কলকাতা: অধিবেশন শুরুর আগেই তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। দিল্লিতে বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে সাক্ষাৎও করেছেন তিনি। সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকের মতো তিনিও বিজেপি-তে যাবেন কি না, সেই নিয়ে এই মুহূর্তে জল্পনা তুঙ্গে। আর সেই পরিস্থিতিতেই মুখ খুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানালেন, আগেই ইমেলে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছিলেন কোয়েল। পাশাপাশি, যে বা যাঁরা বেরিয়ে যেতে ইচ্ছুক, ২১ জুলাইয়ের আগেই সকলে চলে যেতে পারেন বলে এদিন মন্তব্য করেন মমতা। (Mamata Banerjee on Koel Mallick Resignation)
রথযাত্রার শুভেচ্ছা জানিয়ে বৃহস্পতিবার ভিডিও বার্তা শুরু করেন মমতা। আর তার পরই কোয়েলের পদত্যাগ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। বলেন, “আজ আর একজন সাংসদ, তিনি ভাল শিল্পী, আমি তাঁকে সম্মান করি…বিজেপি-র কোনও একটা নেতার সঙ্গে মিটিং করে রিজাইন করতে গিয়েছেন তিনি। আপনাদের জ্ঞাতার্থে বলি, উনি আগেই ইমেল পাঠিয়েছিলেন। থ্যাঙ্কস টু হার। আজ ফিজিক্যালি জমা দিতে গিয়েছেন।” (TMC News)
আরও পড়ুন: ‘যাঁর যাঁর যাওয়ার আছে, ২১ জুলাইয়ের আগে চলে যান’, কোয়েলের পদত্যাগে আর কী বললেন মমতা?
একদিন আগেই মদন মিত্র ‘কালীঘাট তৃণমূল’ ছেড়ে ‘ঋতব্রত তৃণমূলে’ গিয়েছেন। আজ ইস্তফা দিয়েছেন মণীশ গুপ্তও। তার পরই ইস্তফা দিলেন কোয়েল। তবে মমতার বক্তব্য, “যাঁদের যাঁদের যাওয়ার আছে, বিজেপি-র চাপে বা পুলিশের চাপে, মাথানত করার চাপে বা মামলার চাপে, ইডি-সিবিআই-সিআইডি-র চাপে বা আইসি-ওসির চাপে, তাঁদের অনুরোধ করব, ২১ জুলাইয়ের আগে দয়া করে যাঁর যআ সিদ্ধান্ত নেওয়ার, যাঁরা যাঁরা বাঁচতে চান, লোটা-কম্বল নিয়ে যেখানে ইচ্ছে যান বিজেপি-র কথা কথা শুনে। আমরা যে দলটি তৈরি করেছি, তাকে কলঙ্কলিপ্ত করবেন না।”
আরও পড়ুন: তৃণমূলের সাংসদ পদ ছাড়লেন কোয়েল মল্লিকও, এবার কোন পথে?
আরও একধাপ এগিয়ে মমতা বলেন, “আজ যাঁরা যাচ্ছেন, তাঁরা কিন্তু গোপনে আমাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন। কেউ কেউ ভয় সহ্য করতে পারে না। কেউ আত্মরক্ষা করতে পারে, কেউ পারে না। আমরা মাথা নীচু করে চলি না বলেই ফেস করতে হচ্ছে। ফেস করতে না শিখি যদি, বাংলাকে, দেশকে যদি ভালবাসতে না শিখি, মানুষের রায়কে যদি সম্মান না জানাই, তাহলে আত্মগ্লানিতে ভুগব। যা করেছেন, ভাল করেছেন। ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন, পরিবার ভাল থাক। ২১ জুলাই নতুন করে পথ চলা শুরু হবে। তাতে কে এল, কে না এল. কিছু যায় আসে না। যারা থাকবে, তারাই স্বর্ণখনি। আগামীতে নতুন করে পথ চলা শুরু হবে। ১৯৯৭ সালে যদি নতুন করে পথ চলতে পারি, ২০২৬ সালেও পারব। অনেক ছলনা করেছে…নাম-নিশান কোনওটাই নাকি রাখবে না! আপনারা ভাল থাকুন, নিজেদের রক্ষা করুন, দিল্লিটা আগে রক্ষা করুন, তবে তো পারবেন! দিল্লির মদতে যা ইচ্ছে তাই করে যাচ্ছে। মনে রাখুন, যতই জোর করে সাংসদ কিনুক বা বেচুক, আগামী দিনে…আমরা দেশের সঙ্কট চাই না। কিন্তু অর্থনীতিবিদরাই বলছেন, মানুষ বলছেন। অনেক নাম বদলেছে, সিম্বল বদলেছে। ক্ষমতার জোরে নাম চেঞ্জ করতে পারেন, ভিসন, মিশন শেষ করতে পারেন না।”
