিংয়ে আবর্জনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।
অবশ্য আর জি কর হাসপাতালের এমার্জেন্সি বিল্ডিংয়ে আবর্জনা নিয়েই শুধু নয়, ডায়াগনসিস সেন্টারে ডাক্তার না থাকা, হাসপাতালের কর্মীদের আইকার্ড না থাকা নিয়েও ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এর পাশাপাশি ইউরোলজি ওয়ার্ড, শিশুশল্য বিভাগ, চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।
আর জি কর হাসপাতাল পরিদর্শনের ফাঁকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘পেডিয়াট্রিক্স ওয়ার্ড পরিচ্ছন্ন। তবে বেড কম। যা দেখে আমি খুশি নই। বলা হয়েছে। ওদের কাছে রেফার খুব কমে গিয়েছে। এটা ভাল জিনিস। আমরা দেখছি। মুখের কথায় চলব না। পেডিয়াট্রিক্সের অকুপেন্সি ৪০ শতাংশ মতো। যেটা আমার একটু অবাক লেগেছে।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত আরও বলেন, ‘প্রিমিয়ার টিচিং হসপিটাল এটা। ওরা বলেছে বিগত এক-দেড় মাসে রেফার কমে গিয়েছে। আমি শিক্ষার জন্য, যেগুলো স্পেশাল হয় বাচ্চাদের পড়ানো, পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজি, নেফ্রোলজি, পেডিয়াট্রিক রিউমাটোলজি যেগুলো খুব ইন্টারেস্টিং সাবজেক্ট ডাক্তারি চিকিৎসায় ও পড়ুয়াদের জন্য। তাঁদের আমি বলেছি যদি ভর্তি দরকার না হয়, শিক্ষার জন্য তাঁদের ভর্তি করা। বেড অকুপেন্সি কমপক্ষে ৬০ শতাংশের বেশি রাখা উচিত। অবশ্য আমরা তো টেনে এনে ভর্তি করতে পারব না। দেখা হচ্ছে বিষয়টা।’
গত ৯ জুলাই আচমকা বারাসত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী। জরুরি বিভাগ, প্রসূতি বিভাগ থেকে শুরু করে হাসপাতালের নানা স্থান ঘুরে দেখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। আর সেবার পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা ওয়ার্ড মাস্টারকে শোকজ করার নির্দেশও দিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
বারাসত হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে দালালচক্রের সক্রিয়তা নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত। তিনি জানান, এই দালালচক্র রুখতে নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বাথ্যমন্ত্রী শারদ্বতের কথায়, ‘হাসপাতালের কর্মী, নার্স, রোগী ও রোগীর আত্মীয়দের হাতে বিশেষ ব্যান্ড থাকবে। যাতে তাঁদের পরিচয় সহজেই চিহ্নিত করা যায়। এই ব্যান্ড ছাড়া কাউকে হাসপাতালে দেখতে পাওয়া গেলে তাঁকে দালাল হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। আর তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
