Prosenjit Chatterjee: ‘…, বিশ্বাস করুন’, নবান্ন থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে রাজনীতি নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে কী বললেন প্রসেনজিৎ?
কলকাতা: নবান্নে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তারপর নবান্ন থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন তিনি। তিনি বললেন, “১০ মিনিটের জন্য কিছু কথা হয়েছে। আজ আমি ৪০ বছর কাজ করছি। কিছু কিছু জিনিস আমারও দরকার হয়, আমার টিমের দরকার হয়। উনি মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী উনার কাছে এসে বলা, যাতে ওইটুকু সুযোগ সুবিধে আমরা আমরা পাই, যা আমরা গত ৪৫ বছর ধরে পেয়ে এসেছি। আমি বাইরে যাই একলা একলা অনেক সময় কাজ করতে। সেখানে আমার কিছু কিছু জিনিস প্রয়োজন হয়। আমি মনে করি এই চেয়ারটার সম্মান রয়েছে। যে কারণে আমার নিজে এসে ওঁকে সেই বিষয়ে বলা দরকার বা তাঁকে অনুরোধ করা দরকার। আর অবশ্যই যখন বসে গল্প করেছি কিছুক্ষণ, কফিও খেয়েছি। আর নানাবিধ কথা, ইন্ডাস্ট্রির কথা হয়েছে। আমরা ভবিষ্যতে ভাল কাজ করতে পারি সেই বিষয়েও কথা বলেন উনি। সামনেই মহানায়ক উত্তম কুমারের ১০০ বছর। সেই জন্য আমাদের একটা বিরাট অনুষ্ঠান করা দরকার যাতে সারা দেশের মানুষ সেটা মনে রাখেন। এর বাইরে আমাদের কোন কথা হয়নি।”
আরও পড়ুন: বিজেপিতে যোগ দিয়েই রাজ্যসভার নির্বাচনে প্রার্থী হলেন ৩ প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ
প্রসেনজিত চট্টোপাধ্যায় আরও বলেন যে কোনও ধরনের রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি। তিনি বলেন, “আমার মনে হয় পশ্চিমবাংলার মানুষরা এইটুকু বিশ্বাস করুক যে, আমার সঙ্গে কারও কোন রাজনৈতিক কথা বা আলোচনা সেদিনও হয়নি আজও হয়নি। যেটা হয়েছে আমাদের কথা, আমাদের ইন্ডাস্ট্রির কথা, পশ্চিমবাংলা বিশেষ করে মহানায়ক উত্তম জেঠুর ১০০ বছর নিয়ে যে পরিকল্পনা, সেটা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। কারণ উত্তম জেঠু শুধু আমার নয়, সব বাঙালির ইমোশন। আমি মনে করি শুধু পশ্চিমবাংলারও নয়, সারা ভারতবর্ষেরও বলব না, আমরা এই একই ভাবে উত্তম জেঠুর ২০০ বছরও পালন করব। এই সব নিয়েই আলোচনা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “অনেকেই বলছেন আমি হোয়াটসঅ্যাপে দেখছি। বিশ্বাস করুন, তিনি মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী। আমাদের অনেক কথা থাকে, আমাদের অনেক প্রয়োজন থাকে, আমাদের নিজস্ব সুবিধা বা অসুবিধা থাকে, সেই কথাগুলো বলার জন্যই আসা।”
তবে কি কোনও দায়িত্ব নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে তাঁকে? জবাবে প্রসেনজিৎ বলেন, “সরকারি কোনও দায়িত্ব, যেটা আপনারা বলছেন, এমন কোনও কথা আমি এখন বলতে পারব না। কারণ, এই সব নিয়ে প্রথমত এখনও কোনও আলোচনা হয়নি। কিন্তু নিশ্চয় উনি যদি মনে করেন, যে কোনও কমিটিতে আমি থাকলে বা আমার কোনও পরামর্শের জন্য যদি আমাকে ডাকেন, যেখানে আমার ইন্ডাস্ট্রির জন্য ভাল হয়, বেটার হয় তাহলে আমি কেন আসব না? সবাই জানেন যে আমি আমার ইন্ডাস্ট্রির জন্য সব সময়, রাত দুটোর সময় ডাকলেও আমি আমি দাঁড়াব। কারণ ওটা আমার জায়গা।”
তিনি আরও বলেন, ” চলচ্চিত্রের জন্য কোনও বিনিয়োগ বা ওই ধরনের কিছু নিয়ে কোনও আলোচনা এখনই হয়নি। তবে, আমি আশা রাখছি যে এই সব কিছুই আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে একটু একটু করে এগোবে। কিন্তু আলোচনা যাই হয়েছে সেটা সিনেমা নিয়ে হয়েছে। বেশি আলোচনা হয়েছে মহানায়ক উত্তম কুমারকে নিয়ে হয়েছে। ২৪ জুলাই আমরা জানি ওঁর মৃত্যুদিন। আর জন্মদিন, অর্থাৎ ৩ সেপ্টেম্বর তারিখটা আমাদের জন্য আরও বড়। আমরা আর্টিস্ট, আর্টিস্ট ফোরাম এই শতবর্ষটাকে যাপন করতে চাই।”
তিনি আবারও বলেন রাজনীতিতে আসা নিয়ে কোনও আলোচনাই হয়নি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “রাজনীতিতে আসা নিয়ে কোনও আলোচনাই হয়নি, বিশ্বাস করুন। আমি কতবার বলব? এই কথাটা আমি কোটিবার বলে ফেলেছি। আমার সঙ্গে কেউ কথা বলা মানেই যে তাঁরা সব সময় আমাকে রাজনীতির কথা বলেন, তা নয়। আপনারা কেন বোঝেন না যে আমি আগেও বারবার বলেছি যে আমি যদি ভাবি যে রাজনীতিতে আসব, তাহলে সব থেকে আগে আপনাদের ডেকে বলব যে, আমি রাজনীতিতে আসছি। কিন্তু মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তো রাখতে হবে। আমরা তো এমন একটা প্রফেশনে আছি যেখানে আমার একটা সম্পর্ক রাখা, আমার নিজের কিছু ব্যক্তিগত প্রয়োজন আছে, যেটা সিস্টেমের এর মধ্যে পড়ে এবং আমার মনে হয় সেই চেয়ারটাকে সম্মান দিয়ে আজকে আমার আসা। আমার সঙ্গে রাজনীতি নিয়ে কোন আলোচনা হয়নি।”
Chingrighata Flyover: শুক্র রাত ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সম্পূর্ণ বন্ধ চিংড়িঘাটা উড়ালপুল
