Abhishek Banerjee: বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলে নিয়ে আসা হত, আয়ুর্বেদিক, হোমিওপ্যাথি, ডেন্টাল পড়ুয়াকে! ‘সেবাশ্রয়’ নিয়ে ভয়াবহ অভিযোগ
কলকাতা: বলা হয়েছিল বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা থাকবেন। কিন্তু অভিযোগ, যাঁরা এসেছিলেন, তাঁরা আয়ুর্বেদিক, হোমিওপ্যাথি ও ডেন্টালের পড়ুয়া। প্রায় ৯০ শতাংশই এমন ছিলেন। এবিপি আনন্দে এমনই মারাত্মক অভিযোগ করলেন ‘সেবাশ্রয়’-এর কো অর্ডিনেটরের দায়িত্বে থাকা সরকারি চিকিৎসক।
সেবাশ্রয়’-এর নামে ঘুরিয়ে কোটি কোটি টাকা স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের মধ্যে দিয়ে তুলে নেওয়া হয়েছে। এমনই মারাত্মক অভিযোগ সামনে এনেছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সেবাশ্রয়’-এর কো অর্ডিনেটরের দায়িত্বে থাকা সরকারি চিকিৎসক মনবুর আলি। তবে এখানেই শেষ নয়। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে আরও অভিযোগ রয়েছে। অতীতে প্রায় দুই আড়াই মাস ধরে চলা এই ‘সেবাশ্রয়’, ‘সেবাশ্রয় ২’ মেডিক্যাল ক্যাম্পে হাজার হাজার মানুষ চিকিৎসা করাতে গেছেন। কেউ হৃদযন্ত্রের অসুবিধা নিয়ে গেছেন! কেউ বিভিন্ন স্ত্রীরোগ নিয়ে গেছেন! কেউ আবার চোখ দেখাতে গেছেন! কিন্তু সেই সেবাশ্রয়েরই কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব পালন করা সরকারি চিকিৎসক বলছেন, রোগীদের সঙ্গে কার্যত প্রতারণা করা হয়েছে। কারণ গলায় স্টেথো ঝুলিয়ে যারা প্রতিদিন ক্যাম্পে বসে সকাল-সন্ধে চিকিৎসা করেছেন, তাদের মধ্য়ে প্রায় ৯০ শতাংশই পাস করা ডাক্তার নন।
বিশেষজ্ঞ বলে নিয়ে আসা হত আয়ুর্বেদিক, হোমিওপ্যাথি, ডেন্টাল পড়ুয়াকে! ‘সেবাশ্রয়’-এর ভয়াবহ সত্যি!
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বদলে কার্যত ডাক্তারি ছাত্রদের এনে চিকিৎসার পাশাপাশি বিনামূল্যে চিকিৎসা শিবিরের আড়ালে ঘুরিয়ে ‘স্বাস্থ্যসাথী’ থেকে কোটি কোটি টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ‘সেবাশ্রয়’ এবং ‘সেবাশ্রয় ২’-এর চিকিৎসক ও কো-অর্ডিনেটর মনবুর আলি বলছেন, ‘ক্যাম্পে বেশিরভাগ ডাক্তার যারা আসছিল, তারা আয়ুর্বেদিক, হোমিওপ্যাথি, ডেন্টাল। ম্যাক্সিমাম স্টুডেন্ট। আয়ুর্বেদিক স্টুডেন্ট, হোমিওপ্যাথি স্টুডেন্ট। যারা আসত তার মধ্যে অধিকাংশ স্টুডেন্ট ছিল আয়ুর্বেদিক। পাস করা আয়ুর্বেদিক খুব কমই ছিল। কয়েকজন। ম্যাক্সিমামই সব স্টুডেন্ট ছিল। সেটা সম্পূর্ণভাবে বেআইনি। এভাবে মানুষকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলাটা একদম অপরাধযোগ্য।’
অভিযোগকারী নিজে একজন সরকারি চিকিৎসক! অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেবাশ্রয় কর্মসূচিতে কো অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর দাবি, খুব কাজ থেকে দেখেছেন কী করে সরকারি প্রকল্পের টাকার নয়ছয় হয়েছে! তবে প্রশ্ন হচ্ছে, সব জেনেশুনেও কেন চুপ করেছিলেন তিনি? মনবুর বলছেন, ‘আমি তো প্রথমে চিকিৎসক হিসেবে ক্যাম্পে এসেছিলাম। তারপর ক্যাম্পে করতে করতে আমাকে দায়িত্ব । ক্যাম্পটা করেছিল অভিষেক ব্যানার্জি। তাঁর সঙ্গে ৪-৫ জন ডাক্তার যোগাযোগে ছিল। ক্যাম্পটা আয়োজন করেছিল। তাদের কাছে আমি অনেকবার বলার চেষ্টা করেছি, তাঁরা সেইভাবে আমাকে পাত্তা দেয়নি। সেইজন্য নিজের মতো করে আমি ডিউটি করেছি, ক্যাম্প করেছি। নিজেকে আমি চুপচাপ রেখেছিলাম। কারণ তখন একটা অন্যরকম ব্যাপার ছিল। মুখ খুললে হয়তো শাস্তি পেতে হত। যদি মুখ খুলতাম তাহলে হয়তো আমার বিপদ হত।’ তদন্তে শেষ অবধি কী বেরিয়ে আসে সেটাই দেখার।
Abhishek Banerjee | বারবার আদালতে ধাক্কা, DJ মামলায় আরও বিপাকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়
